Alexa ১৪ বছর পর চাকরি ফিরে পেলেন অধ্যক্ষ

১৪ বছর পর চাকরি ফিরে পেলেন অধ্যক্ষ

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৪৩ ২০ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

আইনি লড়াইয়ের দীর্ঘ ১৪ বছর পর চাকরি ফিরে পেলেন বাগেরহাটের শরণখোলার মাতৃভাষা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে ২০০৭ সালে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে যশোর শিক্ষা বোর্ডে আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে ২০১০ সালে স্ব-পদে বহালের নিদেশ দেয় বোর্ড কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের ওই আদেশ বহাল রেখে গত ১৫ জানুয়ারি অধ্যক্ষের পক্ষে রায় প্রদান করেছেন হাইকোট।

মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তালুকদার জানান, তিনি নিজে কলেজের জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা। 

চারদলীয় জোট সরকারের জামায়াতের এমপি মুফতি মাওলানা আব্দুস সাত্তারের প্রভাব খাটিয়ে জামায়াত নেতা মাওলানা মতিউর রহমান মতিন মাতৃভাষা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার জন্য ২০০৩ সাল থেকে ষড়যন্ত্র করেন। সেই থেকে মাওলানা মতিন বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের টিউশন ফি-র ১৩ হাজার ৯২০ টাকা, বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ৫০ হাজার টাকা ও উপবৃত্তির এক হাজার ৪৪০ টাকা আত্মসাতসহ বাগেরহাট আদালতে ছয়টি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করেন।  

আদালতে অর্থ আত্মসাতের সবক’টি মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এসব মামলার রায়ের প্রমাণাদিসহ বোর্ডে আবেদন করলে বোর্ড তা যাচাই-বাছাই ও একাধিক তদন্তের পর ২০১০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তাকে স্ব-পদে পুনর্বহালের আদেশ দিলে তাকে কলেজে যোগদান করতে দেয়া হয়নি।

বাদী বোর্ডে ওই আদেশ এবং নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিলের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১০ সালের ১৭ ফ্রেুয়ারির বোর্ডের আদেশ, ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর এবং ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি বাগেরহাট সাব জজের (১ম) রায় ও ডিক্রি বহাল রেখে হাইকোর্টের বিচারপতি আশিষ রঞ্জন দাসের একক বেঞ্চ অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের পক্ষে রায় দেন। 

অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, ২০০৮ সালে জামায়াতিরা আমার কাছ থেকে জোর করে ইস্তফাপত্র নিয়ে কলেজ থেকে বের করে দিয়েছে। ১৪ বছর পর রায় পেয়েছি। কিন্তু এখনো আমার বিরুদ্ধে বাদী ও তার লোকজন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। আমি যাতে কলেজে যোগদান করতে না পারি সেই অপচেষ্টা করছেন তারা। 

এ ব্যাপারে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো ওলিয়ার রহমান বলেন, নজরুল ইসলাম হাই কোর্টের রায় পেলে আমি তাকে স্বাগত জানাই। তার অনুপস্থিতিতে আমি দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিলে আমার কোনো সমস্যা নেই।

শরণখোলার ইউএনও সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, এ বিষয়ে এখনো কাগজপত্র আসেনি। এলে অধ্যক্ষের যোগদানের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ