Alexa ১২০০ এতিম শিশুর সেবায় যিনি বড় চাকরি ছেড়েছেন

১২০০ এতিম শিশুর সেবায় যিনি বড় চাকরি ছেড়েছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৩৪ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১২:৪৮ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

তার হাসিমাখা মুখ। আশপাশে ছোটো ছোটো ছেলে-মেয়ে। পাঞ্জাবি-টুপি পরিহিত একজন বিশাল হাড়িতে রান্না করছেন। এমনই ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। 

বলা হচ্ছে, ইউটিউব চ্যানেল ‘নবাব কিচেন ফুড ফর অল অরুফান' এর খাজা মইনুদ্দিনের কথা। ১২০০ এতিম শিশুই এই নওয়াব কিচেনের বাসিন্দা।

মূলত খাজা মইনুদ্দিন সাংবাদিকতা করতেন। তেলেগুর এই প্রাক্তন সাংবাদিক এমবিএ শেষ করে ইটিভি ও এবিএন এর মতো প্রতিষ্ঠানে ১৩ বছর কাজ করেছেন। অবশেষে শুধু এতিম শিশুদের জন্য ছেড়েছেন চাকরি। তাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রান্না করে তিনি খাওয়ান। ৩৯ বছর বয়স্ক এই মানুষটি খাবার নিয়ে ইউটিউবে এখন পর্যন্ত ২২০টি ভিডিও শেয়ার করেছেন। আর তার সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়েছে।

তিনি ২০১৭ সালে ইউটউবে একটি খাবারের চ্যানেল খোলেন। শুরু থেকেই মইনুদ্দিন তার রান্নার জন্য জনপ্রিয়। কারণ নানা ধরনের রান্নার উপকরণ দিয়ে বড় বড় কড়াই বা পাতালে কেউ আগে কখনো রান্না দেখায়নি।

প্রথমে তিনি রান্না করার পর আশেপাশে যে বাচ্চারা থাকত তাদেরকেই খাবারগুলো খেতে দিত। কিন্তু আস্তে আস্তে মইনুদ্দিনের মাথায় আসলো রান্নার পরিমাণটি যদি বাড়িয়ে দেন তাহলে এতিম শিশুদের খাবারের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। প্রতিমাসে বিভিন্ন এতিমখানা থেকে প্রায় ১২০০ জন এতিম শিশু এই খাবার খেতে শুরু করে। পরে এটা ছড়িয়ে গেলে অনেক রাস্তার শিশুরাও এই খাবার খেতে শুরু করে।

ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর এতিম শিশুদের জন্য মইনুদ্দিন প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনটি খাবার রান্না করেন। তবে কিছুদিন শুটিং করার পর তাদের জমানো সব টাকা শেষ হয়ে যায়। এর মধ্যে অনেকের কাছে চ্যানেলটি খুব জনপ্রিয় হয়ে যায়। তারা আরো ভিডিওর আবেদন করতে থাকে।

এর মধ্যে কিছু ভিউয়ার তাদের অর্থায়ন দেয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখায়। ওই ১৮ জনের এমন ইতিবাচক আগ্রহ দেখে তারা আবার শুটিং শুরু করে। ‘নবাব কিচেন ফুড ফর অল অরফান’ চ্যানেলটি প্রথমে ভাইরাল হয় ‘পেন কেক’ তৈরির ভিডিও দিয়ে। কেকটি কাঠ পোড়ানো চুলাতে তৈরি করা হয়েছিল।

সম্প্রতি মইনুদ্দিন ২৫ কেজি ওজনের একটা ‘ব্ল্যাক ফরেস্ট ‘ কেক বানিয়েছেন। ভিডিওটা বানাতে তাদের দলের সময় লেগেছে পুরো ৫ ঘণ্টা। মইনুদ্দিন বলেছেন, এই ভিডিওটি তখনই সার্থক হয়েছে, যখন তিনি এতিম শিশুদের মুখে হাসি দেখেছেন। সূত্র- দি বেটার টাইম

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর