১০ লাখ টাকা না দেয়ায় লিবিয়ায় লাশ হলেন ফরিদপুরের কামরুল

১০ লাখ টাকা না দেয়ায় লিবিয়ায় লাশ হলেন ফরিদপুরের কামরুল

ফরিদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৪১ ৩০ মে ২০২০  

লিবিয়ায় গুলিতে নিহত ফরিদপুরের কামরুল

লিবিয়ায় গুলিতে নিহত ফরিদপুরের কামরুল

লিবিয়ায় গুলিতে নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউপির আলমপুর গ্রামের কবির শেখের ছেলে মো. কামরুল ইসলাম শেখ রয়েছেন। 

একটু সচ্ছলতার আশায় দরিদ্র বাবা জমি বিক্রি করে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু মানব পাচারকারী চক্রের দাবি মতো চাঁদার টাকা না দেয়ায় অন্যদের সঙ্গে তাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়। 

আলমপুর গ্রামের কবির শেখের ছেলে কামরুল ইসলামের স্ত্রী ও দুই বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। কামরুলের মৃত্যুর খবর জানতে পেরে তার পরিবারে চলছে এখন শোকের মাতম। উপার্জনক্ষম কামরুলকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। 

বাবা কবির শেখ কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, গত ডিসেম্বর মাসে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার গোয়ালা গ্রামের আব্দুর রবের মাধ্যমে সাড়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে কামরুলকে বিদেশ পাঠায় তার পরিবার। এরপর সে ভারত ও দুবাই হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছে। 

তিনি বলেন, সংসারে অভাব অনটন লেগে থাকতো। একটু সুখের আশায় দালালের কথা মতো সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ও জমি বিক্রি করে সাড়ে চার লাখ টাকা জোগাড় করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম।

কামরুলের বড় ভাই ফারুক শেখ বলেন, লিবিয়ায় পৌঁছার পর দালাল চক্র তাকে অন্যদের সঙ্গে একটি শহরে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করে। এরপর মোবাইল ফোনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কামরুলকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। নইলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা।

ভাইয়ের জীবনের কথা ভেবে টাকা দিতে এই টাকা তারা ধার দেনা করে দিতে রাজিও হয়েছিলাম। কিন্তু সেই টাকা পাঠানোর আগেই মিজদা শহরে কামরুলসহ ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার খবর পেলাম আমরা।

সালথার ইউএনও হাসিব সরকার বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি আমরা। আইনি প্রক্রিয়া শেষে কামরুলের লাশ দ্রুত দেশে আনার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ করা হবে। 

তিনি আরো বলেন, যে দালাল চক্রের দ্বারা এমন ঘটনা ঘটেছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ