১০ মিনিটের শিলাবৃষ্টিতে সব শেষ!

১০ মিনিটের শিলাবৃষ্টিতে সব শেষ!

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:১৮ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৯:৫৪ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় প্রায় আড়াই কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বুধবার রাতে শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন উপজেলার শতাধিক কৃষক পরিবার।  

এ বছর উপজেলায় চাল কুমড়া, মিষ্টি লাউ, করলাসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেছিলেন কৃষকরা। অসময়ের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

গতকাল রাতে প্রায় ১০ মিনিটের ভারী বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টিতে এরই মধ্যে নষ্ট হয়েছে লাউ, টমেটো, করলাসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। আর তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সবজিতে পচন ধরে। ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষক শাহ আলম বলেন, বাজারে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশ হয়ে এবছর লাভের আশায় পাঁচ একর জমিতে সাড়ে ১২ লাখ টাকা খরচ করে চাল কুমড়া, মিষ্টি লাউ, করলাসহ আবাদ করি। শিলাবৃষ্টিতে সব শেষ। এখন পথে বসে গেলাম।

শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন শতাধিক কৃষক পরিবার

অপর কৃষক ইদ্রিস আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার আশা স্বপ্ন সব শেষ হয়ে গেল রে ভাই এখন কেমনে চলবো’।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, নলছাপ্রা, কুয়ারপুর, বেলুয়াতলি এলাকায় স্থানীয় এমপি মানু মজুমদার এর আর্থিক সহযোগীতায় ২৫ কৃষি পরিবার শতাধিক একর জমিতে রবিশস্য চাষাবাদ করেন। আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তারা।

শিলা নিয়ে খেলছে নারী ও শিশুরা

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, উপজেলায় শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নাজিরপুর ইউপির নলছাপ্রা,কুয়ারপুর, বেলুয়াতলি, রহিমপুর, রামপুরসহ প্রায় ৭০ জন কৃষক। ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মাঠে  জরিপের কাজ চলছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন পরিদর্শন করতে গেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল খালেক তালুকদার বলেন, আমার বয়সে এরকম শিলাবৃষ্টি আর দেখিনি।  

শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/এম