Alexa হুমকির মুখে ঢাকা-পটুয়াখালী নৌরুট

হুমকির মুখে ঢাকা-পটুয়াখালী নৌরুট

বিলাস দাস,পটুয়াখালী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৩১ ১২ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

শুষ্ক মৌসুম শুরু না হতেই ঢাকা-পটুয়াখালীসহ জেলার অভ্যন্তরীণ ১২টি নৌরুটে নাব্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে কয়েকটি পয়েন্ট বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে যাত্রীরা যেমন গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন না,তেমনি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এখানকার কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা।

এসব রুটের নৌযানগুলোও নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে নানা পারায় বাড়ছে ভোগান্তি। ফলে জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে নৌযানগুলোর। নদী খনন কাজ চললেও তা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ। পরিকল্পনা ছাড়াই চলছে নদী খনন। 

পটুয়াখালী জেলার অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি ছোট-বড় নদীর ১২টি রুটে ৬৫ ফুটের নিচের ১২টি লঞ্চ নিয়মিত যাত্রী বহন করছে। এসব রুটগুলো হলো পটুয়াখালী-কোড়ালিয়া ভায়া গলাচিপা, বাবলাতলা বাজার-গলাচিপা, পটুয়াখালী-বাহেরচর ভায়া গলাচিপা, খেপুপাড়া-নিজকাটা, কেশবপুর-পটুয়াখালী, পটুয়াখালী-ভোলাটার্মিনাল ভায়া কালিশুড়ি, কনকদিয়া-পটুয়াখালী, চরমোন্তাজ-গলাচিপা, চরমোন্তাজ-উলানিয়া ভায়া চরকাজল, নিজকাটা-গলাচিপা, উলানিয়া টলারঘাট-গইনখালী এবং কোড়ালিয়া-বোয়ালিয়া স্লুইসগেট। এ ছাড়া পটুয়াখালী-বগা-চরগরবদি-ফতুল্লা-ঢাকা রুটে চলাচল করছে ডাবল ডেকারের ১০ থেকে ১২টি যাত্রীবাহী লঞ্চ। 

পটুয়াখালী জেলার ইতিহাস থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ৮মাইল দৈর্ঘ্যের লাউকাঠি নদীতে অন্তত ৫টি, ১২মাইল দৈর্ঘ্যের আন্ধারমানিক নদীতে অন্তত ৭টি, ৩০ মাইল দৈর্ঘ্যের লোহালিয়া নদীতে ২০টি, ৩৫মাইল দৈর্ঘ্যের তেঁতুলিয়া নদীতে অন্তত ২৫টি ডুবোচর আছে।

পটুয়াখালী-ঢাকা রুটের কুয়াকাটা-০৯ লঞ্চের সুপার ভাইজার ইউনুচ হোসাইন জানান,পটুয়াখালী লঞ্চঘাটের মূল পয়েন্ট,লোহালিয়া ও লাউকাঠি নদীর একাধিক স্থান, পালেরডাঙ্গা, ঝিলনা, কবাই, তাপালকাঠি, শশীর মোড়, কারখানাসহ একাধিক পয়েন্টে নাব্য সংকট চরম আকারে ধারণ করছে। জোয়ারের সময় এসব স্থানগুলোতে লঞ্চ যাতায়াত করলেও ভাটার সময় যাত্রী-মালামাল নিয়ে লঞ্চ অতিক্রম করা যায় না। এসব স্থানে মাঝে মধ্যে দুই থেকে আড়াই মিটার পর্যন্ত পানি থাকে। ফলে লঞ্চ আটকে যাওয়ার কারণে যাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। নদী খনন হলেও তা সঠিকভাবে হচ্ছেনা। 

প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের মাস্টার ইসরাফিল জানায়, গত ৯ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে পটুয়াখালীর কারখানা নদীতে এমভি জামাল-৫ ও এমভি আওলাদ-৭ অন্তত চার হাজার যাত্রী নিয়ে আটকা পড়ে। রাত ১০টার দিকে জোয়ারের পানি বাড়লে লঞ্চ দুইটি ডুবোচর থেকে মুক্তি পায়।

ঢাকা-পটুয়াখালী-গলাচিপা-রাঙ্গাবালী রুটে প্রতিদিন ১০টি যাত্রীবাহী ডাবল ডেকার লঞ্চসহ অন্তত শতাধিক নৌ-যান চলাচল করে পটুয়াখালীর অভ্যন্তরীণ নৌরুটগুলোতে। প্রায় সাড়ে চারশ’ কিলোমিটার দীর্ঘ এ পথে সারা রাত কেটে যায় বুড়িগঙ্গা, পদ্মা, মেঘনা, তেতুলিয়া ও লোহালিয়া নদী পাড়ি দিতে।

শুষ্ক মৌসুমে ঝিলনা, টেকেরচর, কবাই, কারখানা, লোহালিয়ার মোড়ে চরম নাব্য সংকটে ব্যাহত হয় নৌ-যানগুলোর স্বাভাবিক চলাচল। সাাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও রয়েছে ভোগান্তি। শীত মৌসুম শুরু না হতেই নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। সঠিকভাবে নদী খনন না হলে ঢাকা-পটুয়াখালী নৌরুট বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। 

এদিকে নাব্য সংকট নিরসনে এসব পয়েন্টে প্রতি বছরই নদী খনন করে ড্রেজিং বিভাগ। কিন্তু কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ তদারকি না থাকায় খননকৃত মাটি পুনরায় নদীতে ফেলাসহ সংশ্লিষ্টদের নানা অনিয়মের কারণে নাব্য সংকট থেকেই যায়। এতে জনগণের ভোগান্তির পাশাপাশি নদী খননের নামে সরকারের কোটি টাকা লোপাট করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। 

চলতি বছরের প্রথম দিকে সাবেক নৌ মন্ত্রীর শাহজাহান খানের ভাতিজা জয় খান মালিকাধীন (কনক ড্রেজিং র্ফাম) নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালীতে নদী খনন কাজ করেন। ওই প্রতিষ্ঠানের নদী খনন নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে। ওই সময় পটুয়াখালী নৌবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে খনন কাজের তথ্য চাওয়া হলে তারা তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিক ও সহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুদের কাছে তথ্য চাওয়া হলে উপরের নির্দেশে তথ্য দেয়া নিষেধ বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়। এর কিছু দিন পরে উধাও হয় কনক প্রতিষ্ঠানটি। 

নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, কনক প্রতিষ্ঠানটি নদী খননের নামে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী নৌবন্দর উপ-পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান জানান, একটি ড্রেজিং মেশিন দিয়ে প্রতিনিয়ত নদী খনন চলছে এবং সম্প্রতি কাজকে তরান্বিত করার জন্য আরো একটি ড্রেজিং আনা হয়েছে।  

চলতি বছরের প্রথমে দিকে পটুয়াখালীতে সফরকালে নদী ও পানি বিশেষজ্ঞ ড.আইনুন নিশাত বলেছিলেন এরই মধ্যে নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। নদী রক্ষায় এ কারণে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দিচ্ছেন নদী ও পানি অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশিষ্টজনেরা। নদী খননে পরিকল্পনা না থাকায় দিনে দিনে নাব্য সংকট বাড়ছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ