104621 হাসপাতাল থেকেই বয়ে আসে ইউরিন ব্যাকটেরিয়া
Best Electronics

হাসপাতাল থেকেই বয়ে আসে ইউরিন ব্যাকটেরিয়া

সাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪২ ১৪ মে ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

গরমে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যায় ভুগতে হয় তার মধ্যে ইউরিন ইনফেকশন একটি। এই ধরনের সমস্যা নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। জানেন কি, ক্লেবসিয়া নিউমোনি ব্যাকটেরিয়া থেকে ইউরিনে হতে পারে সংক্রমণ। ক্লেবসিয়া নিউমোনি আসলে একধরনের জীবাণু। এই জীবাণু সাধারণত বুকে নিউমোনিয়া সংক্রমণ বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের মতো অসুখের জন্য দায়ী। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক এর কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার-  

ইনফেকশন প্রধানত দু’রকম
 ১. একধরনের সংক্রমণ হাসপাতালে থাকাকালীন হয়। কেউ কোনো কারণে হাসপাতালে ভর্তি হলে (বিশেষত সেরিব্রাল স্ট্রোকের কারণে) অন্য রোগীর থেকে ক্লেবসিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রামিত হতে পারে। আবার দীর্ঘক্ষণ কোনো সার্জারি হলে ক্ষতস্থানেও এই বিশেষ ব্যাকটেরিয়াটির সংক্রমণ হতে পারে।

২. আবার হাসপাতালে না থাকলেও রোগীর এ ধরনের সংক্রমণ হতে পারে। একে বলে কমিউনিটি অ্যাকোয়ারড ইনফেকশন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাসপাতাল থেকে এই জীবাণু সংক্রমণ হয়। তবে যারা কোনো রোগের জন্য স্টেরয়েড নিচ্ছেন বা ক্যানসারের জন্য কেমোথেরাপি নিচ্ছেন, তাদের এই জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে।

ইনফেকশনের লক্ষণ
ক্লেবসিয়া থেকে ইউরিন ট্র্যাক্টে ইনফেকশন হলে প্রস্রাবের সময় যন্ত্রণা হয়, জ্বালা করে এবং জ্বর আসে। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসাটাও অসম্ভব নয়। ইউরিনের রং বদলাতে শুরু করে, কোমরের নীচে ব্যথা করে। যদি অন্য কোনো সমস্যার কারণে কেউ ক্যাথিটার নিয়ে থাকেন, তাহলে তারও সংক্রমণের সম্ভাবনা থেকে যায়।

সঠিক চিকিৎসা
যেকোনো ইউটিআই-এর চিকিৎসা করতে হলে ইউরিনের রুটিন আর কালচার পরীক্ষা করতে হবে। রুটিন পরীক্ষা করলে বোঝা যাবে না কি জীবাণু আছে, তবে এটা বোঝা সম্ভব যে কোনো সংক্রমণ হয়েছে কি না। পরীক্ষার ৭২ ঘণ্টা পরে ইউরিন কালচারের রিপোর্ট হাতে আসে। এর থেকে বোঝা যায় কোনো জীবাণু থেকে সংক্রমণ হয়েছে। ক্লেবসিয়া নিউমোনি জীবাণুর অস্তিত্বর কথাও এখান থেকেই জানা যায়। কোন ঔষধগুলো এই সংক্রমণ মোকাবিলায় কাজে আসবে, তাও উল্লেখ করা থাকে ওই রিপোর্টে। ক্লেবসিয়া নিউমোনির চিকিৎসা সবসময় সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকে করা সম্ভব হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাই ইনজেকশনের সাহায্যে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হয়। তবে রোগী নিজে নিজেই বাড়িতে এই ইনজেকশন নিতে পারেন। সাধারণত ১০-১৪ দিন অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করার পরে আরও একবার ইউরিন কালচার করে দেখতে হয়। আবার সমস্যা হলে আবার চিকিৎসা করতে হবে। তবে যদি কারও বারবার ইনফেকশন হয়, তাহলে সতর্ক হন। সেক্ষেত্রে দেখতে হবে ব্লাডারে ইউরিন জমে থাকছে কি না, ইউরিনারি ট্র্যাক্টে কোনো বাধা সৃষ্টি হচ্ছে কি না ইত্যাদি। ডায়াবেটিকস থাকলে ইউটিআইয়ের সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায়।

মহিলাদের ক্ষেত্রে ইউটিআইয়ের প্রবণতা বেশি থাকে। ক্র্যানবেরি জুস ইউটিআই প্রতিরোধে খুব উপকারি। তবে ডায়াবেটিকস থাকলে ক্র্যানবেরি জুসের বদলে ক্র্যানবেরি জুসের ট্যাবলেট খেতে পারেন। তবে রেকারেন্ট ইউটিআই-এর ক্ষেত্রে র্দীঘকালীন ভিত্তিতে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হয়। দুই থেকে তিন মাস ওরাল অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হয়। আর সঙ্গে যদি অন্য কোনও সমস্যা থাকে, তাহলেও অনুরূপ চিকিৎসা করতে হবে। ইউরিনারি ব্লাডার বড় হলে ওষুধ খেতে হবে, ওষুধে কাজ না হলে ক্যাথিটার দিতে হবে, ডায়াবিটিস থাকলে সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

কিছু সতর্কতা
১. এর প্রতিরোধে পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন টয়লেট ব্যবহার করুন।
২. ইউরিন চেপে রাখবেন না।
৩. বেশি করে জল খান।
৪. খুব প্রয়োজন না হলে ক্যাথিটার ব্যবহার করবেন না।
৫. ইউটিআইয়ের জীবাণু বাইরে থেকে আসে। তাই সাবধান থাকুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ   

Best Electronics