Alexa হাসপাতালে আটক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করল মোটরসাইকেল চালকরা

হাসপাতালে আটক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করল মোটরসাইকেল চালকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫৯ ২২ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৬:৪৯ ২২ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ছয় মাস বয়সী শিশু আলিফ পুতুর বাবা-মা হত দরিদ্র। তার চিকিৎসা করতে গিয়ে হাসপাতালে প্রচুর বিল জমে গেছে। ওই বিল পরিশোধের সামর্থ্য তাদের নেই। তাই শিশুটির মরদেহ আটকে রেখেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

অবশেষে আলিফের মরদেহ উদ্ধারে এগিয়ে আসেন ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলের চালকেরা। দল বেঁধে হাসপাতালের সামনে ভিড় করে মর্গ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার প্যাদাং শহরে এ ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে একটি ফুটেজ ইন্দোনেশিয়ার সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে। এতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের বহরটি হাসপাতাল থেকে বের হচ্ছে। সে সময় এক চালক হাত দিয়ে শিশু আলিফের মরদেহটি ধরে আছেন।

ইন্দোনেশিয়ার এম জাজিল হাসপাতাল জানায়, বকেয়া বিল পরিশোধ না করা পর্যন্ত আলিফকে তার পরিবার দাফন করতে পারবে না। তখনই ভাড়ায় খাটা মোটরসাইকেলের চালকেরা হাসপাতালে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এদের মধ্যে আলিফের চাচা একজন।

ওয়ার্দিয়ানসিয়াহ নামে এক মোটরসাইকেল চালক জানান, শিশুটির বাবা-মার কাছে প্রায় ২৫ মিলিয়ন রুপিয়া (১৫ লাখ টাকা) বিল দাবি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের পক্ষে এই টাকা দেয়া সম্ভব ছিল না। 

তিনি আরো বলেন, আলিফের চাচার মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আমাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে সংখ্যায় আমরা অনেক হওয়ায় তারা দমে যান।

শিশুটির মা দেবী সূর্য জানান, তাদের পরিবার সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পে নাম লিখিয়েছিল। নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় আলিফ অসুস্থ হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সকালে অপারেশন করা হলেও সে মারা যায়। 

জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর অধীনে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। তবে প্রকল্পটি তহবিলজনিত সমস্যায় ভুগছে। দরিদ্র অনেক পরিবার এতে নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রসঙ্গত, অতীতে ইন্দোনেশিয়ার হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে বিল পরিশোধ না করা অবধি নবজাতক শিশুদের জিম্মি করে রাখার এমন বহু ঘটনা ঘটেছে। সূত্র- বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর