হাসপাতালে অনুমতিহীন ইনজেকশন

আব্দুল্লাহ আল মামুন, ফেনীডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪৭ ১৫ মার্চ ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফেনীর জেলায় ২২টি সরকারি হাসপাতালসহ মোট ৩৭টি প্রাইভেট হাসপাতাল রয়েছে। এসব অধিকাংশ হাসপাতালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবহার হচ্ছে অচেতন করার ইনজেকশন।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্র বলছে, হাসপাতালে বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের রোগীদের অচেতন করতে প্যাথডিন, মারফিন, ইপিডিন, বিউরিপেন, বুপ্রেনরফাইন, ইজিয়াম, সেডিল, কোসিয়ামসহ বিভিন্ন ধরনের চেতনানাশক ও নেশা জাতীয় ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়। এসব ইনজেকশন ব্যবহারে একজন রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের অনুমতি নিতে হয়। ব্যবহার, বিক্রি, সংরক্ষণ, মজুদ ও পরিবহন করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অনুমতি ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক।

অফিস সূত্র আরো বলেন, জেলায় দুটি হাসপাতাল ও পাঁচটি ফার্মেসিতে প্যাথডিন ও অজ্ঞান করার ইনজেকশন বিক্রির অনুমোদন রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী ডায়বেটিক হাসপাতাল ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্স সেন্টার, রাজ্জাক মেডিকেল হল, গোবিন্দ ফার্মেসি, বাপ্পি মেডিকেল হল, পঞ্চরত্ন ফার্মেসি, মৌসুমি ফার্মেসি অনুমতি রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের নির্দেশনায় প্রত্যেক হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা রোগীদের সার্জারি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের মূল ফার্মেসির মালিক ও বিক্রেতার কাছে জমা দিলে বিক্রেতা ঔষুধ বিক্রি করবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের নির্দেশনা মোতাবেক মাসের শেষে এসব প্রেসক্রিপশনের প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

বাপ্পি মেডিকেল হলের মালিক রাজ্যেস্বর দেবনাথ বলেন, এক বছরে একজন ক্রেতা দোকানে প্যাথডিন কিনতে আসেনি। এ ইনজেকশন কিনতে নানা ধরনের জটিলতা থাকায় এখন কেনাবেচা করি না। প্রতিবছর লাইসেন্স নবায়ন করলেও প্যাথডিন বা চেতনানাশক কিংবা নেশা জাতীয় ইনজেকশন বিক্রি হয়নি। লাইসেন্সপ্রাপ্ত অন্য ফার্মেসিগুলোর একই দশা।

ফেনী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আবু আবদুল্লাহ জাহিদ বলেন, ফেনীতে হাসপাতাল মালিকদের প্যাথডিন ও নেশাজাতীয় ইনজেকশন ব্যবহার করতে লাইসেন্স নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি হাসপাতাল আবেদন করেছে। যারা লাইসেন্স ব্যবহার করবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ