হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন আনজু আরা

হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন আনজু আরা

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪৭ ১৫ আগস্ট ২০২০  

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ আনজু আরা

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ আনজু আরা

যৌতুকের দাবিতে মাদরাসা শিক্ষক স্বামীর পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন গৃহবধূ আনজু আরা। শুক্রবার দুপুরে মারাত্মক আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় নির্যাতিত গৃহবধূর ভাই বাদশা মিয়া বাদী হয়ে মাদারগঞ্জ থানায় অভিযোগ দাখিল করেছেন।

বাদশা মিয়া জানান, ১৬ বছর আগে মাদারগঞ্জ উপজেলার চর মদন গোপাল গ্রামের মাদরাসা শিক্ষক আব্দুল হালিমের সঙ্গে তার বোন আনজু আরার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য স্বামী তাকে বিভিন্ন সময় মারধর করতেন। দরিদ্র বাবার পক্ষে যৌতুক দেয়া সম্ভব হবে না ভেবে তার বোন সব নির্যাতন সহ্য করতেন।

শনিবার দুপুরে গৃহবধু আনজু আরা জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে ফ্রিজ থেকে মাংস বের করতে একটু দেরি হলে তার স্বামী ব্যাপকভাবে মারধর শুরু করেন। একটি রুমের মধ্যে আটকে তাকে টানা কয়েকঘণ্টা মারধর করেন। কিল-ঘুষি এবং লাঠি দিয়ে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন করেন। কোনো রকম চিকিৎসা না দিয়েই ঘরের মধ্যে রেখে দেন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় পালিয়ে বাড়ি যান। তার অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার দুপুরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, গৃহবধূ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। খবর পেয়ে জামালপুরের অ্যাডিশনাল এসপি সীমা রানী সরকার জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ওই গৃহবধূকে দেখতে যান। তিনি আনজু আরাকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেন।

বাদশা মিয়া বিকেল তিনটার দিকে ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বোনের নির্যাতনের অবস্থা দেখে আমরা হতভম্ব। পরিবারের কারো মাথা ঠিক নেই। নির্যাতনের ঘটনায় মাদারগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে। আনজু আরার আট বছরের একটি ছেলে ও ছয় বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার হাসানুল বারী বলেন, শুক্রবার স্বামীর নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ আনজু আরাকে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের বোতা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তার পিঠে এবং দুই হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

জামালপুরের অ্যাডিশনাল এসপি সীমা রাণী সরকার বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে গৃহবধূকে দেখতে যাই। তার স্বামী মাদরাসা শিক্ষক যৌতুকের জন্য তাকে নির্যাতন করেছে। তাকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ