Alexa হাসপাতালের গাফিলতিতে প্রাণ ঝরল তিন বছরের শিশুর!

হাসপাতালের গাফিলতিতে প্রাণ ঝরল তিন বছরের শিশুর!

নিউজ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫১ ২৫ আগস্ট ২০১৯  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

একের পর এক হাসপাতালের গাফিলতিতে প্রাণ ঝরল তিন বছরের শিশু মেহনাজ তবসুমের। এই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। 

শনিবার ভোরে মর্মস্পর্শী এই ঘটনাটি ঘটে ভারতের কলকাতার বসিরহাটে।

শুক্রবার সকালে দাদুর সঙ্গে স্কুল থেকে ফিরছিল সে। বাড়ির কাছে নাতনিকে ছেড়ে দিয়ে স্থানীয় চায়ের দোকানে গিয়ে বসেন দাদু। তখনই রাস্তার উপরে চলে আসা মেহনাজের বাঁ পায়ের উপর দিয়ে চলে যায় লরির চাকা। বাড়ির কাছেই একটি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মেহনাজকে ন্যাশনাল মেডিকেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

রক্তে ভেসে যাচ্ছে স্ট্রেচার! দুই তরুণ চিকিৎসক স্ট্রেচারের উপরে ঝুঁকে একটি শিশুর চোখের পাতা দুই আঙুলে ফাঁক করে দেখার চেষ্টা করছেন। তবে আঙুল সরিয়ে নিলেই বুজে যাচ্ছে শিশুটির চোখ। স্ট্রেচার ঘিরে থাকা শিশুটির স্বজনরা সবাই কেঁদে চলেছেন। এমন পরিস্থিতিতেও ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ওই শিশুকে ভর্তি করতে রাজি হয়নি। অবশেষে তাকে ভর্তি করা হয় নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে শনিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, একের পর এক হাসপাতাল ভর্তি নিতে না চাওয়ায় শিশুটিকে নিয়ে তাদের সরকারি হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে। 

শিশুটির কাকা জাহাঙ্গীর মোল্লার অভিযোগ, ন্যাশনাল মেডিকেলের চিকিৎসকরা তাদের মেয়ের পায়ের রক্তাক্ত ব্যান্ডেজে হাতও লাগাতে চাননি। তাদেরই ব্যান্ডেজ খুলে দেখাতে বলা হয়।

বাবা শরিফুল ইসলাম মোল্লার অভিযোগ, ন্যাশনাল মেডিকেলে মেহনাজকে ফেলে রাখা হয় দীর্ঘ সময় ধরে। 

মামা জাহাঙ্গীর মোল্লা জানান, এনআরএসে গিয়েও একই অবস্থায় পড়তে হয়। এক বিল্ডিং থেকে আর এক বিল্ডিংয়ে ঘোরানো হয়। একটা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালের সামনের বড় রাস্তা পার করে অন্য দিকে যেতে হয়। তখন মেয়েটার পা থেকে সমানে রক্ত ঝরছে। মেয়েটার ওই অবস্থা দেখেও ভর্তি নিতে চাইছিল না তারা। অনেক অনুরোধের পরে রাতে এনআরএসে একটি ট্রলিতে মেহনাজকে রাখার ব্যবস্থা হয়। ভোরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

ন্যাশনাল মেডিকেল এবং এনআরএস এই দুই হাসপাতালের বিরুদ্ধেই কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে পরে পুলিশের দ্বারস্থ হয় মেহনাজের পরিবার। 

পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়, আগে অন্ত্যেষ্টি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হোক। তার পরে অভিযোগ নেয়া হবে। 

এনআরএসের সুপার সৌরভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, শয্যা ফাঁকা না থাকলে অনেক সময়ে বাধ্য হয়ে ট্রলিতেই রোগীদের ভর্তি নিতে হয়।

রাজ্যের স্বাস্থ্য-শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ