কোরআনের ফজিলতপূর্ণ সূরা ও আয়াত

কোরআনের ফজিলতপূর্ণ সূরা ও আয়াত

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২১ ৬ জুলাই ২০২০   আপডেট: ২০:০৮ ৬ জুলাই ২০২০

‘কোরআনের প্রতিটি শিক্ষাই মানব জাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উপজীব্য।’

‘কোরআনের প্রতিটি শিক্ষাই মানব জাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উপজীব্য।’

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা গোটা কোরআনকে বরকতময় করে নাজিল করেছেন। এর প্রতিটি হরফেই সওয়াব। তাই ফাজায়েল বলতে গেলে বলতে হবে সমগ্র কোরআনই ফজিলতপূর্ণ। এর প্রতিটি শিক্ষাই মানব জাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উপজীব্য।

আরো পড়ুন >>> এক ঋণদাতা ব্যক্তির ঘটনা, যা প্রত্যেকের জন্য হতে পারে অনুসরণযোগ্য 

তবে কিছু কিছু সূরা রয়েছে, যা অন্য সবগুলো থেকে আলাদা মর্যাদা রাখে। তেমনি বেশ কিছু আয়াত রয়েছে, যেগুলোর ফজিলত নিয়ে স্বতন্ত্র বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আসুন এক নজরে সেসব সূরা এবং আয়াতের ফজিলত জেনে নিই-

(১) সূরা ফাতিহা: (সব রোগের ওষুধ)

আবূ সাঈদ খুদরী (রাযি.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, একবার আমরা সফরে চলছিলাম। (পথিমধ্যে) অবতরণ করলাম (এক স্থানে)। তখন এক বালিকা এসে বলল, ‘এখানকার গোত্রের সরদারকে সাপে কেটেছে। আমাদের পুরুষরা বাড়িতে নেই। আপনাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছেন যিনি ঝাড়-ফুঁক করতে পারেন?’ তখন আমাদের মধ্য থেকে একজন ওই বালিকার সঙ্গে গেল। আমরা জানতাম না সে ঝাড়-ফুঁক জানে। ওখানে গিয়ে সে ঝাড়-ফুঁক করল এবং গোত্রের সরদার সুস্থ হয়ে উঠল। এতে সর্দার খুশী হয়ে তাকে ত্রিশটি বকরী দান করেন এবং আমাদের সবাইকে দুধ পান করান। ফিরে আসার পথে আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ‘তুমি ভালভাবে ঝাড়-ফুঁক করতে জানো? (অথবা রাবীর সন্দেহ) তুমি কি আদৌ ঝাড়-ফুঁক করতে পারো?’ সে বলল, ‘না, আমি তো কেবল উম্মুল কিতাব—সূরা ফাতিহা—দিয়েই ঝাড়-ফুঁক করেছি।’ আমরা তখন বললাম, ‘যতক্ষণ না আমরা নবীজি (সা.) এর কাছে পৌঁছে তাঁকে জিজ্ঞেস করি ততক্ষণ কেউ কিছু বলবে না।’ এরপর আমরা মদিনায় পৌঁছে নবীজি (সা.) এর কাছে ঘটনাটি বললাম। তিনি বললেন, ‘সে কেমন করে জানলো তা (সূরা ফাতিহা) আরোগ্যের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে? তোমরা নিজেদের মধ্যে এগুলো বণ্টন করে নাও এবং আমার জন্যও এক ভাগ রেখো।’ (বুখারি, হাদিস:৫০০৭, মুসলিম, হাদিস:২২০১)।

(২) সূরা বাকারা: (জিন শয়তানের অনিষ্ঠ থেকে রক্ষার হাতিয়ার)

নবীজি (সা.) বলেন, ‘তোমাদের ঘরসমূহকে কবর সদৃশ করে রেখো না (অর্থাৎ নফল সালাতসমূহ বাড়িতে আদায় করবে)। কারণ, যে ঘরে সূরা বাকারা পাঠ করা হয় শয়তান সে ঘর থেকে পালিয়ে যায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস:১৭০৯)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেন, ‘কেউ যদি রাতে সূরা বাকারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করে, সেটাই তার জন্য যথেষ্ট।’ (বুখাররি, হাদিস: ৫০০৯)। 

(৩) সূরা আলে ইমরান: (কেয়ামতের দিন মেঘ খণ্ড হয়ে আসবে)

নাওওয়াস ইবনু সাম’আন (রাযি.) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি কেয়ামতের দিন কোরআন ও কোরআন অনুযায়ী যারা আমল করত তাদেরকে আনা হবে। সূরা বাকারা এবং সূরা আলে ইমরান অগ্রভাগে থাকবে। রাসূলুল্লাহ সূরা দু’টি সম্পর্কে তিনটি উদাহরণ দিয়েছিলেন যা আমি কখনো ভুলিনি। তিনি বলেছিলেন, এ সূরা দু’টি দু’ খণ্ড ছায়াদানকারী মেঘের আকারে অথবা দু’টি কালো চাদরের মতো ছায়াদানকারী হিসেবে আসবে, যার মধ্যখানে আলোর ঝলকানি অথবা সারিবদ্ধ দু’ ঝাঁক পাখীর আকারে আসবে এবং পাঠকারীদের পক্ষ নিয়ে যুক্তি দিতে থাকবে। (মুসলিম, হাদিস:১৭৬১)।

(৪) যে সূরাগুলো নবীজিকে (সা.) সবচেয়ে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল:

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সূরা হুদ, ওয়াকিয়া, মুরসালাত, নাবা এবং সূরা তাকভীর আমাকে বৃদ্ধ বানিয়ে দিয়েছে।’ (তিরমিযী, হাদিস:৩২৯৭; সহিহ)।

(৫) সূরা বনী ইসরাইল এবং সূরা যুমার: (নবীজির (সা.) রাতের আমল)

হজরত আয়েশা (রাযি.) বলেন, ‘নবীজি (সা.) সূরা যুমার এবং সূরা বনী ইসরাইল না পড়ে ঘুমাতেন না।’ (তিরমিযী, সিলসিলাহ সাহিহা, হাদিস: ৬৪১, আলবানী)।

(৬) সূরা কাহাফ: (দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্তি)

নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত (আরেক বর্ণনা অনুযায়ী শেষ দশ আয়াত) মুখস্থ করবে, তাকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা করা হবে।’ (সিলসিলাহ সহিহা:৫৮২, আলবানী)।

আরেক হাদিসে বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ পড়বে, তার জন্য পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর চমকাবে’ (সিলসিলাহ সহিহা:৭৩৬, আলবানী)।

(৭) সূরা মুলক: (ক্ষমা লাভের সূরা)

নবীজি (সা.) বলেন, ‘কোরআনে ৩০ আয়াতের একটি সূরা রয়েছে, এটি ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে। ফলে তাকে মাফ করে দেয়া হবে। আর সেই সূরাটি হলো সূরা মুলক।’ (তিরমিযী, সহিহ, আলবানী:২৩১৫)।

(৮) সূরা ওয়াকিয়া: (ধনাঢ্যতা লাভের উপায়)

‘যে ব্যক্তি সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করে, শেখে, তার নাম গাফেলদের তালিকায় লেখা হবে না, সে এবং তার পরিবার দরিদ্রতায় জর্জরিত হবে না।’ (সিলসিলা আহাদিস দ্বয়িফাহ (২৯১)।

(৯) সূরা হাশর: (জান্নাত লাভের মাধ্যম)

‘যে ব্যক্তি দিনে অথবা রাতে সূরা হাশরের শেষ আয়াত পড়বে, সে যদি সেদিন অথবা সে রাতে মৃত্যুবরণ করে, তার জন্য জান্নাত আবশ্যক।’ (যইফ), যইফ আল-জামি আস-সাগীর: ৫৭৭০)।

(১০) মুক্তি সোপান: (সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস)

আবদুল্লাহ ইবন খুবায়ব তার পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক বর্ষণমুখর রাতে গভীর অন্ধকারে আমাদের জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যে আমারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে তালাশ করতে বের হলাম। এক স্থানে গিয়ে আমি তাঁকে পেলাম। তখন তিনি বললেন, বলো। আমি কিছুই বললাম না। তিনি আবার বললেন, বলো। আমি কিছুই বললাম না। পুনরায় আমাকে বললেন, বলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কি বলব? তিনি বললেন, ‘সকাল-সন্ধ্যায় কুল হুয়াল্লাহু আহাদ (সূরা ইখলাস) এবং মুআও’ওয়াযাতাইন (সূরা ফালাক, নাস) তিন বার পাঠ করবে; তবে তা সব কিছুর ক্ষেত্রে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।’ (তিরমিযী, হাদিস:৩৫৭৫; সনদ: হাসান)।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে