Alexa হাত ধোয়ার পরামর্শ দেয়ায় সব ডাক্তাররা তাকে পাগলা গারদে পাঠিয়েছিলেন

হাত ধোয়ার পরামর্শ দেয়ায় সব ডাক্তাররা তাকে পাগলা গারদে পাঠিয়েছিলেন

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৩২ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৩:৩২ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

অতীতে হাত ধোয়ার বিষয়ে কেউ তেমন অবগত ছিলো না। হাত না ধুলে তাতে থাপকা ব্যাকটেরিয়া যে সহজেই খাবারের মাধ্যম পেটে যেতে পারে, এ বিষয়ে তেমন কেউ মাথায় ঘামাত না! সে সময় হাত ধোয়ার প্রচলনটা ছিলো সেরেমোনিয়াল। বাথরুম থেকে এসে, খাবার আগে, কোনো নোংরা জিনিস ধরার পরে, এমনকি ডাক্তাররাও হাত ধুতো না কোনো ক্লিনিক্যাল প্রসিডিউর কিংবা ওটির আগে। 

হাঙ্গেরিয়ান ডাক্তার ইগনাজ স্যামেলওয়াইজ তিনিই প্রথম এ বিষয়ে ভাবতে শুরু করেন। এই ডাক্তার পিউপেরাল ফিভার, যেটা চাইন্ড বেড ফিভার নামে পরিচিত ছিলো, সেটা নিয়ে ভাবতে শুরু করলেন। ১৮৪৬ সালে তিনি একজন ফিজিশিয়ানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পিউপেরাল সেপসিস এর মধ্যে কানেকশন খোঁজার চেষ্টা করেন। তিনি দেখেন, যেসব ডাক্তাররা পারসোনাল হাইজিন মেনে চলছেন তাদের অধীনে থাকা গর্ভকালীন মায়ের মৃত্যুর হার কমছে।

অপারেশন থিয়েটারে ডাক্তারইগনাজ স্যামেলওয়াইজ তার ইন্টার্নদের জানিয়ে দিলেন, সবার হাত ধুয়ে নিতে হবে যে কোনো ডেলিভারির আগে। আর ডেলিভারিতে ব্যবহৃত ইন্সট্রুমেন্ট ক্লোরিনেটেড লাইমে ধুতে হবে। ব্যাপারটা এখন খুব সিম্পল লাগছে শুনতে। হয়তো মনে মনে ভাবছেন, কী এমন করেছেন তিনি, সামান্য হাত ধুতেই তো বলেছেন! 

কিন্তু না, তিনি এর থেকেও বড় কিছু করেছেন। কারণ তখনও জীবাণু তত্ত্ব সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সায়েন্টিফিক সোয়াসিটির লোকজন তখনও বিশ্বাস করতো রোগ বালাই হয় খারাপ আত্মা দিয়ে। সেখানে ডাক্তার ইগনাজ স্যামেলওয়াইজ শুধু তার ডাক্তারদের হাত ধুইয়ে গর্ভকালীন মৃত্যুর হার ১০ থেকে ১ শতাংশে এ নামিয়ে ফেললেন।

ডাক্তার ইগনাজ স্যামেলওয়াইজ চাইল্ড বেড ফিভারে মায়ের মৃত্যু ১ পারসেন্টে নামিয়ে আনলেন। কি আশা করছেন, তাকে খুব সম্মান দেয়া হয়েছে তারপর? ভূষিত করা হয়েছে কোনো হায়েস্ট অনারে? না, তাকে পাঠানো হয় মেন্টাল এসাইলামে, মাত্র ৪৭ বছর বয়সে। অপরাধ? তিনি মরিয়া হয়ে সকল গাইনি এন্ড অবসের ডাক্তারদের চিঠি লিখতে শুরু করেছিলেন যেন তারা হাত ধুয়ে, ইনস্ট্রুমেন্টস ধুয়ে কাজ করেন। এতে জীবন বাঁচবে। 

হাত ধোয়ার কথা বলার কারণে তখনকার সব চিকিৎসকেরা তাকে পাগল বলে আখ্যা দেয়তার হাত ধোয়া নিয়ে হাসাহাসি করা লোকজনদের তিনি ইরেসপনসিবল মার্ডারার বলতেন। যেকোনো আড্ডাতে ডাক্তার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি এই হাত ধোয়ার থিওরির কথা তুলতেন। সবাই বিরক্ত হত। আস্তে আস্তে তিনিও ডিপ্রেশনে পড়তে লাগলেন। সবাই তাকে পাগল মনে করেছিলো। তাকে দেয়া হলো মেন্টাল এসাইলামে। কেউ বললো তার নিউরোসিফিলিস হয়েছে, কেউ বললো বদ আত্মা ভর করেছে। 

মাত্র ১৪ দিন পর, মেন্টাল এসাইলামের গার্ডরা তাকে প্রচন্ড পেটালো। পেটানোর ফলে তার হাতে-শরীরে ক্ষত থেকে পচন ধরে। সেখান থেকে তার মৃত্যু হয় মাত্র ৪৭ বছর বয়সে। তার কাছে হাত ধোয়া ছিলো ক্রুসেডের মত। আজ আমরা স্ক্রাব নেই ওটির আগে, এই কথা বলতেই তিনি পাগল প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, মৃত্যুবরণ করেছেন। 

অ্যান্টিসেপটিক পাইওনিয়ারের প্রতিকৃতিতার মৃত্যুর পর দুই থেকে তিনজন তার শেষকৃত্যে আসেন। তার মৃত্যুর কথা হাংগেরিয়ান মেডিক্যাল সোসাইটি প্রকাশও করেনি তাদের পেপারে। জীবাণু তত্ত্ব, অর্থাৎ রোগের উৎপত্তি জীবাণু থেকে হতে পারে আবিষ্কারের অনেক বছর পর তার স্বীকৃতি মেলে। তার অনেক বড় স্তম্ভও গড়া হয়েছে আজ।

তৎকালীন রীতিনীতির বাইরে গিয়ে ভাববার ক্ষমতাই তাকে অনন্য করেছে। হাত ধোয়া, কতটা সাধারণ ব্যাপার আজ। এই কথাটা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে একজন জীবন বিসর্জন দিয়ে গেছেন, ভাবতেই জিনিসটা কেমন লাগে যেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস