হাতিয়ায় পানিবন্দী ৫০ গ্রাম

হাতিয়ায় পানিবন্দী ৫০ গ্রাম

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০৯ ৭ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৬:৫৩ ২৪ জুলাই ২০২০

হাতিয়া উপজেলার ছয়টি ইউপির ৫০টি গ্রাম প্লাবিত

হাতিয়া উপজেলার ছয়টি ইউপির ৫০টি গ্রাম প্লাবিত

নোয়াখালীর হাতিয়ায় চর ঈশ্বর, সুখচর, নলচিরা ও নিঝুমদ্বীপ ইউপিতে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে করে ৫০ টি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা প্রবল বর্ষণ ও জোয়ারের টানে হাতিয়ায় মেঘনা নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। 

গত শুক্রবার থেকে উপজেলার চর ঈশ্বর, নিঝুমদ্বীপ, সুখচর ও নলচিরা ইউনিয়নে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এর ভাঙা অংশ দিয়ে প্রবল জোয়ারের পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে করে উপজেলার ছয়টি ইউপির ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।  

১ নম্বর হরণী ইউপির ৯ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ১ নম্বর হরণী ইউপি, ইসলামাবাদ সমাজ গ্রাম, নয় দাগ সমাজ গ্রাম, দিদার বাজার সমাজ গ্রাম, মুক্তি সমাজ গ্রাম, ৮ নম্বর আটা কলোনি বেশি প্লাবিত হয়েছে।

উপজেলার সুখচর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও প্রবল জোয়ারের পানি গত শুক্রবার রাত থেকে ইউপিতে প্রবেশ করতে থাকে। পানিতে মাকসুদিয়া গ্রাম, আব্দুল গফুর গ্রাম, মৌলুভীর গ্রাম, চান্দালি গ্রাম, মুলদি গ্রাম, কাদির সরদারের গ্রাম ও কাহারপাড়া গ্রামে বন্যা দেখা দেয়। 

তিনি আরো জানান, ইউপির ভাঙা বেড়ি বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এতে করে ওই সব গ্রামের লোকজন গত ৪ দিন যাবৎ বন্যার পানিতে মানবতর জীবন যাপন করছেন।

গত মাসে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে আধা কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে করে ভাঙা বেড়ি বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এর ফলে পানিতে ফসল ও খামারে মাছ ভেসে গেছে।

উপজেলার চর ঈশ্বর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাশেদ উদ্দিন জানান, বেড়ি বাঁধ বিহীন এলাকা দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পানি প্রবেশ করেছে। এতে করে ইউপির তালুকদার গ্রাম, ফরাজিগ্রাম, বাদশা মিয়া হাজি গ্রাম, পন্ডিত গ্রাম, জেলে কলনি পাড়া, মৌলভী গ্রাম ও পঞ্চায়েত গ্রামে বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে ১ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। 

গত কয়েক বছর আগে প্রবল জোয়ারের স্রোতে ও ঘূর্ণিঝড়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ ভেঙে যায়। ভাঙা বেড়ি বাঁধ পুনর্নির্মাণ না করায় খুব সহজেই জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে। এতে করে ফসল ও খামারের মাছ ভেসে গিয়ে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

হাতিয়া উপজেলার ৩-৪ টি ইউপির লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন

ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বাবলু জানান, নলচিরা ইউপিতে ১ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ দীর্ঘ দিন যাবৎ ভাঙা রয়েছে। বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বাড়ি ঘর ফসলের মাঠ ও মৎস্য খামার প্লাবিত হচ্ছে।

নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাছির উদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও  মেঘনা নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে হাতিয়া উপজেলার ৩-৪ টি ইউপির লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। 

আগামী ২-৩ দিন পানি আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন হাতিয়ার মেঘনা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মেঘনার পানি বৃদ্ধির ফলে প্রতিদিনই হাতিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলসহ বাড়ি ঘর ও ফসলের মাঠ প্লাবিত হচ্ছে। এতে করে বসত ঘর ফসল ও মৎস খামারের ক্ষতি হচ্ছে। 

তিনি আরো বলেন, হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউপিতে দেড় কিলোমিটার এবং নল চিরা ও চর ঈশ্বর ইউপিতে ৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নেই। এগুলো মেরামতের জন্য গত অর্থবছরে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি লেখা হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় এ ভাঙা বাঁধগুলো মেরামত করা সম্ভব হয় নি।

তিনি আরো বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী তীরবর্তী এলাকা ভাঙন রোধে ২ হাজার ১৩২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। ওই প্রকল্প পাশ হলেই কাজ শুরু হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/