হাট-বাজারে ঈদের আমেজ

হাট-বাজারে ঈদের আমেজ

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৯:০২ ১ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ০৯:৪২ ১ এপ্রিল ২০২০

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

জামালপুরের হাট-বাজারগুলোতে চলছে ঈদের আমেজ। হাট-বাজারে বিচরণরত মানুষের মুখে নেই মাস্ক। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি নির্দেশনা কোনো কাজে লাগেনি জেলার হাট-বাজারগুলোতে। 

সরিষাবাড়ি, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জের দুর্গম এলাকার বিভিন্ন গ্রামীণ হাট-বাজারে লোকসমাগম ঘটলেও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। তাই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রাস্তাঘাট, দোকানপাট ও লোকালয়ের বাইরে বিশাল গ্রামীণ জনজীবনে করোনা সচেতনতার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। 

সরেজমিনে দেখা যায়, বকশীগঞ্জে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে বিভিন্ন হাটবাজারে জনসমাগম বাড়ছেই। এতে সচেতন মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিলাক্ষিয়া বাজার যেন চিরচেনা রূপ ফিরে পেয়েছে। একাধিক লোকের অভিযোগ, একজনের ভুলে সবাইকে পোহাতে হবে। অনেক দোকানদার এক সাটার খুলে মাল বিক্রি করছেন প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে।

মেরুরচর নতুন বাজারের মঙ্গলবার বিকেলের দৃশ্য দেখে মনে হয় দেশে ঈদের আনন্দের বন্যা বইছে। ঈদবাজারে মানুষ যেমন কেনাকেটা করতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে, পরিস্থিতি যেন ঠিক তাই।

বাজারে চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন অনেক মানুষ। ঢাকা থেকে অনেকে ছুটিতে আসায় জনসমাগম আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। তারাই এলাকার জনসাধারণকে উস্কে দিচ্ছেন। ঘরে বসে না থেকে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গভীর রাত পর্যন্ত চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছে। স্থানীয় কেউ কিছু বলতে গেলে উল্টো তাদেরকেই নাজেহাল হতে হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে বাদ পড়েনি মেরুরচর ফকিরপাড়া শান্তিনগর বাজারও। 

স্থানীয় ইকবাল মাহমুদ অতিষ্ঠ হয়ে ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ঢাকা থেকে গ্রামে এসে তাদেরকেও তারা বিপদে ফেলেছেন। ঘরে বসে না থেকে তারা অযথাই বাজারে বাজারে আড্ডা জমাচ্ছে। প্রশাসনকেও তোয়াক্কা করছেন না। 

ছামিউল খান, তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। 

সাইফুল ইসলাম জানান, পল্লী এলাকার সব বাজারেই মনে হয় ঈদ লেগেছে। পুরো বাজারে চলছে বেচাকেনাসহ লোকজনের ব্যাপক সমাগম।

মাহফুজুর রহমান জানান, ভাই তাদের বকশীগঞ্জে তো এখন ঈদ চলছে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে ওরা হয়তো এখনো অজ্ঞ। বিষয়টির প্রতি তারা কোনো গুরুত্ব না দিচ্ছে না।

সরেজমিনে আরো দেখা যায়, বিকেলে সরিষাবাড়ি পৌরসভার বলারদিয়ার চৌধুরী বাজার, মহাদান ইউপির রাজার মোড় ও সেঙ্গুয়া বাজারে লোকজন ভিড় করে কেনাকাটা করছেন। লোক সমাগমের সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি অধিকাংশ মানুষকে। পৌরসভার শিমলা বাজার ও বাস টার্মিনালের কয়েকটি স্থানে মানুষের অহেতুক জটলা। সাতপোয়া ইউপির কাঠের সেতু, পোগলদিঘা ইউপির বয়ড়া সেতু, রেলি সেতুসহ কয়েকটি দর্শনীয় স্থানে প্রতিদিন বিকেল হলেই ভিড় করে আড্ডা জমাচ্ছেন মানুষ। ছুটি কাটাতে ঈদের আমেজে রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকে চড়ে গ্রামের সড়কগুলোতে লোকজনদের দলে দলে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। 
 
এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ির ইউএনও শিহাব উদ্দিন আহমদ জানান, পৌরসভাসহ উপজেলার ৮টি ইউপির সর্বত্র জনসমাগম ঠেকাতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। তবুও কোথায় এমনটা হলে তা বন্ধ করতে থানার ওসিকে বলে দেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ