হাটের সেরা আকর্ষণ আখাউড়ার ২৫ মণের টাইগার 

হাটের সেরা আকর্ষণ আখাউড়ার ২৫ মণের টাইগার 

কাজী মফিকুল ইসলাম,আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০০ ৪ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৩:১৫ ৫ জুলাই ২০২০

নাম রাখা হয়েছে আখাউড়ার টাইগার, ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নাম রাখা হয়েছে আখাউড়ার টাইগার, ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কালো সাদা ঝকঝকে শরীর। হাঁটা চলার সময় গম্ভীর ভাব নিয়ে পা ফেলে ধীরে ধীরে। খুবই শান্ত স্বভাবের। সময়ের সঙ্গে তার আকৃতি বেড়ে উঠা স্বভাবও যেন টাইগারের মতোই। তাই  নাম রাখা হয়েছে আখাউড়ার টাইগার। নামের সঙ্গে তার আদর যত্মের যেন কমতি নেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউপির ধাতুর পহেলা গ্রামের প্রবাসী মো. রফিক সরকার (মিন্টু মিয়া) তার মেয়ের নামে রাখা নাইনা খামারে উন্নত জাতের ব্রাহমা বিশাল আকারের এ ষাঁড়টি রয়েছে। বর্তমানে তার ওজন ২৫ মণ। নিজ খামারে জন্ম নেয়া ব্রাহমা জাতের এ গরুটিকে অতি যত্মসহকারে লালন পালন করা হচ্ছে।

বর্তমানে  করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে এ উপজেলায় এখনো কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেনি। কিন্তু টাইগার নামে এই বিশাল ষাঁড়টি এরইমধ্যে এলাকাজুড়ে বেশ সাড়া ফেলেছে। এ গরুটি দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন ও ক্রেতা ভিড় করছেন তার বাড়িতে। গরুটির বয়স প্রায় চার বছর।  দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ ফুট। গরুটির মালিক প্রবাসী মো. রফিক সরকার (মিন্টু মিয়া) এটির দাম হাঁকিয়েছেন সাড়ে ছয় লাখ টাকা। তিনি দাবি করেন এ উপজেলায় কোরবানির পশুর হাটে সেরা ও আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তার আখাউড়ার টাইগার নামে গরুটি।

খামার মালিকের ভাই ও ইউপি সদস্য মো. আব্দুল আওয়াল সরকার বলেন, কোনো প্রকার ক্ষতিকর ট্যাবলেট ও ইনজেকশন ছাড়াই সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাদ্যে নিয়মিত যত্মে ধীরে ধীরে গরুটিকে বড় করা হয়। খর, জার্মানি তাজা ঘাস, খৈল, ভূষি, চালের কুড়া, ভুট্টা, ভাতসহ পুষ্টিকর খাবার মাধ্যমে লালন পালন করা হচ্ছে। 

খামার পরিচর্যাকারী মো. এরশাদ মিয়া বলেন নিয়মিত খাবার, গোসল করানো,পরিষ্কার ঘরে রাখা, টাইগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখা ও রুটিন অনুযায়ী ভ্যাকসিন দেয়াসহ  চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া হচ্ছে। খাবারসহ প্রতিদিন এই গরুটির পেছনে ৬০০ টাকার উপর খরচ হয়। এই খামার দেখাশুনার জন্য ৭-৮ জন লোক কাজ করছেন । 

সরেজমিনে মোগড়া ইউপির ধাতুর পহেলার কুসুমবাড়ি এলাকায় দেখা যায়, বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে তুলা হয়েছে গরুর খামার। তার এই বিশাল আকারের গরু খামারে টাইগার ছাড়াও উন্নত জাতের ৪১টি গরু রয়েছে। এরমধ্যে গাভি ৩৩টি ও ষাঁড় ৮টি রয়েছে। গাভি থেকে প্রতিদিন ১৩৫ কেজি দুধ পাওয়া যায়। গরুগুলোকে অনেক যত্ম করে এগুলো লালন পালন করা হচ্ছে।  এ উপজেলায় এখন পযর্ন্ত এটাই হলো সব চাইতে বড় গরু। 

পৌর শহরের তারাগন গ্রাম থেকে দেখতে আসা মো. হেলাল মিয়া ও মো. সেন্টু মিয়া বলেন, গত বছর স্থানীয় বাজারে সাড়ে ৩ লাখ টাকার গরু দেখেছি। এত বড় গরু দেখিনি। লোকমুখে শুনে গরু দেখতে এলাম। 

আখাউড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সার্জন  ডা. কামাল বাশার বলেন, উন্নত জাতের গরুটিকে প্রাকৃতিক উপায়ে লালন পালন করা হচ্ছে। যখনই কোনো সমস্যায় পড়ছেন সার্বিকভাবে পরমর্শ দেয়া হচ্ছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/জেডএম