হাওরে স্বাস্থ‌্যবিধির তোয়াক্কা নেই দর্শনার্থীদের

হাওরে স্বাস্থ‌্যবিধির তোয়াক্কা নেই দর্শনার্থীদের

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:১০ ৭ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৭:১৬ ৭ আগস্ট ২০২০

হাওরে দর্শনার্থীদের ভিড়

হাওরে দর্শনার্থীদের ভিড়

করোনার মধ্যেও ভ্রমণে মেতেছেন হাজারো হাওরপ্রেমী। ঈদুল আজহার দিন থেকেই কিশোরগঞ্জের নিকলী বেড়িবাঁধ, ছাতিরচর, তাড়াইলের হিজলজানী, করিমগঞ্জের বালিখলা, মরিচখালী, চামটা বন্দর এবং ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম হাওরে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ। দর্শনার্থীদের বেশির ভাগই স্বাস্থ‌্যবিধির তোয়াক্কা করছেন না। আবার অনেকের মুখে নেই মাস্ক।

ঈদুল ফিতরে লকডাউন থাকার কারণে মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়েছিল। সে সময় ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেকে আসতে পারেননি। তাই ঈদুল আজহার ছুটি ও লকডাউন না থাকার সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন দীর্ঘদিন ঘরবন্দী থাকা লোকজন।

ভরা মৌসুমে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে এসেছেন দর্শনার্থীরা। ঈদের দিন বিকেল থেকে শুরু করে প্রতিদিনই জেলার প্রতিটি হাওর পয়েন্টে হাজারো দর্শনার্থী ভিড় করছেন।

মানছেন না সামাজিক দূরত্ব

এ বছর ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম উপজেলায় তৈরি করা হয়েছে অল ওয়েদার রোড। হাওর দর্শনে এ যেন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ‌্যমে মনোমুগ্ধকর ছবি দেখে প্রতিদিনই হাজারো মানুষ ভিড় করছে হাওর পাড়ে। দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে স্থানীয় প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাদের সচেতন করতে প্রতিনিয়ত মাইকিং করা হচ্ছে। গত কয়েকদিনে হাওরে ‍ডুবে দর্শনার্থীসহ প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই।

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা থেকে বন্ধুদের নিয়ে হাওরে ঘুরতে এসেছেন সাব্বির আহমেদ। স্বাস্থ‌্যবিধির ব‌্যাপারে তারা বলেন, আমরা গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ। করোনা আমাদের কিছু করতে পারবে না। হাওরে ঘুরে আবার বাড়ি ফিরে যাবো।

নরসিংদী থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে হাওর দেখতে এসেছেন মো. ইফতেখার। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ‌্যমে কিশোরগঞ্জের হাওরের বিভিন্ন জায়গার ছবি দেখেছি। তাই চার বন্ধু মিলে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে এসেছি। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ স্বাস্থ‌্যবিধি মানছেন না।

হাওরে মানুষের ভিড়

গাজীপুর থেকে স্বজনদের নিয়ে নিকলীর হাওরে ঘুরতে এসেছেন মো. রিফাত। তিনি বলেন, হাওরে ঘুরতে এসে বিপাকে পড়েছি। নৌকা ভাড়া থেকে শুরু করে খাবার, প্রতিটি জিনিসের দাম প্রায় দ্বিগুণ।

কিশোরগঞ্জের এডিসি (সার্বিক) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে হাওরে দর্শনার্থীদের সমাগম সীমিত করা হয়েছে। এমনকি স্বাস্থ‌্যবিধি মেনে ভ্রমণ করার বিষয়টিও নজরে আনা হয়েছে। দর্শনার্থীদের কাছে অতিরিক্ত দামে খাবার বিক্রির বিষয়টি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটিকে জানানো হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম‌্যমাণ আদালতের মাধ‌্যমে ব‌্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর