Alexa হাওরাঞ্চলেও বাড়ছে পেঁয়াজের ঝাঁঝ

হাওরাঞ্চলেও বাড়ছে পেঁয়াজের ঝাঁঝ

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৩৫ ১৬ নভেম্বর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার বাজারগুলোতে পেঁয়াজের ঝাঁঝ যেন কমছেই না। লাগাম টেনে না ধরায় দ্রুত বেড়ে চলেছে দাম।

জেলার পাইকারি ও খুচরা বাজারে মাত্রাতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। সুযোগ বুঝে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট আর বাজার মনিটরিং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম রাখছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

ফলে পেয়াঁজ এখন ক্রেতাদের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এভাবে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ভোগান্তি বাড়তে থাকবে নিম্ন আয়ের ও দিনমজুর পরিবারগুলোতে। এছাড়াও পেয়াঁজের বাজার এখন সেঞ্চুরি ছাড়িয়েছে শুধু তাই নয় এভাবে বাড়তে থাকলে ডাবল সেঞ্চুরি করবে বলে ধারণা অনেকের। 

জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, বিশম্ভরপুর, দিরাই, শাল্লাসহ ১১টি উপজেলায় পেঁয়াজের লাগামহীন উর্ধ্বগতির চিত্র। শহরের বিভিন্ন স্থানে ছোট পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২১০- ২২০ টাকায়।  

পেঁয়াজের লাগাম কিছুতেই টানা যাচ্ছে না। নিত্যপণ্যে পেঁয়াজসহ অন্যান্য দ্রব্য মূল্যের দাম বৃদ্ধির কারণে ক্রেতারা পড়েছেন (দিনমজুর ও সরকারি চাকরিজীবী) চরম বিপাকে। গত সেপ্টেম্বর মাসের পূর্বে পেঁয়াজের ঝাঁঝ ছিল মাত্র ৩০-৩৫ টাকার মধ্যে। হঠাৎ পেঁয়াজের সংকট দেখিয়ে সেপ্টেম্বর মাসে দাম বেড়ে যায় ৮০-৯০ টাকা। এরপর থেমে নেই। দাম বেড়েই চলছে লাগামহীন পাগলা ঘোড়ার মতো। 

পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বাজার মনিটরিং তৎপরতা বাড়ানো বিশেষ প্রয়োজন বলে মনে করেন জেলার সচেতন মহল।

তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন দোকানিদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, সংকট থাকায় দাম বেড়েছে। আমরা ভৈরব থেকে পেঁয়াজ এনে বিক্রি করি। সেখানে দাম বাড়ায় আমরাও বেশি দামে বিক্রি করছি। বাজারগুলোতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলে এমটা হত না বলে জানান, শফিক মিয়া, জাহিদসহ ভুক্তভোগীরা ক্রেতারা। 

তারা আরো জানান, বিভিন্ন ভ্যারাইটি স্টোরে তালিকায় পেঁয়াজের মূল্য লেখা নেই। দোকানিরা ক্রেতাদের বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে পেঁয়াজের মূল্য বেশি। তাই তাদেরও উচ্চ মূল্যে পেঁয়াজ কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছে ১৯০-২০০ টাকায়। 

সম্রাট মিয়া, অরুনসহ পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। সুনামগঞ্জ জেলা শহরে পেঁয়াজ প্রতিদিন ঢাকা থেকে আসে তাই বিক্রি হয়। ঢাকায় পেঁয়াজের দাম বেশি। ফলে তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

দিনমজুর জাহিদ মিয়া জানান, দিনে আয় করি ৩০০-৩৫০ টাকা। পেঁয়াজের দাম যদি হয় ২০০-২১০ টাকা তাহলে কীভাবে হয়। শুধু কি পেঁয়াজ! অন্যান্য দ্রব্যের দামও অনেক বেশি।     

সুনামগঞ্জ জেলা মার্কেটিং অফিসার মো. আব্দুল খালেক জানান, পেঁয়াজের মূল্য বাড়িয়ে রাখার বিষয়টি মনিটরিং করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম