হাঁস পালনে ভাগ্য বদল 

হাঁস পালনে ভাগ্য বদল 

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৩৭ ১২ জুলাই ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় দেশীয় পদ্ধতিতে হাঁস পালন করে ভাগ্য বদল করেছেন মো. আক্তার হোসেন। দৃঢ় মনোবল, কঠোর পরিশ্রম আর সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে অল্প পুঁজিতেই খুব সহজে স্বাবলম্বী হওয়া যায় তার জ্বলন্ত উদাহরণ তিনি। দুখের দিন শেষ হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখ শান্তিতেই কাটছে আক্তার হোসেনের দিন।

উপজেলার ধরখার ইউপির বনগজ গ্রামে আক্তার হোসেন বিশাল আকারে ২টি হাঁসের খামার গড়ে তুলেন। তার গড়ে তোলা একটি খামারে হাঁসের ডিম অপরটিতে ছোট হাঁস বড় করে বিক্রি করছেন তিনি । 

টানা ৭ বছর ধরে চলছে তার এ ব্যবসা। এই দুটি খামার থেকে প্রতি মাসে তিনি দেড় লাখ টাকার উপর আয় করছেন বলে জানান। এদিকে তার এই হাঁস পালন সাফল্য দেখে এলাকায় অনেকেই খামার করে হাঁস পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। 

আক্তার হোসেন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন,  আজ থেকে ৮ বছর পূর্বে হবিগঞ্জ জেলার লাখাই নিজ বাড়িতে তিনি কৃষি কাজ করতেন। কিন্তু সার কীটনাশক, শ্রমিক মজুরিসহ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বছর কৃষিতে তার লোকসান গুনতে হয়। এ নিয়ে তিনি অনেকটাই হতাশায় ভুগছিলেন। 

এদিকে পরিবারে অভাব অনটনও যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে আছে। পরিবারের কথা চিন্তা করে তিনি ঢাকার কালিগঞ্জে এক বন্ধুর বাড়িতে চলে আসেন। সেখানে আক্তার হোসেন বেশ কিছুদিন হাঁস খামারে কাজ করেন। সেখান থেকে প্রাথমিক ধারণা নিয়ে এক পর্যায়ে উপজেলার ধরখার ইউপির  বনগজ গ্রামে চলে এসে প্রথমে ৪শ’ হাঁস দিয়ে একটি খামার গড়ে তোলেন। প্রথমেই ডিম ও হাঁস বিক্রিতে তার ভাল টাকা আয় হয়। এরপর তার সাহস ও মনের জোর বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যায়ক্রমে ২টি বিশাল খামার গড়ে তুলেন।  

আক্তার হোসেন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ৩ মাস পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নতুন করে ১ দিনের হাঁসের বাচ্ছা ২৫-৩০ টাকা করে ৩ হাজার ক্রয় করা হয়। কিন্তু কিছু দিন পূর্বে অতিরিক্ত শিলা বৃষ্টিতে ১৫শ’ হাঁস মারা যায়। 

বর্তমানে তার দুটি হাঁস খামারে ৩ হাজার হাঁস রয়েছে। এরমধ্যে ডিম পাড়া ১৫শ’এবং ৩ মাস বয়সী ১৫শ’ হাঁস রয়েছে। ডিম দেয়া ১৫শ’ হাঁসের মধ্যে ১ হাজারের উপর প্রতিদিন ডিম দিচ্ছে। স্থানীয় বাজারে একশত ডিম ৮শ’ টাকা করে বিক্রি করা হয়। এক একটি হাঁস ৫-৬ মাস পযর্ন্ত ডিম দেয়। তারপর ওই হাঁসগুলো বাজারে বিক্রি করা হয়। এরইমধ্যে বিক্রি শুরু করেছেন আক্তার হোসেন। এক একটি হাঁস ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ডিম ও হাঁস বিক্রিতে খরচ বাদে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে দেড় লাখ টাকার উপর। 

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। নিচু এলাকার জমিগুলোতে বৃষ্টি ও বর্ষার পানি আসা শুরু হয়েছে। তাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খাল বিল ও পানি থাকা জমিতে হাঁসগুলোকে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যেখানেই নেন সেখানে একটি করে ছোট ঘর তৈরি করেন। ওই ঘরেই রাতের বেলায় হাঁসগুলো রাখা হয়। সকাল হলে পুণরায় ছেড়ে দেয়া হয়। পানি উঠা জমিগুলো থেকে ঝিনুক, শামুক, ধানসহ বিভিন্ন প্রকারের খাবার খেয়ে সন্ধ্যা হওয়ার পূর্বেই হাঁসগুলো তাদের আশ্রয়স্থলে ফিরে আসে। তাছাড়া গম, কুড়া, ধানসহ বিভিন্ন প্রকার খাবার দেয়া হয়। এভাবে গত ২ মাসে চার জায়গায় স্থান বদল করা হয়।

তিনি বলেন, খাল বিল জমি ও জলাশয়ে পানি থাকলে খবারও কম লাগে। পাশাপাশি অনেক টাকা ও বেঁচে যায়। কিন্তু পানি না থাকলে অনেকটা সময় বাড়িতে লালন পালন করতে হয়। খাবারও বেশি লাগে।

খামারে পরিবারের সদস্যরা রাত দিন পরিশ্রম করলেও দেখাশুনার জন্য নিয়মিত ৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। এছাড়া ছোট খাট কোন সমস্যা হলে নিজেই সমাধান করে থাকেন। বড় কোনো রোগ বালাই হলে তাৎক্ষনিকভাবে স্থানীয় পশু সম্পদ কার্যালয়ে গিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন বলে জানান।    

আক্তার হোসেন বলেন, ছোট বেলা থেকেই হাঁস খামার করার প্রতি যথেষ্ঠ ইচ্ছা ছিল। সময় সুযোগ না থাকায় এতোদিন করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, হাসঁ খামার করা সহজ কাজ হলে এতে অনেক ঝুঁকিও রয়েছে। কারণ খামারে মরক লাগতে পারে। তবে সচেতন থাকলে ঝুঁকি এড়িয়ে ভাল মুনাফা করা যায়। তিনি বেকার যুবকদেরকে বলেন, হতাশার কিছু নেই। কোনো কাজকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। সঠিকভাবে শ্রম দিলে হাঁস পালনের মধ্য দিয়ে ভালভাবে জীবন যাপন করা সম্ভব। এই খামার তার ভাগ্যের চাকা বদলে দেয়ায় এলাকার যুবকরাও উৎসাহিত হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। 

আখাউড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. কামাল বাশার ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এ উপজেলায় অনেকেই খামার করে হাঁস পালনের মাধ্যমে লাভের মুখ দেখছেন। রোগ বালাই থেকে রক্ষা পেতে সব সময় তাদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ