হাঁটু গেড়ে বিক্ষোভে সংহতি জানালেন ট্রুডো

হাঁটু গেড়ে বিক্ষোভে সংহতি জানালেন ট্রুডো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:১৫ ৬ জুন ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি নিপীড়নে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার বিরুদ্ধে দুনিয়াজুড়ে চলছে বিক্ষোভ। কানাডিয়ান বিক্ষোভকারীদের ‘ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সাহস নিয়ে দাঁড়াও’ শ্লোগানে এবার সাড়া দিলেন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। শুক্রবার হাঁটু গেড়ে বর্ণবাদবিরোধী এই বিক্ষোভে সমর্থন জানালেন তিনি।

কানাডার অটোয়ায় পার্লামেন্ট হিলের সামনে সবাইকে চমকে দিয়ে ‘নো জাস্টিস, নো পিচ’ মিছিলে হাজির হন ট্রুডো। কালো মাস্ক ছিল মুখে, তাকে ঘিরে রাখেন দেহরক্ষীরা। বর্ণবাদবিরোধী শ্লোগানের মধ্যে হঠাৎ করেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন প্রধানমন্ত্রী, যেভাবে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে ফ্লয়েডকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছিল শ্বেতাঙ্গ পুলিশ। টরন্টোসহ বেশ কিছু কানাডিয়ান শহরে এই হত্যার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলেছে। হাঁটু গেড়ে সংহতি জানানোয় অনেকেই তাকে ধন্যবাদ জানান।

গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজের সামনের একটি চার্চে যাওয়ার পথ তৈরি করে দিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়েছিল। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আমেরিকান রাষ্ট্রপ্রধানের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে ট্রুডো ২০ সেকেন্ড ভেবে বলেছেন, এমন কর্মকাণ্ডকে ভয়াবহ ও আতঙ্কিত হওয়ার মতো দেখছেন কানাডিয়ানরা।

শুক্রবারের মিছিলে আর কোনো কথা বলেননি ট্রুডো। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট বিল্ডিং থেকে মার্কিন অ্যাম্বাসির পথ ধরলে সেখান থেকে চলে যান প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ২৫ মে সন্ধ্যায় প্রতারণার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটে অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে পুলিশ কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে গ্রেফতারের সময়ে রাস্তায় মাটিতে ফেলে হাঁটু দিয়ে গলা চেপে ধরেন। এভাবে অন্তত আট মিনিট তাকে মাটিতে চেপে ধরে রাখা হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শীর তোলা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জর্জ ফ্লয়েড নিঃশ্বাস না নিতে পেরে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাকে বলছেন, ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।’ 

এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয় মুহূর্তেই। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ। প্রথম দিকে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও ধীরে ধীরে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। এই সহিংস আন্দোলন ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং দাঙ্গা সেনা মোতায়েন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপরও দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ