হরিণের চামড়ায় দাঁড়িয়ে সৌম্যের আশীর্বাদ, পড়বেন শাস্তির মুখে!

হরিণের চামড়ায় দাঁড়িয়ে সৌম্যের আশীর্বাদ, পড়বেন শাস্তির মুখে!

ক্রীড়া প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:১৭ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ২১:২১ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

হরিণের চামড়ার ওপর দাঁড়িয়ে সৌম্য

হরিণের চামড়ার ওপর দাঁড়িয়ে সৌম্য

অনেকটা চুপিসারে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার সৌম্য সরকার। আগামী বুধবার প্রিয়ন্তি দেবনাথ পূজার সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হবেন তিনি। এর আগে আজ (সোমবার) পারিবারিক আয়োজনে আশীর্বাদ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে হরিণের চামড়ায় বসে ও দাঁড়িয়ে আশীর্বাদ নেন তিনি। এমন ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে সমালোচনার। এমনকি হতে পারে শাস্তিও।

খুলনায় পূজার বাড়িতে অনেকটা পারিবারিকভাবেই আশীর্বাদ হয় বর কনের। গোপনে সব কিছু অনুষ্ঠিত হলেও তাদের আশীর্বাদের বেশ কিছু ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে হরিণের চামড়ার তৈরি আসনের ওপর কখনো বসে ও কখনো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় সৌম্যকে। এমনকি তার আশীর্বাদের সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয় হরিণের চামড়ার ওপরই। 

কেউ কেউ এই ঘটনাকে ধর্মীয় রীতি বলে মন্তব্য করলেও অনেকে বলেছেন সনাতন ধর্মে এমন কিছু নেই। বিষয়টি সৌম্যের পারিবারিক ব্যাপার বলেই মন্তব্য করেন তারা। ফলে ব্যাপারটি নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। 

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা আমাদের দেশের সম্পদ। দেশের আইন তাদেরও মেনে চলা উচিত। অবশ্য শুধু ছবি দেখেই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা ঠিক নয় বলে মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি আরো যোগ করেন, ওই চামড়া হরিণের হয়ে থাকলে বিষয়টি সুন্দর হয়নি। তবে শুনেছি ঘটনাটি সৌম্যের হবু বধূর বাড়িতে। তাদের বন্যপ্রাণীর চামড়া রাখার কোনো লাইসেন্স আছে কিনা তা জানতে হবে।

হবু বধূর সঙ্গে সৌম্য এ বিষয়ে দেশের প্রথম সারির এক গণমাধ্যমকে বন্যপ্রাণী ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটের পরিচালক আকন বলেন, ‘কেউই বন্যপ্রাণীর চামড়া ব্যবহার করে বিয়ে বা কোনো অনুষ্ঠান করতে পারেন না। তাছাড়া হরিণের চামড়া রাখাও অপরাধ। আমরা এ ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি।’

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের ধারা ৬-এ বলা আছে, লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ব্যক্তির কাছে বন্যপ্রাণী বা বন্যপ্রাণীর অংশ পাওয়া গেলে অথবা বন্যপ্রাণী থেকে উৎপন্ন দ্রব্য বিক্রয় করলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ এক বছরের সাজা অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। এছাড়া একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে তিন বছরের সাজা অথবা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। 

বাস্তবেই সৌম্য হরিণের চামড়ার ওপর দাঁড়িয়েছিলেন কিনা বা কনের বাড়িতে এ বিষয়ে লাইসেন্স আছে কিনা সেসবের ওপরই নির্ভর করছে এরপর কি হবে। তবে ব্যাপারটি প্রাথমিকভাবে নেতিবাচক হিসেবেই নিচ্ছেন অধিকাংশ মানুষ। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল