Alexa হবিগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ উৎসব

হবিগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ উৎসব

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৩০ ২৭ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মাছ ধরা গ্রামীণ জনপদের একটি নেশা ও পেশা। কিন্তু প্রাকৃতিক বৈরিতার কারণে বিলীনের পথে দেশের অধিকাংশ খাল-বিল নদ-নদী। দখল আর দূষণ ছেয়ে গেছে নদ-নদীর অধিকাংশই।

যে কারণে গ্রাম-বাংলার সেই প্রাচীন ঐতিহ্য ‘পলো বাওয়া’ কিছুটা কমে গেছে। এরপরও আদিকাল থেকেই সেই চিরচেনা মাছ ধরা উৎসব আজো লালন করে আসছেন হবিগঞ্জের বানিয়াচংবাসী। 

উৎসব আমেজে পালন করা হচ্ছে হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন ঐতিহ্য উৎসব ‘পলো বাওয়া’। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারো এর ব্যতিক্রম হয়নি। সোমবার দুপুরে বানিয়াচং উপজেলার ১০ নম্বর সুবিদপুর ইউপির আতুকুড়া বড়আন বিলে অনুষ্ঠিত হয়েছে পলো বাওয়া।

এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নানা বয়সের কয়েক’শ মানুষ পলো নিয়ে এই উৎসবে অংশ নেন। এতে প্রায় সব বয়সের মানুষই বিভিন্ন মাছ ধরে সীমাহীন আনন্দে ভেসেছেন। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার এই উৎসবকে বাঁচিয়ে রাখতে নদী রক্ষার দাবি জানিয়েছে মাছ শিকারিরা। 

জানা যায়, বানিয়াচং উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদী-নালা খাল-বিলের পানি এরমধ্যে শুকিয়ে এসেছে। আর এসব শুকনো জলাশয়ে প্রতি বছরের পৌষ মাস থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে ‘পলো বাওয়া’ উৎসব। সময়টা এলেই মাছ শিকারিরা ঐক্যবদ্ধভাবে দল বেধে ‘পলো বাওয়া’ উৎসবে অংশ নেন।

‘পলো বাওয়া’ উৎসবের বৈশিষ্ট্যই হলো দলবেধে পলো নিয়ে (বাঁশ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি ঝাঁপি) মাছ ধরা। উৎসবের দিন নিজ নিজ পলো, হাতাজাল, উড়াল জালসহ নানা ধরনের মাছ ধরার জিনিসপত্র নিয়ে মাছ শিকারিরা মিলিত হন। এই উৎসবে শৈল, গজার, বোয়াল, মাগুর মাছসহ নানা প্রজাতরি মাছ ধরা পড়ে। 

মর্তুজ মিয়া নামে এক মাছ শিকারি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদী-নালা ও খাল-বিলের তলদশে ভরাট হয়ে প্রতিনিয়িত পানি হ্রাস পাচ্ছে। নদী দূষণসহ নানামুখী তৎপরতার কারণে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রগুলোর বেশির ভাগই বিনষ্ট হয়ে গেছে। নদী-খাল-বিল বেঁচে থাকলে বেঁচে থাকবে পলো উৎসব।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশমাছ শিকারি ইকবাল হোসেন জানান, দীর্ঘকাল ধরে আমরা গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে ওই উৎসবে অংশ নিয়ে থাকি। দিনে দিনে হারিয়ে যাওয়া বাঙালি ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে নদীমাতৃক প্রতিটি এলাকায় যেন এই ‘পলো বাওয়া’ আয়োজন করা হয় সে দাবি জানাচ্ছি। 

সৌখিন মাছ শিকারী কলেজ ছাত্র আরমান আলী জানান, প্রতি বছরই এ উৎসবে আমি অংশগ্রহণ করি। মাছ ধরতে না পারলেও এক সঙ্গে মাছ ধরতে যাওয়ার মজাই আলাদা। তাছাড়া আমরা গ্রামের অধিকাংশ যুবকই এ পলো বাওয়া উৎসব উপভোগ করে থাকি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জাল সোহেল জানান, প্রভাবশালী মহলের কেউ কেউ খাল-বিল, নদী-নালা, জলাশয় ভরাট করে ফেলছেন। এতে যেমন পরিবেশের উপর মারাত্মক ঝুঁকি তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। এই উৎসবকে বাঁচিয়ে রাখতে নদী রক্ষার কোনো বিকল্প নেই। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম