Alexa হঠাৎ ট্রেন যাত্রীদের গগনবিদারী আত্মচিৎকার

হঠাৎ ট্রেন যাত্রীদের গগনবিদারী আত্মচিৎকার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:২৯ ১২ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৬:০০ ১৩ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রাত পৌনে ৩টা। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তূর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের বেশিরভাগ যাত্রী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে বিকট শব্দ ঘুম ভাঙে সবার। 

কিছুক্ষণ আগেও যেখানে বিরাজ করছিল সুনসান নীরবতা মুহূর্তের মধ্যে সেখানে শুরু হয় মানুষের গগনবিদারী আত্মচিৎকার। আবার অনেকেই ঘুমের মধ্যেই চলে যান না ফেরার দেশে।

সোমবার দিনগত রাত পৌনে ৩টার দিকে মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আন্তনগর ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা ও সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন মারা যান। পরে মারা যান আরো সাতজন।

দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া শরিফুল নামে এক যাত্রী বলেন, ট্রেনের প্রায় সব যাত্রীই ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে সবার। চোখ খুলেই দেখেন চারপাশ লন্ডভন্ড। 

তিনি বলেন, ট্রেনের যাত্রীরা এসময় বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করছেন। অনেক জায়গায় হতাহতদের রক্ষের ছাপ। যারা বেঁচে আছেন তাদের অনেকে জানালা দিয়ে লাফিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। 

আবার কেউ বের হতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। সে এক বীভৎস দৃশ্য। এসব কথা বলার সঙ্গে তিনি হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

দুর্ঘটনাকবলিত উদয়ন এক্সপ্রেসের যাত্রী কাওসার দুর্ঘটনার মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘ট্রেনটি মন্দভাগ রেল স্টেশনে এলাকায় আসা মাত্র সজোরে ধাক্কা খায়। তখন ভেবেছিলাম, কেউ বোমা মেরেছে! 

তিনি আরো বলেন, মনে হয়েছিল ট্রেনটি ১০ হাত ওপরে উঠে গিয়ে নিচে পড়েছে। আমার শরীর ওপরে উঠে গিয়ে নিচে আসনের ওপর আছড়ে পড়ে। উদ্ধারকারীরা আসার পর আমার পাশে পড়ে থাকা তিন বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুর লাশ তাঁদের হাতে তুলে দিই। পরে আমাকে উদ্ধার করা হয়। তখনই আমি জ্ঞান হারাই। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/জেএস/এআর/জেএইচ