‘হক্কলে শুধু মুখোশ আর ওষুধ দেয়, খাওন দেয় না’

‘হক্কলে শুধু মুখোশ আর ওষুধ দেয়, খাওন দেয় না’

তানভীর রাসিব হাশেমী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:০০ ২৯ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৫:৫১ ২৯ মার্চ ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সাত লাখ ছুঁইছুঁই। এর মধ্যে মারা গেছেন প্রায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। ভাইরাসটি প্রতিরোধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লকডাউন করা হয়েছে। বাংলাদেশেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সারাদেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে অফিস, আদালত, দোকানপাট ও যানচলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রথমে পাত্তা না দিলেও এখন বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে, ঘরে থাকাই করোনা থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। শহরের রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে গেছে। রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় সবকিছু বন্ধ থাকায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে রাস্তাঘাট। নগরীর পল্টন, কাকরাইল, তেজগাঁও, মহাখালী, গুলশান, কচুক্ষেত ঘুরে এ দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু এতে বিপদে পড়ে গেছেন দিনমজুর, শ্রমিক, রিকশাওয়ালারা। রাস্তায় মানুষ না থাকায় রিকশাওয়ালারা যাত্রী পাচ্ছেন না। আয় না হলে তাদের সংসার চলবে কীভাবে?

এমনই এক রিকশাচালকের সঙ্গে কথা হয়। কান্না জড়িত কণ্ঠে আক্ষেপে বলে ফেলেন, আমি করোনারে ডরাই না আমি খিদারে ডরাই। এখন রাস্তায় মানুষ বের হয় কম সারাদিনে আমি যে টাকা রিকশা চালিয়ে পাই তা দিয়ে চাল কিনতে পারবো না, পারবো না ডাল কিনতে, পারবো না আমার ছোট মেয়েটার জন্য ওষুধ কিনতে! আমাদের তো করোনা হবে না আমাদের হবে না খেয়ে থাকার রোগ।

আরেক রিকশাচালক বলেন, স্যার, পেট-পিঠতো দেশের অবস্থা বুঝে না। রিকশা না চালালে খাবো কি? বাচ্চা-কাচ্চা (বউ-বাচ্চা) তো না খেয়ে মরবে। হক্কলে খালি মুখোশ আর হাতধোয়ার ওষুধ দেয়, পেটে দেয়ার মতো খাবার তো কেউ দেয় না।

এদিকে দেশের এমন পরিস্থিতিতে দিনমজুর, শ্রমিক, রিকশাওয়ালাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে সরকারি-বেসরকারি বেশকিছু সংগঠন। এমনকি সমাজের বিত্তবানেরাও এগিয়ে এসেছেন। সম্মিলিত সহযোগিতায় করোনার কারণে যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে সবাই। বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য সামগ্রী, মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস বিতরণ করা হচ্ছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/জেএস