হকির ভবিষৎ নিয়ে শঙ্কা
Best Electronics

হকির ভবিষৎ নিয়ে শঙ্কা

এস আই রাসেল

প্রকাশিত: ১৬:৩৪ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৬:৩৪ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

হকি একসময় দেশের জনপ্রিয় খেলা হলেও সেই জনপ্রিয়তায় ভাটা লাগছে দিনের পর দিন। নিয়মিত হচ্ছে না লিগ। গুটি কয়েক ক্লাব নিয়ে চলছিল নামে মাত্র লিগ। তাও আজ শঙ্কার পথে। একের পর এক ক্লাবগুলো সরে যাচ্ছে লিগ থেকে। কিন্তু ফেডারেশন এই ব্যাপারে কোন ভূমিকাই রাখতে পারছে না। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় বিলীন হয়ে যাবে বংলাদেশের হকি এমনই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি হকি প্রিমিয়ার লিগের ফাইনাল নিয়ে হয়ে গেল এক ধরনের নাটক। হকি মাঠে অপ্রিতিকর ঘটনা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। তেমনই প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে ঘটে এক ঘটনা। এতে শিরোপা ঝুলে থাকে প্রায় পাঁচ মাস। পরে একটি মিটিং করে দায় সারা ভাবে মোহামেডানকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।

বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি প্রতিপক্ষ মেরিনার্স ইয়াংস ক্লাব। তারা মনে করেন তাদের শিরোপা জোর করে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে মেরিনার্স ইয়াংস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক হাসান উল্লাহ খান রানা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমারা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। আমাদের জোর করে হারানো হয়েছে। হকি মাঠের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেই থাকে। কিন্তু এতদিন কোন সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকেনি। দীর্ঘ পাঁচ মাস পর এক বৈঠকে মোহামেডানকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হল। এত বড় একটা সিদ্ধান্ত হকি ফেডারেশনের সভাপতিকে ছাড়া কিভাবে নেয়া হয়। আমরা এটা মানি না। আমরা সংবাদ সম্মেলন করে সবাইকে ব্যাপারটা জানিয়েছি। উকিল নোটিশও পাঠিয়েছি। দুই-এক দিনের ভিতর আমরা রিট করব। আমরা ন্যায় পাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

বর্তমান হকির অবস্থা আর হকি কমিটি সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, কেউ যদি হকিকে ভালো না বেসে চেয়ারকে ভালোবাসে তাহলে হকির উন্নতি সম্ভব না। কিন্তু এখন যারা আছে সকলেই নিজের চেয়ারকে পছন্দ করে। ক্ষমতাসীন দলের লোকজনই চালাচ্ছে এখন ফেডারেশন। এই ভাবে চলতে থাকলে হকি নামে মাত্র বেঁচে থাকবে।

এ ব্যাপারে হকি ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক আবদুস সাদেক বলেন আমরা যা করেছি তা বাই লজ মেনেই করেছি। ফেডারেশনের সভাপতি উপস্থিত ছিলেন না এত বড় সিদ্ধান্তে। এ ব্যাপারেও তিনি বলেন, আমাদের সভাপতি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান। সে অনেক ব্যস্ত থাকেন। তবে তাকে সব জানানো হয়। আর সে উপস্থিত না থাকতে পারলে কাজ তো থামিয়ে রাখা যাবে না। সাধারন সম্পাদকের মতে হকি তার নিজস্ব গতিতেই চলছে। বরং ক্লাবগুলো এগিয়ে আসছে না। নতুন দুই-চারটা ক্লাবের সাথে কথা হচ্ছে হকিতে আসার জন্য।

হকির এডহক কমিটি নিয়ে আবদুস সাদেক বলেন, এডহক কমিটি বা নির্বাচন তো আমাদের হাতে না। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ যখন চাইবে তখনই আমরা দায়িত্ব বুঝিয়ে দিব। তিনি আরো মনে করেন এডহক কমিটি হকির বিস্তারে কোন বাধা নয়।

হকি মাঠে বারবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার ব্যাপারে সাধারন সম্পাদক আরো বলেন, আমরা যথাযথ ব্যবস্থা বরাবরই গ্রহণ করি। এবারো করেছি। সামনে আমাদের ব্যবস্থা আরো দৃঢ় করা হবে। দরকার হলে মাঠে অতিরিক্তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হবে। সম্প্রতি নারী হকির ব্যাপারেও কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন।

বছরের শুরুতে হকি ফেডারেশনের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে এডহক কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এই কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয় গত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেককে।

এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার বিপিপি, এনডিসি, এসিএসসি (সরকার কর্তৃক মনোনীত সভাপতি), ছিলেন। কিন্তু তার মেয়াদ কাল শেষ হওয়ায় মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত বিবিপি, ওএসপি, এনডিইউ, পিএসসি, জিডি(পি) (সরকার কর্তৃক মনোনীত সভাপতি) দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

কিন্তু ক্লাবগুলো ও হকির শুভাকাঙ্ক্ষীরা মনে করেন এডহক কমিটি দিয়ে হকির উন্নয়ন সম্ভব নয়। নির্বাচিত কমিটি না হলে কোন জবাবিদিহিতা থাকে না।  তাই হকির উন্নয়নে সবার এগিয়ে আসতে হবে। না হলে একদিন বাংলাদেশে নামে মাত্র হকি বিদ্যমান থাকবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস/এস

Best Electronics