Alexa হংকংয়ে বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষায় মার্কিন সিনেটে বিল পাস

হংকংয়ে বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষায় মার্কিন সিনেটে বিল পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৩৩ ২০ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে জড়িতদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার রক্ষার লক্ষ্যে মার্কিন সিনেট বিল পাস করেছে।

মঙ্গলবার পাস হওয়া বিলটিতে হংকংয়ের মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়ে মার্কিন সমর্থনের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, চীনা কর্তৃপক্ষের দমনপীড়ন থেকে হংকং-এর গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষায় এ বিল পাসের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে অঞ্চলটিতে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

বিলটি মার্কিন সিনেটে ‘দ্য হংকং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি অ্যাক্ট’নামের পাস হয়। বিলটি পাসের জন্য এখন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হবে। উভয় কক্ষে বিলটি পাসের পর সেটি আইনে পরিণত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন লাগবে।

ওই বিলটির পাশাপাশি মার্কিন সিনেটে আরো একটি বিলও পাস হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এখন থেকে হংকং পুলিশের কাছে কাঁদানে গ্যাস, পিপার স্প্রে, রাবার বুলেটসহ অন্যান্য গোলাবারুদ রফতানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হবে।

সিনেটের প্রথম বিলের আওতায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে বছরে অন্তত একবার প্রমাণ করতে হবে যে, হংকং বিশেষ মার্কিন বাণিজ্য বিবেচনার জন্য যোগ্যতা অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখেছে। যা বিশ্ব আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে এর মর্যাদাকে প্রশ্রয় দেয়। এটি হংকংয়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও করবে।

এদিকে হংকংয়ের বিক্ষোভকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লিউ জিয়াওমিং লন্ডনের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমি মনে করি হংকং সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খুব চেষ্টা করছে। তবে পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্যই হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এই অস্থিরতা থামানোর মতো পর্যাপ্ত সমাধান ও ক্ষমতা আমাদের রয়েছে।

চীনপন্থী রাজনীতিক ও হংকং আইন পরিষদের সাবেক প্রধান জেসপার সাং বলেছেন, হংকং-এর বিক্ষোভকে ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ পরিস্থিতিতে রূপান্তর করা হবে। আর বেইজিং চেয়ে চেয়ে তা দেখবে! এমনটা হবে না। পরিস্থিতি দিন দিন আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেঞ্জ শুয়াং বলেছিলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক সঙ্গে পরিচালিত মৌলিক নিয়মকে মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছে। চীন এর তীব্র নিন্দা ও দৃঢ়তার সঙ্গে বিরোধিতা করে।

হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম বলেন, বিরোধীরা হংকংকে মারাত্মক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। চার মাসে তাদের আয়োজনে চারশ' বিক্ষোভে এক হাজার একশ' মানুষ আহত হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আটক করা হয়েছে ২ হাজার দুইশ' জনকে। হংকংয়ের নিরাপত্তা এবং জনগণের অধিকার সংরক্ষণে এক দেশ দুই নীতিই আমাদের রক্ষাকবচ। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করবে না প্রশাসন।

এদিকে বিলটি সিনেটে পাস হলেও হোয়াইট হাউজ এখনো এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। বিলটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বাক্ষর করবেন কিনা সে বিষয়েও কোনো কিছু জানায়নি হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা। মার্কিন একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলটিতে স্বাক্ষর করবেন কিনা সে বিষয়ে এখোনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যদিও বিলটি ট্রাম্পের কাছে গেলে তার সঙ্গে উপদেষ্টাদের বিতর্ক তৈরি হবে। কেননা ট্রাম্প যদি বিলটিতে সম্মতি দেন, তাহলে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ হয়ে যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ