সড়ক পথে ব্যাংকক-ফুকেট-পাতায়া

সড়ক পথে ব্যাংকক-ফুকেট-পাতায়া

আদনান ইসলাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:০৮ ২৭ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ১০:৫৬ ২৮ এপ্রিল ২০১৯

ছবি: লেখক

ছবি: লেখক

থাইল্যান্ড ভ্রমণেরই দেশ! প্রতিবছর বিশ্বের অসংখ্য পর্যটক যান দেশটিতে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘুরে দেখার পাশাপাশি এখানে রয়েছে অ্যাডভেঞ্চারের রকমারি আয়োজন। কোথাও সাগরতলে স্কুবা ডাইভিং তো আবার কোথাও প্যারাস্যুটে চেপে আকাশভ্রমণ। সব আয়োজনই আছে এখানে। বলা হয়, টাকা থাকলে থাইল্যান্ডে সবই সম্ভব। তবে সড়ক পথে ভ্রমণ করতে চাইলে খরচ কমে অনেকাংশেই। ব্যাংকক, ফুটেক ও পাতায়া যেতে অনেকেই বিমান বেছে নেন। তবে চাইলে বাসে করেও যাওয়া যায়। এতে দুটো লাভ। প্রথমত টাকা বাঁচে, দ্বিতীয়ত দেশটা ভালো ভাবে দেখা যায়। আর বিমানে গেলে শুধু একটাই সুবিধা, কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো।

ব্যাংকক থেকে ফুকেট তিন জন বিমানে গেলে খরচ হতো প্রায় ৩৬০০০ হাজার টাকা। অথচ বাসে লাগলো মাত্র ২৯০০টাকা। আর ফুটেক থেকে পাতায়া তিনজনের খরচ হয়েছে মাত্র ৭০০০টাকা। ভিআইপি বাসে না গেলে টাকার অঙ্ক আরো কমবে। বাসগুলোতে চাইল্ড পলেসিও রয়েছে, ৩ থেকে ১২ বছরের শিশুদের ভাড়া ৭০ শতাংশ। সাউদার্ন বাস স্টেশন (লোকাল নাম সাই টাই মাই) থেকে ফুকেট যাবার বাস ছাড়ে বিকেল ৫টায়।

বাস সময় মতোই ছাড়ে। আমরা হোটেল থেকে চেক আউট করেছি বেলা ১২টা ৩০ মিনিটে। সুকম্ভিত এরিয়া থেকে রওনা দিয়ে বেলা ১টা ৩০মিনিটে পৌঁছে গেলাম স্টেশনে। গিয়ে দেখলাম সুন্দর করে বাসগুলো পার্ক করে রাখা। গিয়েই প্রথম টিকেট কাটবো। মনে করলাম বাসের সামনেই টিকেট কাউন্টার হবে। না, কাউন্টার লেবেল থ্রিতে। স্টেশনের ভেতর ঢুকলাম। ঢুকে মনে হলো ভুল জায়গায় চলে আসলাম! এতো বিশাল শপিং মল, যমুনা ফিউচার পার্কের চেয়েও কম না! টিকেট কাটলাম। এখনও বাস ছাড়তে ৩ ঘণ্টা বাকি। সঙ্গে ৪টা লাগেজ, ২৮০ টাকা দিয়ে ৩টা লাগেজ রাখলাম বুথে। এবার শপিং করার পালা! সবকিছুর দাম সস্তা মনে হচ্ছিলো। কারণ সাধারণত এখান থেকে শুধু লোকাল মানুষরাই কেনাকাটা করে। সেখান থেকে এম বি কে মার্কেটে যাই, আরো বেশি সস্তায় কেনাকাটা করার জন্য। এখানেও সেই আমেজ। লাইভ মিউজিক হচ্ছে। খাবার খুব ভালো এবং সস্তা।

বাস চলছে...

বাস ছাড়ার ৩০ মিনিট আগেই আমরা বাস-বে তে চলে গেলাম। আমাদের বাস ও উপস্থিত। উঠলাম, খুব সুন্দর। এই ধরণের বাস আমাদের দেশে চোখে পড়েনি। প্রতিটি সিটই আলাদা কম্প্রার্টমেন্টে ভাগ করা। লেগ রেস্টে প্রচুর জায়গা। সবচেয়ে ভালো লাগলো, বাসে টয়লেট আছে এবং সেটা বিমানের টয়লেটের মতো! বাস ছাড়ার একটু পরেই থাই ক্যাটারিং এর স্ন্যাকস প্যাকেট দিলো। রাতের খাবারের ম্যানু জানতে চাইলো। ৪ ধরনের সেট ম্যানু থেকে অর্ডার দিতে হবে। আমরা স্রিম্প আর চিকেন রাইস অর্ডার দিলাম।

সময় এগিয়ে যাচ্ছে। ফুড লোডিং এর জন্য বাস থামলো। দেখলাম কোন যাত্রী নামছে না। আমাদেরও নীচে নামার কোনো প্রয়োজন ছিল না। একটু পরেই বাস ছাড়লো। খাবার দিল হাতে, একদম গরম। রাতে খেয়ে-দেয়ে প্যাকেট খুলে কম্বল গায়ে দিয়ে দিলাম ঘুম! কোনো ঝাঁকি নেই, কোনো শব্দ নেই। ঘুম ভা‌‌ঙলো সুপারভাইজারের ডাকে। ফুকেট এসে পৌঁছালাম সকাল ৫টা ৩০ মিনিটে। আলো ফুটছে।

ফুকেট স্টেশনে নেমেই ফিরতি টিকেট কাটলাম। ফুকেট স্টেশন অবশ্য ব্যাংককের মতো বড় নয়, তবে খারাপ না। আমরা এখান থেকে পাতায়া যাবো। এখান থেকে একটাই বাস ছেড়ে যায় পাতায়ায়, বিকেল ৫ টায়। মনে মনে ভাবলাম ভালোই তো, একদিনের হোটেল ভাড়া বেঁচে গেল। নাহ, ফুকেটের হোটেলে আর্লি চেক ইনের জন্য হাফ দে চার্জ দিতে হয়েছিল!

তবুও ভালো। বাসে যাতায়াতের মধ্যে এমন নানা অভিজ্ঞতা ঝুলিতে ভরা যায়। যারা কম খরচে থাইল্যান্ড ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক, তারা সময় হাতে রেখে বাসে ভ্রমণ করতে পারেন। আর এতে একসঙ্গে রথ দেখা আর কলা বেচা দুটোই হবে!

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে