সড়ক যেন আবাদি জমি 

সড়ক যেন আবাদি জমি 

নাছির উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৩১ ১ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৪:৩২ ১ জুলাই ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সড়ক, না ফসল আবাদের জমি? এ জনদুর্ভোগের দায় কার? এমনি সব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ইছাখালি ইউপির টেকেরহাট সড়কটির এমন দুর্দশার দায় কার? 

সড়কটির এমনি বেহাল অবস্থা হয়েছে, যা স্ব চোখে না দেখলে বোঝার উপায় নেই। স্থানীয়রা সড়কটির কারণে কত যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। গাড়ি তো দূরের কথা, কোনো মানুষই এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে পারে না। সড়কের অবস্থা দেখে বুঝার উপায় নেই যে এটি কি সড়ক নাকি চাষের জন্য প্রস্তুত করা কোনো জমি! 

বড় বড় গর্ত দেখলে মনে হবে যেন এখানে কোনো নির্মাণ কাজ চলছে। মিরসরাইয়ের মুহুরী প্রজেক্ট থেকে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলেমিটার সড়কটি যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে প্রায় ২০ বছর আগে। হেঁটে চলাচল করতে গেলেও হাঁটু পরিমাণ কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। এ সড়কে শুকনো মৌসুমে গাড়িতে চড়লে মনে হবে আপনি ঝড়-ঝঞ্ঝা কবলিত বিশাল ঢেউয়ের মুখোমুখি হয়ে সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছেন।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দীর্ঘদিন সড়কটির বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই টেকেরহাট সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। বিগত ২০০০ সালে সড়কটি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর অধীনে এ সড়কটি সংস্কার করার পর আর কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি। গর্ভবতী নারী ও রোগীদের রাত-বিরাতে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চরম অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয়। দুর্ঘটনা এখানে প্রতিদিনের ঘটনা। সামান্য বৃষ্টি হলেই কর্দমাক্ত সড়কে পানি জমে হাঁটু পরিমাণ কাদা পানি জমে থাকে। নিয়মিত আটকা পড়ে ছোট আকারের গাড়িগুলোও। সড়কটি নিয়ে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় লোকজনদের করুণ অবস্থা। সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তিা আর বেহাল দশা এবং মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে টেকের হাটের এ সড়কটি। 

এদিকে আরো স্থানীয়রা আরো জানান, এ এলাকার সন্তান সম্ভবা নারীরা যাদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা ভালো তারা সন্তান প্রসবের ২ মাস আগে জোরারগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে  চলে আসেন। অনেকে তাদের নিকটাত্মীয়দের বড়িতে চলে যায়। এ যেন নিজ দেশে পরবাসী। সড়কটির বিষয়ে কর্তৃপক্ষ অবগত থাকা সত্ত্বেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে এর অগ্রগতি হচ্ছে না। 

স্থানীয়রা জানান, এ সড়কটি এক সময় যানবাহন চলাচলের অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক ছিল। নিয়মিত ছোট-বড় বিভিন্ন গাড়ি চলাচল করতো। টেকের হাট হয়ে প্রজেক্ট রোড দিয়ে জোরারগঞ্জ এবং বারইয়ারহাট পৌরসভা পর্যন্ত দূর পাল্লার যাত্রীবাহী বাসে নিয়মিত যাতায়াত করতো স্থানীয় লোকজন। ফলে এ রাস্তাটি ছিল হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন চলাচল একমাত্র ভরসা। 

এছাড়া মুহুরী প্রজেক্টে মৎস্য প্রকল্প থেকে মাছ আহরণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য এ সড়কটির ব্যবহার ছিল অন্যতম। কিন্তু সড়কটির বেহাল দশার কারণে ব্যবসা বাণিজ্য থেকে শুরু করে যোগাযোগ ব্যবস্থায় অবনতি দেখা দিয়েছে। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য এমদাদ হোসেন বলেন, পুরো মিরসরাইয়ে সব ইউপির সড়কগুলো ভালো। শুধুমাত্র আমার ওয়ার্ডের সড়কগুলোর বেহাল দশা। আমি নিজেও বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে পরিষদে যেতে হয়। এ দুর্ভোগের দিন কবে শেষ হবে তা জানি না। 

এ বিষয়ে ইছাখালী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা ভাঙ্গা ইট দিয়ে কোনো রকম সংস্কার করে আসছি। এতে কিছুই হয় না। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে হওয়ায় এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাউবো কর্তৃপক্ষ দিতে পারবে। 

ইউএনও রুহুল আমিন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র অধীনে মুহুরী প্রজেক্ট থেকে ইকোনমিক জোন পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটর টেকেরহাট সড়কটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। তবে এখন পর্যন্ত এ সড়কটির নির্মাণ কাজের বরাদ্দ অনুমোদন হয়নি। এটি পাউবো কর্তৃপক্ষ জানে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, বেড়িবাঁধের ২০ কিলোমিটার টেকেরহাট কাঁচা সড়কটি পাকাকরণের জন্য মিরসরাইয়ের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ডিও লেটার দিয়েছেন। এ বছর মাত্র ২.৫ কিলোমিটার সড়কটির কার্পেটিং করার বাজেট অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। শিগগির এ কাজটি শুরু করা হবে। এভাবে প্রতি বছর বাজেট পেলে এ সড়কটির ২০ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ