সড়কে নামছে বাস, মেরামত ব্যয় ছাড়াবে লাখ টাকা!

সড়কে নামছে বাস, মেরামত ব্যয় ছাড়াবে লাখ টাকা!

সালাহ উদ্দিন চৌধুরী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৩৮ ২৯ মে ২০২০   আপডেট: ১৮:৪৩ ২৯ মে ২০২০

টার্মিনালে বাসের সারি। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টার্মিনালে বাসের সারি। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

একদিন পরই সীমিত পরিসরে শুরু হচ্ছে যান চলাচল। নতুন করে সড়কে বাস চলাচল শুরুর আগেই পরিবহন মালিকদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। দীর্ঘ সময় অচল অবস্থায় থাকায় যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা কারণে লাখ টাকারও বেশি মেরামত ব্যয় হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। 

দেশে দুই মাসেরও বেশি সময় বন্ধ ছিল বাস চলাচল। আগামী রোববার থেকে সীমিত পরিসরে শুরু হচ্ছে যান চলাচল। তবে যান চলাচল শুরু হলে সড়কেই অচল হয়ে পড়তে পারে অনেক গাড়ি। 

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ সময় অচল অবস্থায় পড়ে থাকলে গাড়িতে স্বাভাবিকভাকেই কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়। গাড়ি সার্ভিসিং করানোর প্রয়োজন হয়। পরিবর্তন করতে হয় ব্যাটারি, ব্রেক সু, মবিলসহ আরো অনেক কিছু। 

মাকুসদ আলম বাবু নামে এক বাস চালক জানান, বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা গাড়ি পুনরায় চালু করতে পরিবর্তন করতে হবে মবিল, এয়ার ফিল্টার, ডিপেন্সসেল অয়েল, গিয়ার অয়েল, স্টিয়ারিং পাওয়ার অয়েল, ব্যাটারি, ব্রেক-সুসহ অনেক কিছু। এছাড়া গাড়ির ভেতরের সিট কাভার, পর্দাসহ গাড়ি ওয়াশও করতে হবে। সবকিছু মিলিয়ে ব্যয় হবে লাখ টাকার বেশি। আর যদি টায়ারের টেম্পার না থাকে কিংবা ইঞ্জিন সংক্রান্ত কোনো জটিলতার সৃষ্টি হয় তাহলে ব্যয় আরো অনেক বাড়বে। 

তার মতে, গাড়ির প্রকৃত অবস্থা কি, তা সড়কে নামলেই পুরোপুরি বুঝা যাবে। তাদের মতে নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে এসব সমস্য খুব বেশি না হলেও পুরাতন অনেক গাড়িই রাস্তায় অচল হয়ে পড়তে পারে। 

এদিকে পরিবহন মালিকদের মতে, এমনিতেই দীর্ঘ সময় গাড়ি বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা। ব্যাংক লোনের কিস্তি, বিআরটিএ’র বিভিন্ন ধরনের বকেয়া ফিও পরিশোধ করতে হবে। এর ওপর বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা গাড়ি পুনরায় চালু করতে পরিবর্তন করতে হবে অনেক কিছু।

এসব প্রসঙ্গে সায়েদাবাদ বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, অনেকদিন বাসগুলো বন্ধ ছিল। স্বাভাবিকভাবেই যান্ত্রিক কিছু সমস্যার সৃষ্টির আশঙ্কা আছে। তবে যান্ত্রিক সমস্যা ছাড়াও অনেক দিন বন্ধ থাকালে ব্যাটারি বসে যায়। এছাড়া ইঞ্জিন ওয়েল পরিবর্তনসহ গাড়ির নির্দিষ্ট কিছু কাজ করাতেই হয়। তবে গাড়িগুলো সড়কে চলাচল শুরুর পরই প্রকৃত চিত্র বুঝা যাবে। 

তিনি আরো বলেন, দেশে সবকিছু  বন্ধ থাকায় অনেক গাড়িরই ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অনেক চালকের লাইসেন্সের মেয়াদও শেষ হয়েছে। আবার লোন নিয়ে কেনা গাড়ির কিস্তিও পরিশোধ করা হয়নি। 

তাই তিনি ব্যাংক ও সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাংক লোনের বকেয়া কিস্তি স্থগিত রেখে নতুন মাস থেকে কিস্তি গ্রহণের আহ্বান জানান। এতে লোন গ্রহীতারা খেলাপি হবেন না বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে চালকদের লাইসেন্স পরিবর্তনের মেয়াদ ছিল জুন পর্যন্ত। এটাও ডিসেম্বর পর্যন্ত করার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি বিআরটিএ’র সব ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে জরিমানা না নেয়ারও আহবান জানান এই পরিবহন নেতা। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসসি/জেডআর