Alexa সড়কে আর দাঁড়াবে না ক্ষুদে এই ট্রাফিক

সড়কে আর দাঁড়াবে না ক্ষুদে এই ট্রাফিক

নরসিংদী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২৯ ২০ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ২১:০৫ ২০ অক্টোবর ২০১৯

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

শারীরিক প্রতিবন্ধী বলে বাড়েনি উচ্চতা মিলন মিয়ার। ২৬ বছরের টগবগে যুবকের বয়সেও রয়ে গেছেন শিশুর শারীরিক গঠনে। তাই বলে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকেননি। জনসেবামূলক কাজে নিজেকে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত রেখেছেন। 

নরসিংদী শহরের আরশিনগর মোড়ে গেলে এমনই এক শারীরিক প্রতিবন্ধি যুবকের দেখা মেলে। যিনি কাকডাকা ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত আরশিনগর মোড়ে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক পুলিশের মতোই শহরের যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের এ কী নির্মম পরিহাস! ক্ষুদে এই ট্রাফিককে আরশিনগর মোড়েই বালুভর্তি ট্রাকচাপায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হলো।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নরসিংদী-রায়পুরা আঞ্চলিক সড়কের আরশিনগরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মিলন মিয়া রায়পুরা মরজালের মনজু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ট্রাক ও চালককে আটক করেছে পুলিশ। শারীরিক প্রতিবন্ধী মিলনের উচ্চতা ছিল তিন ফুটের মতো।

তিনি আরশিনগর রেলক্রসিং পয়েন্টে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রায়পুরা থেকে বালুবোঝাই নরসিংদী শহরের দিকে যাচ্ছিল। আরশিনগর মোড়ে তীব্র গতিতে বাঁক নেয়ার সময় ওই ট্রাকের নিচে মিলন মিয়া চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

আবির মৃধা নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ট্রাকের চাকার নিচে মাথাটা পড়ে মগজটা ছিটকে গিয়েছিল। চোখের সামনে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আগে দেখেননি।

নরসিংদী মডেল থানার এসআই তাপস কান্তি রায় জানান, দুর্ঘটনায় তার মাথা থেঁতলে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মিলনের মৃত্যু হয়। ট্রাক ও এর চালককে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এরই মধ্যে ক্ষুদে এই ট্রাফিকের কর্তব্য পালনরত ছবি ফুসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন। কেউ লিখেছেন শোকগাঁথা কবিতাও।

মো. জাকির হোসেন জনি লিখেছেন,  উহ! বড় ব্যথিত হলাম মৃত্যু সংবাদটা শুনে। সদা হাস্যজ্জ্বল মিশুক একটা ছেলে ছিলো মিলন।দেখা হলেই বলতো মামা কেমন আছেন...দেখিনাতো আপনাকে আগের মতো...এই বলেই দমকের সুরে ডায়লগ ছুড়ে দিতো এই রিক্সা...সামনে বাড়াও.. বড় কষ্ট হচ্ছে যে ছেলেটা জনগনের দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে ট্রাফিক সহযোগী হিসাবে নিজেকে বিলিয়ে দিতো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। আর সেই ছেলেটিকেই জীবন দিতে হলো দানবীয় ট্রাক চাপায়? এ কেমন নিয়তির লিখন! মিলনের এমন মৃত্যুতে আমরা শোকাত। শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং মহান প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করি মরহুম মিলনকে যেন জান্নাতবাসী করেন আমিন।


নরসিংদীর বিশিষ্ট চিকিৎসক শামীম সৈয়দ ‘আরশীনগরের সেই ছেলেটি’ নামে একটি কবিতা লিখেছেন। মিলনকে নিয়ে কবিতা লেখায় অনেকে স্বনামধন্য এই চিকিৎসককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কবিতাটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

বাঁচার তাগিদে নিত্যদিন নামত ভয়াল কাজে-
তার বাঁচা আর হইলনারে জীবন চলেছে সাঁঝে!
রুঢ় জীবন থেমে গেছে তার ডাকছে সন্ধ্যামায়া-
আয় চলে আয় ধুলি ধূসরতায় নামছে মরণছায়া!
যমদূতসম এক যন্ত্রদানব উঠল লাফিয়ে দেহে-
ক্রাশ হয়ে গেল ছোট্ট মাথাটি মগজ ধুলায় লুটে!
হঠাৎ আঘাত স্তব্ধ দেহ পড়ে হাহাকার চারিদিকে-
সন্ধ্যায় নামছে জীবন সন্ধ্যা এ জীবনের পাঠ চুকে!

মিলন মিলন নাই আর নাই আরশী নগর জুড়ে-
বিদ্যুতবেগে এই সংবাদ ছড়ে শহরে, মোড়ে মোড়ে।
ছোটখাটো এই মিলন ছিল প্রতীক যে ভালোবাসার-
তার মৃত্যু সংবাদে নইলে কেন বেরুল দীর্ঘশ্বাস?
কেন অন্তর নাড়া দিয়ে গেল ভিজেছে আঁখিকোন?
কেন মর্মরে তার করুন কায়াটি অন্তরে নিদারুণ?
কোন ভালবাসা মর্মে আসিয়া করছে বেদনাত?
মিলন চলছে মহামিলনে হায়!ইহজনমের মত!

কোথায় বাড়ি? কোথায় থাকে? জানিনা কে জানে?
কালোথাবা এল কালোরাতে হীম মৃত্যুর খামে!
বাঁচার লড়াই থামিয়া গেল বেদনার পারাবা্রে-
আপন ছিল কত যে বুঝেছি -হৃদয়ের হাহাকারে।
মর্গে লাশ আমি ডাক্তার এখন করব পোস্টমর্টেম -
কোন সে কারণ থামাল মিলন বার্নিং কোশ্চেন!
মৃত্যু এত নির্মম!কখন কোথায় যে হানা দেয়?
এমন মৃত্যু চাইনা আমরা,করবার কি কিছু নেই?  

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ