সড়কের পাশে গুঙিয়ে কাঁদছিল নবজাতক-মা

সড়কের পাশে গুঙিয়ে কাঁদছিল নবজাতক-মা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:১৩ ১২ আগস্ট ২০২০  

উদ্ধার হওয়া নবজাতক- ছবি: সংগৃহীত

উদ্ধার হওয়া নবজাতক- ছবি: সংগৃহীত

দুপুর ১২টা। গ্রামীণ সড়ক ধরে হেঁটে যাচ্ছেন কয়েকজন। হঠাৎ তাদের কানে ভেসে আসে সড়কের পাশের নির্জন জায়গা থেকে গোঙানো কান্নার শব্দ। প্রথমে ঘাবড়ে গেলেও ঘটনাস্থলে যান তারা। আর সেখানে দেখতে পান শুয়ে আছে একটি নবজাতক। তার পাশে কাতরাচ্ছেন গর্ভধারিণী মা।

মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার বলিয়ারদী ইউপির নোয়াহাটা এলাকায়। ওই নারীর বয়স ৩০ বছর। তবে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। সোমবার বিকেলে তাকে প্রথমবারের মতো নোয়াহাটা এলাকায় দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াহাটা এলাকায় মসজিদের পেছনের সড়ক দিয়ে কয়েকজন যাচ্ছিলেন। এ সময় তারা পাশে থাকা নির্জন জায়গা থেকে নবজাতকের কান্নার শব্দ পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে নবজাতকের পাশে এক নারীকেও দেখতে পান তারা। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে কিছুক্ষণের মধ্যেই জড়ো হন লোকজন। তারা ওই নারীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুই না বলায় বুঝতে পারেন তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন।

বিষয়টি বাজিতপুরের ইউএনও এবং সমাজসেবা কর্মকর্তার নজরে আনে এলাকাবাসী। পরে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মা ও নবজাতককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জালাল আহমেদ বলেন, নবজাতক ছেলেটির ওজন আড়াই কেজি। শিশুটি সুস্থ থাকলেও মায়ের শরীর কিছুটা দুর্বল।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে প্রয়োজনীয় পোশাক ও শিশু উপকরণ নিয়ে ওই নারীকে হাসপাতালে দেখতে যান বাজিতপুরের ইউএনও দীপ্তিময়ী জামান। এ সময় তিনি নারীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তবে সাড়া না পাওয়ায় কিছুই জানা যায়নি।

ইউএনও বলেন, ওই নারীর নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিচয় পেলে দুইজনকে নিজ ঠিকানায় পাঠানো যাবে। তা না হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

সমাজসেবা কর্মকর্তা বাবুল মিয়া বলেন, পরিচয় বের করতে না পারলে ২০১৩ সালের শিশু আইন অনুযায়ী নবজাতকটিকে শিশু নিবাসে পাঠানোর চেষ্টা করা হবে। আর মাকে ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় ব্যক্তি আইনে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর