Alexa সড়কপথে বিশ্ব দেখছেন বাংলাদেশের অপু

সড়কপথে বিশ্ব দেখছেন বাংলাদেশের অপু

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:১৮ ৫ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১১:৫৭ ৫ ডিসেম্বর ২০১৯

তানভীর অপু

তানভীর অপু

বিদেশ যাত্রা মানেই বিমানে চড়া। কিন্তু বাংলাদেশের ছেলে তানভীর অপু বেছে নিয়েছেন সড়কপথকেই। এরইমধ্যে বিশ্বের ৬৮টি দেশের ৭১৫টি শহর ঘুরেছেন তিনি। দূরত্বের হিসাবে যা প্রায় ১ লাখ কিলোমিটার। কোনো শহরে যাওয়ার আগে সেখানকার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সন্ধান করেন অপু। আগেই জেনে নেন সেখানে কোনো বিখ্যাত মানুষের বাড়ি বা জাদুঘর আছে কি-না, জাতীয় উদ্যান বা বিখ্যাত ভাস্কর্যের খোঁজও নেন। পরিকল্পনা পাকা করেই পথ ধরেন নতুন কোনো অজানা দর্শনে।

বিশ্ব পরিব্রাজক তানভীর অপুর পেশাগত জীবনে স্থায়ী কোনো চাকরি নেই। ঘুরতে ভালোবাসেন। এক শহর থেকে আরেক শহরে চলে যান হুটহাট করেই। ফলে স্থায়ী কোনো চাকরি করা সম্ভব হয় না। মন চাইলে আর পকেটে টাকা থাকলেই বেরিয়ে পড়েন ঘুরতে। কীভাবে সম্ভব? প্রশ্নটা আপনার মাথায় আসতেই পারে। অপু বলেন, ‘পরিশ্রমই হচ্ছে আমার সম্বল। খণ্ডকালীন বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হই। পয়সা জোগাড় হলেই বেরিয়ে পড়ি ঘুরতে। ভ্রমণের জন্য মনের ইচ্ছেটা জরুরি, অর্থ নয়। আমি সস্তা হোটেলে রাত কাটাই, সস্তা খাবার খাই, প্রচুর হাঁটি। নতুন একটা শহর হেঁটে হেঁটে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলি। জীবন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।’

৩৯ বছর বয়সী অপুর বেড়ে ওঠা রাজশাহীতে। মা মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক পদে চাকরি করতেন, বাবা ইব্রাহীম আলী দেওয়ান ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক। দুই ভাই, এক বোনের মধ্যে সবার বড় অপু। ২০০৬ সালে তিনি পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ডে পাড়ি জমান। এখনো থাকেন ফিনল্যান্ডে; দেশটির নাগরিকত্বও পেয়েছেন। তবে ভ্রমণে অনুপ্রাণীত হয়েছেন পাখিবিশেষজ্ঞ ইনাম আল হকের কাছ থেকে। তানভীর অপু বলেন, ‘ইনাম আল হকের অনুপ্রেরণায় ভ্রমণের প্রতি আগ্রহটা বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে আমার ছোট ভাই বিশ্ব পর্যটক তারেক অনু একশটিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করে অনুপ্রাণিত করেছে।’

শহরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সন্ধান করেন অপু

তানভীর অপু সর্বপ্রথম ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন ২০০৬ সালে। প্রথমে যান এস্তোনিয়ার রাজধানী তালিমে। এ সময় তিনি ভ্রমণ করেন জার্মানি, বেলজিয়াম, হল্যান্ড, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, লিথেনেস্টাইন ও চেক রিপাবলিকে। আর এ বছর ভ্রমণ করেছেন ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, পাঞ্জাব, মানালি, দিল্লি ও কুল্লুতে। যে দেশেই যান, লাল-সবুজের বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তানভীর অপু।

তানভীর অপুর ভ্রমণের পেছনের রহস্যটা কী? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে পৃথিবীটাই একটি দেশ। আমরা মানুষ, এটাকে ভাগ করেছি। এজন্য বিভিন্ন দেশ সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের যেমন ধরুন ৬৪ জেলা, আমাদের উচিত প্রতিটি জেলায় ভ্রমণ করা। আমাদের ভাষা বাংলা হলেও প্রতিটি জেলার ভাষার আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। খুলনায় যেমন সুন্দরবন আছে, সিলেটে আছে চা বাগান। সব দেখা উচিত। যখন ভ্রমণ শুরু করেছি, ভেবেছি পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে আমি পা রাখব।’

তানভীর দেশে দেশে ঘুরে বেড়ানোর ছবিগুলো নিয়ে চারটি প্রদর্শনী করেছেন। ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ করেছেন ‘যাত্রা হলো শুরু’ শিরোনামের একটি বইও। এখন স্বপ্ন দেখেন নিজের অভিজ্ঞতা স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে। নিজের স্বপ্নের কথা বলে যান, ‘বিভিন্ন দেশ ঘুরে আমার হয়তো অর্থ ফুরিয়েছে, কিন্তু জমে আছে অনেক গল্প। বিচিত্র সৃষ্টির ছবি-ভিডিও। এগুলোই আমার সম্পদ। এসবই আমি স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের দেখাতে চাই। ভ্রমণে আগ্রহী করতে চাই। স্বপ্ন দেখাতে চাই।’

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে