Alexa ‘স্যার একটা অটোগ্রাফ দিবেন প্লিজ’

‘স্যার একটা অটোগ্রাফ দিবেন প্লিজ’

গুরুদাসপুর (নাটোর)প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:০৪ ২২ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১১:১৫ ২২ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

পছন্দের মানুষটিকে কাছে পেয়েই শিক্ষার্থীদের মনে যেন আনন্দের বন্যা বইছিল। কেউ নিজের হাত এগিয়ে দিয়ে অটোগ্রাফ চাইছেন, আবার কেউ বই হাতে অটোগ্রাফ চাইছেন, আবার কেউবা মুঠোফোনে সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, কেউ আবার চাইছেন একবার হ্যান্ডশেক করতে। 

বলা হচ্ছে, নাটোরের গুরুদাসপুরের ইউএনও মো. তমাল হোসেনের কথা। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার পৌর সদরের বেগম রোকেয়া গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধ করণীয় সভা ও পিঠা উৎসব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে ঘিরে ধরেন শিক্ষার্থীরা।

হঠাৎ করেই অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী এসে ইউএনও তমাল হোসেনকে বলেন, ‘স্যার একটা অটোগ্রাফ দিবেন প্লিজ’। কোমলমতী শিক্ষার্থীর আবদার রেখে তার হাতে অটোগ্রাফ দেন ইউএনও। এক শিক্ষার্থীকে অটোগ্রাফ দিতেই উপস্থিত সব শিক্ষার্থী তাকে ঘিরে অটোগ্রাফ চান। ক্ষণিকের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা আনন্দে মেতে উঠেন।

প্রথম অটোগ্রাফ চাওয়া অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থী মেহজাবীন তার অনুভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানান, অনেক দিনের ইচ্ছা ছিলো স্যারের একটা অটোগ্রাফ নিবো এবং হ্যান্ডশেক করবো। আজ আমার সেই আশা পূরণ হয়েছে। বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিংয়ের প্রতিরোধে স্যারের বিভিন্ন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কারণে আজ আমরা নিরাপদে স্কুলে আসতে পারি। আগে বখাটে ছেলেরা বিরক্ত করতো এবং আমাদের অনেক বান্ধবীর বাল্যবিয়ে হয়ে যেতো। সেই ভয় এখন আমাদের নেই। কারণ বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিংয়ের মতো কোনো ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা স্যারকে সরাসরি ফোন করতে পারি এবং তা প্রতিরোধ করতে পারি।

ইউএনও তমাল হোসেন বলেন, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধ করতে সবার আগে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য আমি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভা ও ব্যতিক্রমী অনেক আয়োজন করেছি। নারীদের নিয়ে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। এছাড়া উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিলবোর্ড, লিফলেট, প্রচার মাইকসহ শিক্ষার্থীদের নিয়ে নাটিকারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতেই আমার এই আয়োজন করেছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর