Alexa স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হলো ‘স্বপ্নের সেতু’

স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হলো ‘স্বপ্নের সেতু’

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫৯ ৭ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৬:০০ ৭ নভেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে স্থানীয়দের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করা হয়েছে ৬০০ ফুট দৈর্ঘ্য সাঁকো। স্থানীয় শতাধিক যুবক কাঠ-বাঁশ দিয়ে ২৭ দিনে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করেন। সাঁকোটির নামকরণ করা হয়েছে ‘স্বপ্নের সেতু’।

আমরা স্বপ্ন নয়, স্বপ্ন পূরণ করতেই বিশ্বাসী এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে ধারণ করে স্থানীয় যুবকরা ‘স্বপ্নের সেতু’ নির্মাণ করেন।

গ্রামবাসী, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকার জেলে-কৃষকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাশ্রমে এ সাঁকো নির্মাণ করা হয়। এতে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগে থাকা শত-শত পরিবার পেয়েছেন সাময়িক স্বস্তি। তবে তারা স্থায়ীভাবে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে চান। 

‘স্বপ্নের সেতু’ নামের সাঁকোটি বুধবার বিকেলে উদ্বোধন করা হয়। তবে ব্যতিক্রমী এ উদ্বোধনীতে বিশেষ কেউ ছিলেন না। যারা স্বেচ্ছাশ্রমে এটি নির্মাণ করেছেন তারাই স্থানীয়দের নিয়ে ফিতা কেটে সাঁকোটি উদ্বোধন করেন। এ সময় সাঁকোটিকে সাজানো হয়। 

উপজেলার পাটওয়ারিরহাট ইউপির জারিরদোনা খাল ভেঙে চলাচলের রাস্তা (বেড়িবাঁধ) বিলীন হয়ে যায়। যে কারণে গত ৬ বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন থেকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে কাটলেও নজরে আসেনি কারো। উপায় না পেয়ে নিজেরাই নিজেদের চলাচলের জন্য সাঁকোটি নির্মাণ করেন। 

পাটওয়ারিরহাট উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় সেখানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধের ওপর দিয়ে পাটওয়ারিরহাট-খায়েরহাটে আসা-যাওয়া। খাল পাড়ের ওই বেড়িবাঁধটি ভেঙে গেলে চরম দুর্ভোগে পড়েন এলাকাবাসী। এদিকে চলাচলের রাস্তা না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে তুলতে পারেন না। শিক্ষার্থী যেতে পারে না স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায়। বর্ষা এলেই গৃহবন্দী হয়ে পড়েন এলাকাবাসী।

এমন দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় কমলনগর স্টার ক্লাব, স্টুডেন্ট ছাত্র সংসদ, জুনিয়র একতা সংঘ, স্টার ক্লাব ও নিউ তারুণ্য তরঙ্গ সংসদ নামে পাঁচটি সংগঠন সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেন। পরে তারা ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে টাকা, কাঠ ও বাঁশ সংগ্রহ করে সাঁকোটি নির্মাণ করেন।

কমলনগর স্টার ক্লাবের সহসভাপতি মো. মাকছুদুর রহমান বলেন, বছরের পর বছর দুর্ভোগ লাগবে আমাদের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই করা হয়নি। এলাকার যুবকেরা স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেছে। যে কারণে এ সাঁকোর নাম দেয়া হয়েছে ‘স্বপ্নের সেতু’। সাঁকোটি নির্মাণে তাদের ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। নিজেরা স্বেচ্ছায়শ্রম না দিলে নির্মাণ ব্যয় ৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেত।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, কমলনগর স্টার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, নিউ তারুণ্য তরঙ্গ সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আলম রাজা। 

এ ছাড়া বক্তব্য দেন নিরব, সাকের ওয়ারেছ, শাকিল তানভির, দিদার হোসেন, রাকিব হোসেন ও শাহেদ প্রমুখ। 


 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ