দীর্ঘ দুই মাস পর চলছে ট্রেন, স্বস্তিতে যাত্রীরা

দীর্ঘ দুই মাস পর চলছে ট্রেন, স্বস্তিতে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৩৩ ৩১ মে ২০২০   আপডেট: ১৩:১৭ ৩১ মে ২০২০

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে টিকিট নিচ্ছেন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে টিকিট নিচ্ছেন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের সব রুটে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ ছিলো। দীর্ঘ দুই মাস ছয় দিন পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে আন্তঃনগর ট্রেন। এতে যাত্রীদের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি। 

সরেজমিন রোববার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহীসহ বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে ট্রেন। এতে স্টেশনে কিছুটা হলেও ফিরে পেয়েছে চিরচেনা রূপ।

জানা গেছে, কমলাপুর স্টেশনে দুপুরের পর থেকে ট্রেনগুলো ঢাকা এসে পৌঁছাবে। বিকেল নাগাদ ঢাকা থেকে এসব ট্রেন আবার ছেড়ে যাবে। প্রথম ধাপে রেল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় বিভিন্ন রুটে মোট আট জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করবে।

আন্তঃনগর ট্রেন যাত্রী রাকিব হাসান লিটন ঢাকা থেকে দীর্ঘদিন গ্রামের  বাড়ি ফিরতে না পারায় ট্রেন ছাড়ার কথা শুনে স্বস্তির কথা জানালেন। অনেক দিন পর বাবা-মাকে দেখতে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে করে গ্রামের বাড়ি শান্তাহারে যাবেন। তিনি বলেন, ঈদে যেতে পারিনি। বাবা বাড়িতে অসুস্থ, তাও দেখতে যেতে পারিনি। তাই প্রথম দিনই অনলাইনে টিকিট কেটে রেখেছিলাম। আজ বাড়ি যাচ্ছি। খুব ভালো লাগছে।

এদিকে রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, স্টেশনগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানতে জীবাণুনাশক স্প্রে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, শারীরিক দূরত্ব মেনে আসন বিন্যাসসহ নানা ব্যবস্থা নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। অনেকটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রথম দিন যাত্রীদেরও ভ্রমণ করতে দেখা গেছে। 

রেলওয়ের তথ্য মতে, দ্বিতীয় ধাপে ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে আগামী ৩ জুন থেকে আরো ১১ জোড়া ট্রেন চালানো হবে বিভিন্ন রুটে। 

রাজশাহীর ট্রেন যাত্রী সাদিয়া আক্তার বলেন, এবার আমি প্রথমবার পরিবার ছাড়া একা ঈদ করলাম। একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। করোনাভাইরাসের কারণে যাতায়াতের কারণে গ্রামে যেতে পারিনি। অনেক দিন পর যাচ্ছি, ভাবতেই আনন্দ লাগছে। কতদিন পর সবার সঙ্গে দেখা হবে। 

বর্তমানে ট্রেনের অবস্থান সম্পর্কে রেলওয়ে সূত্রে আরো জানা যায়, সকালে সিলেট থেকে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে কালনী এক্সপ্রেস ছেড়ে এসেছে ঢাকার উদ্দেশে। চট্টগ্রাম থেকে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ঢাকার পথে রওনা দিয়েছে সকাল ৭টায়। চট্টগ্রাম থেকে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে বিকেল ৫টায় এবং চট্টগ্রাম থেকে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে সকাল ৯টায়।

রাজশাহী থেকে বনলতা এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে সকাল সাড়ে ৭টায়। খুলনা থেকে সকাল ৮টায় চিত্রা এক্সপ্রেস ঢাকার পথে রওনা দিয়েছে। পঞ্চগড় থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে দুপুর সাড়ে ১২টায়। এছাড়াও লালমনিরহাট থেকে লালমনিরহাট এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে সকাল ১০টায়। এ আট জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন আজ থেকে শিডিউল অনুযায়ী চলাচল করবে। 

দ্বিতীয় ধাপে আগামী ৩ জুন থেকে আরো ১১ জোড়া ট্রেন চলাচল করবে। সেগুলো হলো- ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার রুটে তিস্তা এক্সপ্রেস, ঢাকা-বেনাপোল রুটে বেনাপোল এক্সপ্রেস, ঢাকা-চিলাহাটি রুটের নীলসাগর এক্সপ্রেস, খুলনা-চিলহাটি রুটের রূপসা এক্সপ্রেস, খুলনা-রাজশাহী রুটের কপতাক্ষ এক্সপ্রেস, রাজশাহী-গোয়ালন্দঘাট রুটের মধুমতি এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের মেঘনা এক্সপ্রেস, ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটের কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস, ঢাকা-নোয়াখালী রুটের উপকূল এক্সপ্রেস, ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটের কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ও ঢাকা-চাঁদপুর রুটের ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস।

তবে আপাতত বিমানবন্দর, টঙ্গী, জয়দেবপুর স্টেশনে এসব ট্রেন থামবে না। যাত্রীদের কমলাপুর থেকেই ট্রেনে উঠতে হবে। এর আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ২৫ মার্চ থেকে বন্ধ করা হয় যাত্রীবাহী সব ট্রেন।         

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/জেডআর