Alexa স্বাস্থ্যঝুঁকি স্বত্ত্বেও বাড়ছে বাইরে খাওয়ার প্রবণতা

স্বাস্থ্যঝুঁকি স্বত্ত্বেও বাড়ছে বাইরে খাওয়ার প্রবণতা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৩৬ ১৩ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

ভয়ানক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ঢাকার নাগরিকদের ক্ষেত্রে বাইরে খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণের ফলে গ্যাস্ট্রিক, স্থূলতা, খাদ্যে বিষক্রিয়া, উচ্চরক্তচাপের মতো নানান স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছেন ঢাকার অধিকাংশ লোকজন। 

একশনএইড এবং ম্যাকম এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। 

গবেষণায় দেখা গেছে, জরিপে অংশগ্রহণকারী ঢাকার বিভিন্ন বয়সসীমার মানুষের প্রায় ৯০ শতাংশের দাবি তারা অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণের ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে অবগত আছেন। অপরদিকে এদের প্রায় ৭০ শতাংশই সমস্যাগুলোতে ভুগেছেন বা ভুগছেন। তবু অধিকাংশের মধ্যে বাইরে খাওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়। 

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষের মতে সবচেয়ে বেশি খাদ্য অপচয় হয় বিয়ের অনুষ্ঠানে।

এ গবেষণাটি ঢাকার বিভিন্ন বয়সের ও শ্রেণির খাদ্যগ্রহণের সার্বিক প্রবণতা বুঝতে সহায়তা করবে। 

গবেষণাপত্র উপস্থাপনকালে ম্যাকম-এর সহকারী ব্যবস্থাপক শারমিন হেলাল বলেন, গবেষণা পরিচালনার সময় দেখা যায়, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সসীমার মধ্যে ৯১ শতাংশ অংশগ্রহণকারীদের বাইরে খাওয়ার প্রবণতা বেশি। দ্রুত পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাস এবং বৃদ্ধিপ্রাপ্ত রেস্টুরেন্টের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি হচ্ছে ভোক্তাদের মধ্যে বাইরে খাওয়ার প্রবণতা। আর এদের মধ্যে ৪৪ শতাংশের পছন্দ ফাস্টফুড, ২৭ শতাংশের চাইনিজ, ১৪ শতাংশের ভারতীয় খাবার। তবে বাইরের এ সব খাবারের পাশাপাশি ৪৫ শতাংশের পছন্দের তালিকায় রয়েছে বাঙালি খাবারও।

এদের মধ্যে ৫০ শতাংশ রেস্টুরেন্টে খেতে যান মাসে ২ থেকে ৪ বার এবং ৯১ শতাংশের পছন্দ সেট মেনু অথবা মেনু কার্ড থেকে খাবার নির্বাচন করা। ৭ শতাংশ পছন্দ করেন বুফে। তবে বুফে খাওয়ার প্রবণতা ২৫ থেকে ৩০ উর্ধ্ব বয়সসীমার মানুষের মধ্যে তুলনামূলক বেশি, প্রায় ১১ শতাংশ।

২৫ থেকে ৩০ উর্ধ্ব মানুষের মধ্যে ৫৭ শতাংশ তাদের বেঁচে যাওয়া অতিরিক্ত খাবার পরবর্তীতে খাওয়ার জন্য রেখে দেন, ৩০ শতাংশ অন্যদের দিয়ে দেন এবং ৭ শতাংশ ফেলে দেন বলে এ জরিপে জানা গেছে।

খাদ্য অপচয়ের ক্ষেত্রে, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সসীমার ৫২ শতাংশ এবং ২৫ থেকে ৩০ উর্ধ্ব বয়সসীমার ৫৭ শতাংশ মনে করেন বিয়ের অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি খাবার অপচয় হয়।

অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এস এম মঞ্জুরুল হান্নান খান, জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি রিচার্ড র‌্যাগান, একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির এবং শেফ টনি খান। 

ড. এস এম মঞ্জুরুল হান্নান খান বলেন, খাবার অপচয়ের ক্ষেত্রে পারিবারিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ, যা বর্তমানে কমে যাচ্ছে। রেস্টুরেন্টগুলোর আকর্ষণীয় অফার ও বিভিন্ন দিবসের বাণিজ্যিকীকরণের ফলে বাইরে খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অপরদিকে প্যাকেজিং-এ প্রচুর প্লাস্টিক ব্যবহার হচ্ছে যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত হুমকি স্বরুপ। বিভিন্ন গবেষণামতে, আমরা যে পরিমাণ প্লাস্টিক উৎপাদন করছি তাতে ২০৫০ সালে সমুদ্রে মাছের থেকে প্লাস্টিক বেশি থাকবে।

তিনি বলেন, সরকার প্লাস্টিক বন্ধ করার জন্য আইন প্রণয়নে এবং পাশাপাশি প্লাস্টিকের বিকল্প তৈরিতে কাজ করছে। তবে শুধু আইন দ্বারা প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ সম্ভব নয়। সব স্তরের মানুষকে প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। খাদ্য অপচয় রোধে পরিমিত খাবার গ্রহণের আচরণের দিকে আমাদের যেতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি।

জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি রিচার্ড র‌্যাগান বলেন, বর্তমান সময়ে বাইরে খাওয়া একটি বিনোদনের মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, আমরা বাইরে গিয়ে খাবার খাই এবং ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করতে পছন্দ করি। বিশ্বায়নের ফলে আমাদের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে খাবার অপচয়ের ক্ষেত্র।

পানি অপচয়ের বিষয়টিও উঠে এসেছে এ গবেষণার মধ্য দিয়ে। গোসল এবং কাপড় ধোয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পানি অপচয় হয় বলে মনে করেন জরিপে অংশগ্রহণকারীরা। ৮৮ শতাংশ মানুষ বোতলজাত মিনারেল পানি ব্যবহার করেন।

ঢাকার ৫টি এলাকা- উত্তরা, গুলশান-বনানী-বারিধারা, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি এবং পুরান ঢাকার ১৫০০ মানুষের ওপর এ গবেষণাটি পরিচালিত হয় যেখানে অতিরিক্ত খাদ্যভোগের প্রবণতার ফলে খাদ্য অপচয়ের হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই