স্বামীর সংসারে সুখী হতে চেয়েছিলেন, স্বামীই কেড়ে নিল জীবন

স্বামীর সংসারে সুখী হতে চেয়েছিলেন, স্বামীই কেড়ে নিল জীবন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৪:২৬ ১২ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ০৪:৫২ ১২ আগস্ট ২০২০

স্বামীর ছুরিকাঘাতে নিহত মরিয়ম আক্তার

স্বামীর ছুরিকাঘাতে নিহত মরিয়ম আক্তার

পাঁচ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছেন মরিয়ম আক্তার। এরপর তার ঠাঁই হয় দুলাভাই রিয়াজুল ইসলামের কাছে। রিয়াজুল তাকে লালন-পালন ও পড়াশোনা করান। এক বছর আগে বিয়ে হয় মরিয়মের। ছোটবেলা থেকেই বাবার স্নেহ বঞ্চিত মরিয়ম ভেবেছিলেন স্বামীর ঘরে গিয়ে সুখের মুখ দেখবেন। কিন্তু তা আর হলো না। যৌতুক না পেয়ে স্বামীর ছুরিকাঘাতে মৃত্যু হয় তার।

নিহত মরিয়ম আক্তার লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার সেবক দাস গ্রামের মোস্তফা আলীর মেয়ে।

জানা গেছে, এক বছর আগে তিন লাখ টাকা যৌতুকে পার্শবর্তী ইউপির উত্তর বালাপাড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মো. সোহাগের সঙ্গে বিয়ে হয় মরিয়মের। ওই সময় কথা হয় যৌতুক বাবদ আরো টাকা দিতে হবে। তবে টাকার অংক নির্ধারণ করা ছিল না।

মরিয়মের দুলাভাই রিয়াজুল জানান, বিয়ের কিছুদিন পরই মরিয়মকে তার বাড়িতে রেখে ঢাকায় চলে যান স্বামী সোহাগ। এরপর থেকে কোনো যোগাযোগ করেননি। ঈদে ঢাকা থেকে ফিরে স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে যান তিনি। ঈদের ছুটি কাটিয়ে সোহাগ ঢাকায় ফেরার সময় তার সঙ্গে যাওয়ার বায়না ধরেন মরিয়ম। এ বায়নাই কাল হয়ে দাঁড়ায় মরিয়মের। ৪ আগস্ট স্বামী, তার ভাই-বোন ও শ্বশুরের হাতে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। এক পর্যায়ে ছুরি দিয়ে মরিয়মের কোমরে আঘাত করেন স্বামী সোহাগ। এতে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। এরপর সোহাগ পালানোর চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।

রিয়াজুল আরো জানান, গুরুতর অবস্থায় মরিয়মকে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সাতদিন পর সোমবার সেখানেই মৃত্যু হয় মরিয়মের। মঙ্গলবার বিকেলে বাবার বাড়ি সেবক দাস গ্রামে তাকে দাফন করা হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি আরজু মো. সাজ্জাদ জানান, অভিযুক্ত সোহাগকে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর