স্বপ্ন পূরণ দিচ্ছে ডাক

স্বপ্ন পূরণ দিচ্ছে ডাক

ডেস্ক রিপোর্টার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:১৩ ১৭ মে ২০১৯   আপডেট: ১৪:৪৮ ১৭ মে ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালের মহারণে আজ  উন্ডিজের মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ। চলমান সিরিজে আগের ২ ম্যাচে উইন্ডিজকে দাপটের সঙ্গে হারিয়ে  আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান টিম বাংলাদেশ। অন্যদিকে টাইগারদের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ হেরে স্বভাবতই মানসিকভাবে পিছিয়ে থাকবে ক্যারিয়ীয়ানরা।

শুক্রবার ডাবলিনের ম্যালাহাইড ক্রিকেট গ্রাউন্ডে উইন্ডিজদের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। দুই দলের লড়াই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টিভি ও বিটিভি।

পুরো সিরিজ এর আগেও দাপট দেখিয়ে জিতেছে বাংলাদেশ। কিন্তু হঠাত করেই ফাইনালে এসে খেই হারিয়ে ফেলা যেন অভ্যাসে পরিণত করেছে টিম টাইগাররা। এর আগেও ফাইনালের কাছে গিয়ে ছুঁয়ে দেখা হয়নি আরাধ্য ট্রফি। স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় জার্সির আড়ালে মুখ গুজে কাঁদতে হয়েছে বহুবার। সাকিব-মুশফিকদের চোখের অশ্রুতে ভেসে গেছে স্বপ্নের ট্রফি।

ভক্ত সমর্থকদেরও হতাশ হতে হয়েছে বার বার। টিভির সামনে বসা লক্ষ কোটি ক্রিকেট পাগল প্রাণ চোখের পানি ঝড়িয়েছেন। স্কুল পড়ুয়া ছেলেটাও টিভির সামনে বসে খেলা দেখেছে একটা ট্রফির আশায়। রিকশাওয়ালা লোকটাও স্বপ্ন ভঙ্গে ভুলে গেছে জীবিকার তাগিদ। গামছায় মুখ গুজে লুকিয়ে আড়াল করেছে চোখের পানি। আবার আশায় বুক বেঁধেছে তারা । চাতক পাখির মত চোখ মেলে তাকিয়ে আছে বাংলার দামাল টাইগারদের দিকে। হয়তো ওরাই একদিন কোটি মানুষের চোখের পানি একটা ট্রফি জয়ে স্বার্থক করে দেবে। 

বাংলাদেশে প্রথম স্বপ্ন ভঙ্গের স্বাক্ষী হয়েছিলো ২০০৯ সালে। সেবার স্বাগতিক বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে ও লংকানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ৩ জাতির টুর্নামেন্ট। ফাইনালে টাইগাররা ২ উইকেটের পরাজয় বরণ করে লংকানদের কাছে। 

২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টাইগাররা হেরেছিল ২ রানের ব্যবধানে। সেই ২ রানে পরাজয়ের কান্না এখনো দাগ কেটে আছে শত কোটি ক্রিকেট প্রেমীর মনে।

২০১৬ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরেছিল মাশরাফীর দল। ২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে শেষ বলে জয় পায় ভারত। একই বছর এশিয়া কাপের ফাইনালে আবারো টাইগারদের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। এবারো ইনিংসের শেষ বলে জয় তুলে নেয় ভারতীয়রা।

আজ পারবে কি বহুজাতিক টুর্নামেন্টে অধরা সেই ট্রফি নিজেদের করে নিতে? পারবে কি ট্রফিতে চুমু খেয়ে দু’হাতে ট্রফি উচিয়ে বিগত কষ্ট গুলো ভুলিয়ে দিতে? জানতে হলে চোখ রাখতে হবে আজকের (১৭মে ) বাংলাদেশ-উইন্ডিজ ম্যাচের দিকে। 

তবে মাশরাফীর কাছে ‘সম্ভব’ সেই স্বপ্ন জয় । তিনি মনে করেন টানা দূর্দান্ত তিন জয়ে দারুন আত্মবিশ্বাসী টিম টাইগার। ফাইনাল জয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম ৩০০ স্কোর তাড়া করা সম্ভব। বোলিংয়ে আবু জায়েদ অসাধারণ করেছে। আমাদের ব্যাটিংটা ভালো হয়েছে, বিশেষ করে টপ-অর্ডারদের। আমরা সিরিজের তিন ম্যাচই জিতেছি এবং ফাইনালের ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী।

মাঠের লড়াইয়ের আগে পরিসংখ্যান কি বলছে জেনে নেই। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৪ টি ম্যাচে মুখোমুখী হয় বাংলাদেশ-উইন্ডিজ। যেখানে বাংলাদেশের ১১ জয়ের বিপরীতে উইন্ডিজের জয়  ১১ টি। 

তবে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে বদলে গেছে সব সমীকরণ। এখন মাশরাফী-সাকিবরা অনেক পরিণত। ক্রিকেটীয় মেধার জোরে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং এ তিন বিভাগে উন্নতি করে দারুনভাবে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। পঞ্চপান্ডবে ভর করে ক্রিকেট বিশ্বের বাঘাবাঘা দলগুলিকেও নাকানি-চুবানি খাইয়ে ছেড়েছে।  

২০১৫ সালের পর থেকে উইন্ডিজ-বাংলাদেশ মুখোমুখী হয়েছে মোট ৬ টি ম্যাচে। যার ৪ টিতেই জয় টাইগারদের। ২ টি ম্যাচ জিতেই সন্তষ্ট থাকতে হয়েছে ক্যারিবীয়ানদের। 

বাংলাদেশ-উইন্ডিজ এর মধ্যকার ম্যাচে সর্বাধিক রানের মালিক টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল খান। ২৪ ম্যাচ খেলে ৪১.২৮ গড়ে ৮৬৭ রান করেছেন তিনি। ক্যারিবীয়ানদের বিপক্ষে তার শতক রয়েছে ২ টি। দ্বিতীয় স্থানে আছেন মুশফিকুর রহিম। ২৪ ম্যাচে ৪৬.৮৩ গড়ে ৮৪৩ রান করেছেন তিনি। তৃতীয় স্থানটি অবশ্য ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং দানব, ইউনিভার্স বস ক্রিস গেইলের। ২১ ম্যাচে ৩৪ গড়ে ৬৬১ রান তার। 

বোলিং এ সর্বাধিক উইকেটের মালিক যৌথভাবে বাংলাদেশ দলপতি মাশরাফী ও উইন্ডিজের কেমার রোচ। ১৮ ম্যাচে সমান ৩০ উইকেট নিয়ে একই অবস্থানে আছেন রোচ। মাশরাফী অবশ্য ১ ম্যাচ কম খেলেই ৩০ উইকেট শিকার করেন। 

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ 
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার/লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মাদ মিথুন, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, মেহেদী মিরাজ, মাশরাফি মোর্তাজা, মুস্তাফিজুর রহমান, আবু জায়েদ রাহী/সাইফউদ্দিন।

উইন্ডিজের সম্ভাব্য একাদশ
শেই হোপ, সুনিল আম্ব্রিস, ড্যারেন ব্র্যাভো, রস্টন চেজ, জোনাথন কার্টার, জেসন হোল্ডার, ফাবিয়েন এলেন, এশলে নার্স, কেমার রোচ, শেলডন কটরেল, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল।

ডেইলি বাংলাদেশ/জাহা/সালি