স্বদেশিদের প্রতি অত্যাচার, ইতালিতে ২ বাংলাদেশি দালাল গ্রেফতার

স্বদেশিদের প্রতি অত্যাচার, ইতালিতে ২ বাংলাদেশি দালাল গ্রেফতার

ইতালি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৮:৫৯ ২৪ জুন ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় কালাব্রিয়া বিভাগের কোসেনছা প্রভিন্সের এক কৃষি খামারে বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রতি নিপীড়নের ভয়াবহ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বাংলাদেশিদের দুঃখ দুর্দশার গল্প গতকাল মঙ্গলবার ইতালির জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ হয় বেশ ফলাও করে। জানা গেছে, ওই খামারে রীতিমতো গিনিপিগ বানিয়ে রাখা হয়েছিলো ওই বাংলাদেশিদের। পরে অত্যাচার সইতে না পারা এক বাংলাদেশির অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেশটির পুলিশ ফোর্স বিশেষ অভিযান পরিচালনা করলে বেরিয়ে আসে অন্ধকার জগতের ন্যক্কারজনক বাস্তবতা। 

সুনির্দিষ্ট অভিযোগে খামারের ৫ ইতালিয়ান মালিক জেন্নারো, ফ্রাঞ্চেস্কো, রক্কো, সাভেরিও এবং রবের্তোকে গ্রেফতার করা হয়। এদের সহযোগী হিসেবে আটক হয়েছে দুই বাংলাদেশি দালাল আনোয়ার হোসেন মিজান এবং কাকন দাস।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কাগজপত্রের দিক দিয়ে অনিয়মিত বা অবৈধ হলেও হাজার হাজার মাইল দূরের অন্য মহাদেশ থেকে আসা এসব অভিবাসীরা যতটা না নিরব স্বভাবের তার চাইতে ছিলো বেশি কর্মঠ। এতো এতো গুণ থাকা সত্ত্বেও নিপীড়িত এসব বাংলাদেশিদের দুঃখ দুর্দশার গল্প জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। 

প্রকাশিত খবরে কোসেনছা প্রভিন্সের পাওলা এরিয়ার প্রসিকিউটর পিয়েরপাওলো ব্রুনি এবং ম্যাজিস্ট্রেট মারিয়াগ্রাৎসিয়া এলিয়া জানান, হাজার হাজার মাইল বিপদসংকুল ভয়ংকর পথ পাড়ি দিয়ে স্বদেশী দালালদের মাধ্যমে ইতালি আসার পর ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সী এসব হতভাগ্য বাংলাদেশিদের নিয়ে এখানকার স্থানীয় কাজের বাজারে যা ঘটেছে তা রীতিমতো ভয়ংকর। ঘণ্টায় মাত্র ১ ইউরো ৫০ সেন্ট পারিশ্রমিক দিয়ে ক্ষান্ত হয়নি খামার মালিক, গালিগালাজ ও হুমকিধামকিতে টানা ২৬ ঘণ্টার শিফটেও কাজে বাধ্য করতো শ্রমিকদের। দিন শেষে ভাঙা টয়লেট সমৃদ্ধ ছোট এপার্টমেন্টে ১০ জনকে রাখা হতো গাদাগাদি করে।

নিপীড়ন আর বঞ্চনার শেষ ছিলো না খামারে। আটককৃত ৫ মালিক এবং পালিত দালাল ও সহযোগী সাঙ্গপাঙ্গরা খামারের অভ্যন্তরে নিজেরা চেয়ার টেবিলে বসে খাবার খেলেও ভিন্ন রঙের অন্য চামড়ার 'গিনিপিগ' বাংলাদেশিকে খাবার খেতে দেয়া হতো তাদের সামনেই মাটিতে লাইন ধরে বসিয়ে।

স্থানীয় পুলিশের উপপ্রধান জুসেপ্পে জানফিনি কর্তৃক পরিচালিত অপারেশনে অবশেষে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় অপরাধীদের। দেড় ইউরো ঘন্টা বেতন আর টানা ২৬ ঘন্টার শিফট ডিউটির লোমহর্ষক খবরে নিন্দার ঝড় বইছে ইতালিয়ানদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ