Alexa স্ত্রী-সন্তানদের নির্যাতনে ঘর ছাড়া প্রবাস ফেরত বৃদ্ধ গফুর

স্ত্রী-সন্তানদের নির্যাতনে ঘর ছাড়া প্রবাস ফেরত বৃদ্ধ গফুর

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৪৬ ২২ জানুয়ারি ২০২০  

ভুক্তভোগী গফুর আলম

ভুক্তভোগী গফুর আলম

৩০ বছর স্ত্রী-সন্তানদের সুখের জন্য জীবনের মূল্যবান সময় প্রবাসে কাটিয়েছেন গফুর আলম। তবে একেবারে দেশে ফিরে এসে স্ত্রী-সন্তানদের ইয়াবার ব্যবসা দেখে হতবাক তিনি। দুঃখ কিন্তু এখানেই শেষ নয়, এখন স্ত্রী ও সন্তানদের অত্যাচারে ঘরছাড়া জীবন পার করছেন বৃদ্ধ গফুর আলম।

প্রবাস ফেরত গফুর আলম কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউপির থাইংখালী পণ্ডিত পাড়ার বাসিন্দা। তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে কিশোর বয়সে সৌদি আরব পাড়ি জমাই। ১৯৮৪ সালে দেশে এসে একই উপজেলার গৌজঘোনার সুলতানা রাজিয়াকে বিয়ে করি। বিয়ের কয়েক মাসের মাথায় আবারো সৌদিতে পাড়ি জমাই। তবে প্রতি বছর দেশে যাতায়াত করি। এতে দুই ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম হয়। স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দীর্ঘ প্রবাস জীবন কাটাই এবং সন্তানদের শিক্ষিত করার চেষ্টা করি।

তিনি আরো বলেন, দেশে ফেরার আগে প্রবাসের সব আয় করা টাকা স্ত্রী ও ছেলেদের কাছে পাঠিয়ে দেই। কিন্তু তারা সেই টাকায় ইয়াবা ব্যবসা শুরু করে। কয়েক মাস আগে ঢাকা বিমানবন্দরে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ছেলে মুবিন ও তার সঙ্গী জসিম উদ্দীন আটক হয়। তবে মুবিন কৌশলে পালিয়ে যায়।

গফুর আলমের দাবি, থানার পুলিশদের সঙ্গে ভালো সম্পর্কে রয়েছে তার ছেলে মুমিনের। তাই মামলার আসামি থাকা সত্ত্বেও তাকে পুলিশ ধরে না।

তিনি আরো বলেন, ২০১৭ সালের মাঝামাঝি দেশের আসার পর ঘরে স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের দেখতে পাইনি। পরে স্বজনদের মাধ্যমে জানতে পারি, তারা পাঁচ বছর থেকে কক্সবাজার শহরে ভাড়া বাসায় থাকে। এছাড়া ছেলেরা এলাকায় ইয়াবা ব্যবসায় লিপ্ত। এদিকে আমি দেশে আসায় সব সহায় সম্পত্তি তাদের নামে লিখে দিতে চাপ সৃষ্টি করে। এমনকি দুই ছেলে সাক্ষী হয়ে আমার বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করে স্ত্রী।

কেঁদে কেঁদে এ বাবা বলেন, ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ছেলে নুরুল আবসার ও কাইছার মুবিন লোকজনের সামনে আমাকে মারধর করে। এছাড়া মায়ের উসকানিতে ছেলেরা আমাকে চার বার মারধর করে। এ নিয়ে স্থানীয়রা সালিশ করেও সুরাহা করতে পারছেন না। বরং নিজের পরিশ্রমে গড়া ঘরেও থাকতে দিচ্ছে না তারা। এতো নির্যাতনের প্রতিবাদ ও প্রতিকার চেয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

গফুর আলমের ভাই ফরিদ আলম বলেন, বৃদ্ধ ভাইকে নিয়ে সর্বদা আতঙ্কে থাকি। যেকোনো সময় ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত ছেলেরা বাবাকে হত্যা করতে পারে। 
উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন  প্রবাসে থেকে দেশে এসেছেন গফুর আলম। কিন্তু ছেলেরা তাকে শারীরিক নির্যাতন করছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইউএনওকে বলা হয়েছে।

ইউএনও মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বৃদ্ধ বাবাকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগটি থানায় পাঠানো হয়েছে। এরইমধ্যে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

উখিয়া থানার এসআই মো. নুরুল হক জানান, অভিযোগটি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ