স্ত্রীকে শায়েস্তা করতে সহযোগীকে দিয়ে ধর্ষণ, গ্রেফতার ১

স্ত্রীকে শায়েস্তা করতে সহযোগীকে দিয়ে ধর্ষণ, গ্রেফতার ১

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:১৯ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বগুড়ায় নির্যাতন ও সহযোগীকে দিয়ে নিজ স্ত্রীকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। নির্যাতিত গৃহবধূ বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

ওই ঘটনায় নির্যাতিত গৃহবধূর স্বামী রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে তার সহযোগীকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি।

জানা গেছে, বগুড়া শহরের শাজাহানপুর থানার চকলোকমান এলাকায় এক পরিবহন প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার রফিকুল ইসলাম শনিবার দুপুরে তার এক সহযোগীকে নিয়ে স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালান। ঘটনার সময় বাড়ির দরজা বন্ধ থাকলেও তারা প্রাচীর টপকে ভিতরে প্রবেশ করে গৃহবধূর হাত-মুখ বাঁধে। 
গৃহবধুর অভিযোগ, তার স্বামী তাকে শায়েস্তা করতে সহযোগীকে দিয়ে ধর্ষণ করান। তাকে মারপিট ও মাথার চুল কেটে দেয়ার পর ব্লেড জাতীয় কিছু দিয়ে শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে দাহ্য পদার্থ শরীরে ঢেলে দেয়া হয়। এরপর শরীরে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে ওই দুইজন। পরে স্থানীয়রা গৃহবধূকে উদ্ধার করেন।

শাজাহানপুর থানার থানার ওসি (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আম্বার হোসেন জানান, তারা ঘটনাস্থল থেকে কাটা চুল ও গৃহবধূর পুড়ে যাওয়া কাপড় উদ্ধার করেছেন। রোববার দুপুরে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকা থেকে মামলায় অভিযুক্ত নির্যাতিত গৃহবধূর স্বামী রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি হানিফ পরিবহনের সুপারভাইজার। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখন তার সহযোগীকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

তিনি আরো জানান, ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনায় নির্যাতিত গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় নারী নির্যাতন আইনে স্বামী রফিকুলসহ দুইজনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রফিকুল বগুড়ার গাবতলি উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা দক্ষিনপাড়া গ্রামের তোজাম্মেলের ছেলে। নির্যাতিত মেয়েটির সঙ্গে নয় বছর আগে প্রেমের পর তাদের বিয়ে হয়েছিল। তারা চকলোকমান এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তবে দাম্পত্য বিরোধ ছিল।

এদিকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, নির্যাতিত নারীর শরীরের যে অংশ পুড়ে গেছে তা আশঙ্কাজনক নয়। ধর্ষণের বিষয়ে মেডিকেল পরীক্ষা হয়েছে। এখন ক্ষতজনিত চিকিৎসার জন্য তিনি চিকিৎসাধীন। তবে তার মানসিক অবস্থা নাজুক।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম