Alexa স্ত্রীকে রেখে যাননি রিফাত

স্ত্রীকে রেখে যাননি রিফাত

সোহেল রাহমান ও এস রাকিব ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৪২ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

জ্বলছে ভবন, জ্বলছে সড়ক,জ্বলছে নিরাপদ আশ্রয়স্থল ঘরও। সবাই ছুটছেন বাঁচতে। কিন্তু রয়ে গেলেন রিফাত, কেননা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রিয়া যে নামতে পারছেন না। তাই ভালোবাসার মানুষ দুটি পরস্পরকে আলিঙ্গন করে আগুনেই জ্বলে মরলেন দম্পতি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা স্বজনদের মরদেহ খুঁজছেন সবাই। বন্ধু-বান্ধবী রিফাত-রিয়াকে খুঁজছেন আল-আকসার সাজিদ। 

সাজিদে জানান, ভালোবেসে দুই বছর আগে বিয়ে করেন তারা। ছিলেন ওয়াহেদ ম্যানশনে। রিয়া ছিলেন গর্ভবতী। যখন আগুন লাগে তখন তাদের সঙ্গে পরিবারের কথা হয়। ওই সময় রিফাত জানায় রিয়া নামতে পারছেন না। স্ত্রীকে নামাতে না পারায় সেও নামেনি। ফলে দুইজনই পুড়ে ছাই।

স্বজনের আহাজারিতে চুড়িহাট্টা থেকে ঢাকা মেডিকেল মর্গ, যেন ভয়ঙ্কর চিত্র। শুধু চকবাজার-ঢামেক নয়, গোটা দেশই এখন স্তব্ধ। ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে শোকে কাতর পুরো জাতি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে শুধু লাশ আর লাশ। সারি বেঁধে লাশগুলো রাখা হয়েছে বারান্দায়। দেখে মনে হচ্ছে লাশ রাখার ঠাঁই হচ্ছে না হাসপাতালে। বেশিরভাগ নিহতের শরীর পুড়ে অঙ্গার। চেহারা বোঝা মুশকিল। ডিএনএ টেস্ট ছাড়া লাশ শনাক্ত করা মুশকিল।

ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান জানান, এরআগে বলেছিলাম ৭০ জন নিহত হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রাপ্ত বিভিন্ন খবরে বুঝা যাচ্ছে নিহতের সংখ্যা ৮০ বা ৮১ হতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ একটি ডেড বডির জায়গায় দু-তিন টি ডেড বডিও রাখা হয়েছে।

নিহত ৮১ জনের মধ্যে ৪১ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন নারী, দুই শিশু ও ৩৭ জন পুরুষ। যাদের শনাক্ত করা গেছে তাদের মরদেহ হস্তান্তর হচ্ছে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে চলছে হস্তান্তর।

ডেইলি বাংলাদেশ//এসআর/এমএস/এলকে