Alexa স্কুলের ফান্ড লুটছেন প্রধান শিক্ষক-সভাপতি

স্কুলের ফান্ড লুটছেন প্রধান শিক্ষক-সভাপতি

হোসাইন আহমদ কবির, মুকসুদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৫৪ ১৬ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখছে জলিরপার ইউপির বানিয়ারচরের সূর্য্যকান্ত জানকী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির লুটপাটে তিলে তিলে গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আজ ধ্বংসের মুখে।

স্কুল কমিটির সদস্য ও অভিভাবকরা জানান, কমিটির সভাপতি সমীর মণ্ডল ও প্রধান শিক্ষক রঞ্জন বালা স্কুলের ফান্ডে লুটপাট চালাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ করার পরও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

অভিযোগকারী বাসুদেব মণ্ডল জানান, ৩০ মে কোনো কারণ না দেখিয়ে স্কুলের তহবিল থেকে এক লাখ টাকা তোলেন সমীর মণ্ডল। বিষয়টি ইউএনওকে জানানোর কয়েক মাস পরও কোনো সুরাহা মেলেনি।

তিনি জানান, সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয়দের চাপে ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ডাকা হয়। ওই সময় পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ৯০ হাজার টাকা ফেরত দেন সমীর মণ্ডল।

সূর্য্যকান্ত জানকী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এ বছর জানুয়ারিতে অ্যাকাউন্টে এক লাখ ৭৫ হাজার সাতশ টাকা জমা হয়েছে। আবার সেখান থেকে দুই দফায় ৬০ হাজার টাকা কোনো কারণ না দেখিয়েই তুলে নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক রঞ্জন বালা। একইভাবে ফেব্রুয়ারিতে জমা হয়েছে ১১ হাজার টাকা, তোলা হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা।  মার্চে জমা হয়েছে ১৭ হাজার টাকা, তোলা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা।  এপ্রিল মাসে জমা হয়েছে ৯১ হাজার টাকা, তোলা হয় ২০ হাজার। মে মাসে কোনো রেজ্যুলেশন বা ভাউচার না দেখিয়েই এক লাখ টাকা তুলে নেন কমিটির সভাপতি সমীর মণ্ডল।

এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষকের পরিবার ভারতে থাকে। তিনি প্রতি মাসে বাংলাদেশের টাকা নিয়ে সেখানে যান।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে ভুয়া ভাউচার ও হিসাবে গরমিল দেখিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার বিষয়টি উঠে আসে।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মন্মথ বৈরাগী বলেন, আমি কমিটির নির্বাচিত অভিবাবক প্রতিনিধি। এবার আমারই সভাপতি হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু রাজনৈতিক দোহাই দিয়ে এক ছাত্রনেতাকে সভাপতি করা হলো। ছাত্রনেতাও একজন ছাত্র। তার হাতে শিক্ষকের বেতন ভাতা-খবরদারি থাকলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, একে তো জুনিয়র স্কুল, শিক্ষক সংকট তার উপর প্রধান শিক্ষক প্রতি মাসেই ভারতে যান। এতে স্কুলের মান ও শিক্ষার মান দুটোই নষ্ট হচ্ছে। আমরা এতোদিন সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের উপর সবকিছু ছেড়ে দিয়ে ভুল করেছি। এখন থেকে ম্যানেজিং কমিটিই সব কিছুর দেখভাল করবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহাদাত আলী মোল্লা জানান, সূর্য্যকান্ত জানকী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযুক্ত সমীর মণ্ডল বলেন, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে টাকা নিয়েছিলাম। অভিযোগ ওঠায় ফেরত দিয়েছি। এটা নিয়ে সংবাদপত্রে লেখার কি আছে? সংবাদ প্রকাশ না করে আসুন চা খেয়ে যান।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর