Alexa সৌন্দর্যমণ্ডিত খেতাবে পৃথিবীর কুৎসিততম নারী

সৌন্দর্যমণ্ডিত খেতাবে পৃথিবীর কুৎসিততম নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২২ ১৮ জানুয়ারি ২০২০  

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

সৌন্দর্য বিষয়টি পুরোপুরিই বিমূর্ত, অবস্তুগত। এর কোনো সংজ্ঞা  হয় না। কোন ব্যাখ্যা দিয়েও হয়তো এর ব্যাপ্তি বোঝানো সম্ভব না। তবুও আমাদের সমাজ কাউকে কাউকে সুন্দর বা অসুন্দরের খেতাব দিয়ে থাকে। এই খেতাব প্রদানের সময় ভাবা হয় না যে, সৌন্দর্য ও অসুন্দরের ব্যাখ্যা সার্বজনীন নয়।
আমাদের পৃথিবী এক নারীকে ‘পৃথিবীর কুৎসিততম নারী’র খেতাব দিয়েছিল। তবে জগতের দেওয়া এমন সীমাকে অতিক্রম করে অনন্য হয়ে উঠেছেন এ নারী। জয় করেছেন সৌন্দর্যমন্ডিত খেতাব। নাম লিজি ভালসাকেজ। জন্মেছিলেন ১৩ মার্চ ১৯৮৯ তে টেক্সাসের অস্টিনে। এখন তাঁর বয়স ২৭ বছর। দেখতে রীতিমত ভয়ংকর, কুৎসিত, যার একটি চোখ ও অন্ধ। সর্বনিম্ন ওজন থাকা উচিত ৫৪ কেজি। কিন্তু লিজির ওজন মাত্র ২৯ কেজি। যতদিন তিনি বেঁচে থাকবেন তার পক্ষে ২৯ কেজির বেশি ওজন বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়।

পুরো পৃথিবীতে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র দুজন। লিজি ভালসাকেজ এবং আবি সলোমন নামের আরেকজন নারী। সেবা কিংবা কোনো চিকিৎসায় এই রোগ ভালো হবার নয়। লিজি ভালসাকেজ উচ্চতায় পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি। মাতৃগর্ভে প্রায় ৩৮ সপ্তাহ থাকার পরে সাধারণত শিশুর জন্ম হয়। কিন্তু মায়ের সমস্যার কারণে চার সপ্তাহের প্রি-ম্যাচিওর শিশু হিসেবে তিনি জন্ম নিয়েছিলেন। ওজন ছিল মাত্র ২ পাউন্ড ১১ আউন্স। চিকিৎসকরা জানালেন, লিজি কোনোদিন কথা বলতে পারবে না, হাঁটাচলা করতে পারবে না, এমনকি নিজে নিজে হামাগুড়িও দিতে পারবে না।


বাহ্যিক অবয়বের জন্য ছোটবেলা থেকেই প্রচণ্ড বুলিং বা টিটকারির শিকার হয়েছিলেন তিনি। আশেপাশের মানুষদের থেকেই নয়, মারাত্মকভাবে সাইবার বুলিংয়ের শিকারও হয়েছেন। প্রায় প্রতিটি মানুষই বুলিংয়ের তিক্ততার মুখামুখি হয়। কিন্তু তার ক্ষেত্রে এটি ছিল মাত্রাতিরিক্ত। ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত তাকে নিয়ে আলোচনার মতো কিছুই ঘটেনি। তখন ২০০৬ সাল। হাইস্কুলে পড়ার সময় তাঁকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল একটি ইউটিউব ভিডিও। পৃথিবীর মানুষ তাঁর নাম দিয়েছিল বিশ্বের কুৎসিত মেয়ে বা আগলিয়েস্ট গার্ল। ভিডিওটি ব্রডকাস্ট হওয়ার অনেকেই তাকে উদ্দেশ্য করে বলতেন- আত্মহত্যা করতে, সবার থেকে লুকিয়ে থাকতে, মুখ ঢেকে রাখতে। কিন্তু সেইসব কিছু কানে না নিয়ে তখনই নিজের জীবনের লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছিলেন লিজি।

ছবিঃ `ডেয়ার টু বি কাইন্ড` বইয়ের প্রচ্ছদ

২০১২ সালে আমেরিকার টেক্সাস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমিউনিকেশন স্টাডিজে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। জনসচেতনতা, এন্টি-বুলিং, মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য ইত্যাদি নিয়ে তিনি প্রেরণা উদ্দীপক বক্তব্য দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে ‘টেডটক’ সংগঠনের আহবানে বক্তৃতা দিয়েছেন যার শিরোনাম ছিল ‘হাউ ডু ইউ ডিভাইন ইওরসেলফ’। ভেরিফাইড নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল আছে, যার সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা এ মুহূর্তে আট লক্ষের কাছাকাছি। এখন পর্যন্ত চারটি বই প্রকাশিত হয়েছে তার। এর মধ্যে একটি বই যৌথভাবে লেখা। বাকি তিনটি এককভাবে নিজের লেখা। ২০১০ সালে দৃষ্টিনন্দিত প্রচ্ছদে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম বই ‘লিজি বিউটিফুল’। ২০১২ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় বই ‘বি বিউটিফুল, বি ইউ’। ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় তার তৃতীয় বই ডেয়ার টু বি কাইন্ড। এখানে তিনি আলোচনা করেছেন অসহিষ্ণুতাকে অবলম্বন করে সমাজ থেকে বুলিং কীভাবে মুছে ফেলা যায় সে বিষয়ে।

ডেইলি বাংলাদেশ/ জেএইচএফ