Alexa সেলিম আল দীনের ৭০তম জন্মজয়ন্তী পালিত

সেলিম আল দীনের ৭০তম জন্মজয়ন্তী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:১৪ ১৮ আগস্ট ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

প্রয়াত নাট্যাচার্য ড. সেলিম আল দীনের ৭০তম জন্মজয়ন্তী পালিত হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ থেকে একটি শোভাযাত্রা শুরু হয়ে সেলিম আল দীনের সমাধিস্থলে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সমাধিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নূরুল আলম শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের পর জহির রায়হান মিলনায়তনে উত্তর উপনিবেশবাদ, রাজনীতি ও প্রজন্মান্তরে নাট্যচর্চা: ‘এক ধবল রক্তিমাভ নাট্যকথামালা’র বহু অক্ষীয় পাঠ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের আয়োজনে সেলিম আল দীন স্মরণে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. আফসার আহমদ। সেমিনার শেষে ‘মানুষের নাটক, নাটকের মানুষ’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয় ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি, ছাত্র-শিক্ষক, দেশের খ্যাতিমান নাট্যকর্মী, সংগঠক, নির্দেশক, সেলিম আল দীনের গুণগ্রাহীসহ অনেকে। 

ফেনী জেলার সোনাগাজীর সেনেরখিল গ্রামে ১৯৪৯ সালের ১৮ই আগস্ট সেলিম আল দীন জন্মগ্রহণ করেন। ঔপনিবেশিক সাহিত্য ধারার বিপরীতে দাঁড়িয়ে বাংলা নাটককে আবহমান বাংলার গতিধারায় ফিরিয়ে এনেছিলেন নাট্যাচার্য  সেলিম আল দীন। বাংলা নাটকে বিষয়, আঙ্গিক আর ভাষা নিয়ে গবেষণা ও নাটকে তার প্রতিফলন তুলে ধরেন তিনি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলা নাটকের যে আন্দোলন, এর পেছনেও রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। 

ফিরোজা খাতুন ও মফিজউদ্দিন আহমেদ দম্পতির তৃতীয় সন্তান তিনি। ফেনীতে জন্ম হলেও বাবার চাকরির সূত্রে ফেনী, চট্টগ্রাম, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও রংপুরের বিভিন্ন স্থানে তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। ১৯৯৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে নাটক নিয়ে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন সেলিম আল দীন। ওই বিভাগ থেকেই তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো নাটক বিষয়ক পত্রিকা ‘থিয়েটার স্টাডিজ’। নাট্য চর্চার জন্য ঢাকা থিয়েটার প্রতিষ্ঠাতেও ভূমিকা ছিল তার। পরে সারাদেশে নাট্য আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে ১৯৮১-৮২ সালে আরেক নাট্যযোদ্ধা নাসিরউদ্দীন ইউসুফের সঙ্গে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার। নাটক রচনার পাশাপাশি নাটক নিয়ে তিনি গবেষণা চালিয়ে গেছেন আজীবন। বাংলা ভাষার একমাত্র নাট্যবিষয়ক কোষগ্রন্থ ‘বাংলা নাট্যকোষ’ সংগ্রহ, সংকলন, প্রণয়ন ও সম্পাদনা করেছেন তিনি নিজেই। 

তার রচিত ‘হরগজ’ নাটকটি সুয়েডীয় ভাষায় অনূদিত হয় এবং এ নাটকটি ভারতের রঙ্গকর্মী নাট্যদল হিন্দি ভাষায় মঞ্চায়ন করেছে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনাচরণ কেন্দ্রিক এথনিক থিয়েটারেরও উদ্ভাবনকারী তিনিই। সেলিম আল দীনের লেখা নাটকের মধ্যে ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’, ‘মুনতাসির ফ্যান্টাসি’, ‘শকুন্তলা’, ‘কীত্তনখোলা’, ‘কেরামতমঙ্গল’, ‘যৈবতী কন্যার মন’, ‘চাকা’, ‘হরগজ’, ‘প্রাচ্য’, ‘হাতহদাই’, ‘নিমজ্জন’, ‘ধাবমান’, ‘পুত্র’, ‘বনপাংশুল’ উল্লেখযোগ্য। ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে তার গবেষণাধর্মী নির্দেশনা ‘মহুয়া’ ও ‘দেওয়ানা মদিনা’। তার রচিত ‘চাকা’ ও ‘কীত্তনখোলা’ অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। 

একুশে পদক, বাংলা একাডেমি ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ড. সেলিম আল দীন ২০০৮ সালের ১৪ই জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্রিয় মসজিদের কাছে তাকে সমাহিত করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ