Alexa সেরা স্কুলটির নাজুক অবস্থা!

সেরা স্কুলটির নাজুক অবস্থা!

নাজমুল হাসান নাহিদ, গুরুদাসপুর (নাটোর) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:১১ ১৮ নভেম্বর ২০১৯  

গুরুদাসপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

গুরুদাসপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

মরিচা ধরা টিনশেডের তিনটি ঘর। প্লাইউডের বোর্ড দিয়ে বিভক্ত করা। এরমধ্যেই চলে পাঠদান। এমনই নাজুক অবস্থায়ই চলছে নাটোরের গুরুদাসপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

স্থানীয়দের সহযোগীতায় ১৯৬৩ সালে গুরুদাসপুর থানা সদরে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন থানা শিক্ষা কর্মকর্তা খগেন্দ্র নাথ বর্মন। প্রতিষ্ঠার পর ১৯৮৬ সালে প্রথম একটি টিনশেডের ঘর নির্মিত হয়। আশপাশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ায় তখন থেকেই শিক্ষার্থী সংখ্যা উল্লেখ করার মতো।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীর চাপ। সেই কথা বিবেচনা করে ২০০০ সালের পর একটি একতলা এবং একটি দোতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। ভালো ফলাফল এবং মডেল বিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। যে ভবন আছে তাতে জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। ফলে পুরোনো টিনশেড চালাঘরেই ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রানুযায়ী বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫৭০। দশটি শাখায় তাদের পাঠদান করতে হয়। মডেল এই বিদ্যালয়ে ফলাফলে জেলা এবং উপজেলা সেরা হয়েছে বহুবার। তাছাড়া প্রতি বছরই বিদ্যালয়টি শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করে। অথচ বিদ্যালয়টিতে অবকাঠামগত সুবিধা দেয়া হয় না। 

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী অনিক ও সজিব জানায়, টিনের চালা ভেদ করে রোদ পরে, আবার বৃষ্টি আসলে পানি পড়ে। তাছাড়া অনেক ছাত্র-ছাত্রী হওয়ায় ঠাসাঠাসি করে বসতে হয়। এভাবে ক্লাস করাও প্রায় অসম্ভব।

সহকারী শিক্ষক আফরোজা সুলতানা ও ইসরাত জাহান জানায়, শুধু ভালো ফলাফলেই নয় সংস্কৃতিতেও সেরা। অথচ বিদ্যালয়টিতে অবকাঠামোগত সুবিধা নেই। এই দৈনতার ফলে একসঙ্গে অনেক শিশু নিয়ে পাঠদান করতে হয়। এটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল জব্বার মণ্ডল ও প্রধান শিক্ষক গোলাম মর্তুজা আলী জানান, তাদের এই বিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ালে ফলাফলে আরো ভালো করবে।

প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম রফিকুল ইসলাম বলেন, অবকাঠমোগত অসুবিধা বিবেচনা করে এরইমধ্যেই দ্বিতল ভবনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস