সেদিন ঠিক কী ঘটেছিলো, জানালেন সিফাত

সেদিন ঠিক কী ঘটেছিলো, জানালেন সিফাত

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:০০ ১২ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৮:০৫ ১২ আগস্ট ২০২০

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান ও সাহেদুল ইসলাম সিফাত

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান ও সাহেদুল ইসলাম সিফাত

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের সেই মুহূর্তের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন সে সময় পাশে থাকা তার তথ্যচিত্রের কাজের সহকর্মী সাহেদুল ইসলাম সিফাত। ওই ঘটনার পরই পুলিশ হেফাজতে নিয়ে সিফাতকে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের সেই ভিডিওতে বোঝা যায় কী ঘটেছিলো সেদিন।

বুধবার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির নিউজের এক প্রতিবেদনে সিফাতের ওই জিজ্ঞাসাবাদের বর্ণনা তুলে ধরা হয়। ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য পুরো প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো।

তথ্যচিত্রের জন্য ছবি ধারণ করতে ওইদিন বিকেলে পাহাড়ে ওঠেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা, সঙ্গী ছিলেন সিফাত। আটক হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদেও বলেছিলেন, পাহাড়ে সিনহার সঙ্গে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ছিলো না।

সিনহার সহকর্মী সাহেদুল ইসলাম সিফাত বলেন, ‘না কোনো অস্ত্র ছিলো না। আমাদের হাতে ট্রাইপড ছিলো ওইটাকে উনারা ভুল বুঝতে পারেন। কিন্তু পাহাড় থেকে নামার সময় কোনো অস্ত্র ছিলো না। আমি হাত তোলা দেখে পেছনে চলে এসেছি। আমাদের আগেই গাড়ি থেকে নামতে বলেছিলো।’

শামলাপুর চেকপোস্টে পরিচয় জানার পর গাড়ির সামনে ড্রাম ফেলে আটকে দেয়া হয় তাদের। সিফাত আরো বলেন, ‘আমরা প্রথম যখন পৌঁছেছি আমাদের বলা হলো আপনাদের সম্বন্ধে জানান। আমরা গাড়ির গ্লাস ওঠানোর সময় উনি (পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী) আসলেন। এসে উনি বললেন, দাঁড়ান আবার বলেন। তারপর উনি দৌড়ে গিয়ে ড্রামটা সামনে দিয়ে দিলেন। উনাদের গায়ে পুলিশের ইউনিফর্ম ছিলো না। তারা ৪-৫ জন ছিলো।’

তারপরই গাড়ি থেকে বের হতে বলে পুলিশ। সাহেদুল ইসলাম সিফাত জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে চিৎকার ছিলো যে, বের হ গাড়ি থেকে। আমি যখন গাড়ি থেকে নেমে পেছনে হাঁটা শুরু করি উনিও গাড়ি থেকে নামেন। তারপর বলেন কাম ডাউন, কাম ডাউন। এরপর আমি গুলির শব্দ শুনি। তারপর আমি দেখলাম সিনহা স্যার মাটিতে পড়া। তখন আমি ভেবেছিলাম শরীরে লাগেনি, হয়তো ফাঁকা আওয়াজ করেছেন, উনি হয়তো মাটিতে শুয়ে পড়েছেন। তারপর দেখলাম উনার শরীর থেকে রক্ত বের হচ্ছে।

প্রশ্নকর্তারা জানতে চেয়েছিলেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার অবস্থান এবং অস্ত্র কোথায় ছিলো? এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী সিফাত জানান, সিনহা স্যার যখন গাড়ি থেকে নামেন আমি দেখেছি উনি পিস্তলটা গাড়িতে রেখে নেমেছেন। আমি দেখেছি উনি দু’হাত তুলে গাড়ি থেকে নেমেছেন। আমিতো পেছনে ছিলাম তাই আমি শুধু দেখেছি উনি নিচু হয়ে ছিলেন। তাই উনার পদক্ষেপটা আমি দেখতে পাইনি।

সিফাত জানান, গুলি করার সময় আশেপাশে তেমন কোনো লোকজন ছিলো না। দূরে হয়তো ছিলো তবে প্রথমদিকে কোনো ভিড় হয়নি। প্রথমে পেছনে একটা বা দুইটা গাড়ি ছিলো। পরে ক্রাউড হয়েছিলো।

এই সিফাত এখন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/এইচএন