সেখানে দাঁড়িয়ে অঝোরে কেঁদেছিলাম : রিয়াজ
Best Electronics

সেখানে দাঁড়িয়ে অঝোরে কেঁদেছিলাম : রিয়াজ

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:০০ ১৪ মে ২০১৯  

রিয়াজ আহমেদ ছবি: সংগৃহীত

রিয়াজ আহমেদ ছবি: সংগৃহীত

দুই পা হারায়ছি তো কি হয়ছে আপনি আমাকে একটা অটোগ্রাফ দেন। এ কথা শোনার পর আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। সেখানে দাঁড়িয়ে অঝোরে কেঁদেছিলাম। আমরা বাঙালিরা অনেক সহজ-সরল। আমাদের এই সরলতার সুযোগ নিয়ে ধর্মের মিথ্যা ভয় ও বেহেশতের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের জঙ্গিবাদের দিকে নিতে যাচ্ছে একটি মহল। 

২০০২ সালে ময়মনসিংহে একসঙ্গে ৪টি হলে বোমা হামলার ঘটনা তুলে ধরে ‘জাগো তারুণ্য রুখো জঙ্গিবাদ’ শিরোনামে সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের নিয়মিত জঙ্গিবাদবিরোধী সেমিনারে এসব কথা বলেন সাবেক ঢালিউড সুপারস্টার রিয়াজ।

তিনি বলেন, ৪টির মধ্যে ২টি হলে আমার সিনেমা চলছিল। ২৭ জন মারা যায় ওই ঘটনায়। আহতদের দেখতে গিয়েছিলাম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আমি কোনোদিন ভুলব না, সবুর নামে একজন ব্যক্তি বোমা বিস্ফোরণে যিনি দুই পা হারিয়েছেন তার পাশে দাঁড়ানোর পর সে বলল, অটোগ্রাফ দেন।

ইসলামে বলা হয়েছে, সেই প্রকৃত মুসলমান যার কাছে অন্য ধর্মের মানুষের জান, মাল নিরাপদ থাকে। পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে রিয়াজ আহমেদ বলেন, শিশু, কিশোর, তরুণ ও বৃদ্ধ এই ধাপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে তারুণ্য। তারুণ্যের আলোয় আলোকিত হয় সমাজ ও রাষ্ট্র। কিন্তু কিছু বিপদগামী, স্বার্থান্বেষী মানুষের প্ররোচণায় এই তারুণ্য হারিয়ে যাচ্ছে জঙ্গিবাদের অন্ধকারে। তাই সঠিক পথে থাকতে হবে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১৭ আগস্ট ২০০৫ এ ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা, ১৮ জুলাই ২০১৬ তে হলি আর্টিজান হামলা। এই হামলাগুলো কারা করছে? তরুণদেরই ব্যবহার করা হচ্ছে এসব হামলায়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বাণী বিকৃত করে পবিত্র কোরআনের ভুল তর্জমা করে জঙ্গিবাদের দিকে ঠেলে দিয়ে এইসব নৃশংস হামলা করা হচ্ছে।

কোরআনের সূরা আল মায়িদায় বলা হয়েছে, ‘একজন নিরীহ মানুষকে হত্যা করা আর সমস্ত মানবজাতি হত্যা করা এক’। তাই ভুল পথ থেকে সরে আসতে হবে তরুণদের। পাশাপাশি সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আলেম সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে কোরআন হাসিদের সঠিক ব্যাখ্যা ও তর্জমা নিয়ে। তাহলেই এই সমস্যার সমাধান হবে। ইতোমধ্যেই সরকার প্রধানের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কারণে বাংলাদেশ জঙ্গিমুক্ত হয়েছে। তবে শকুনের দল বসে নেই তাই আমাদেরও সচেতন থাকতে হবে।

সম্প্রতি এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল কল্যাণপুর গার্লস কলেজে। শুরুতে শিক্ষার্থীদের মাঝে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন এবং এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে আজ সারাবেলা সম্পাদক জব্বার হোসেন বলেন, ধর্ম প্রত্যেকের ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং অধিকার। সেই বিশ্বাস ও অনুভূতির জায়গাটিতে তারা আঘাত করছে ক্ষমতা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের লোভে। যার সঙ্গে ধর্মের আদৌ কোনো সম্পর্ক নেই। জঙ্গিবাদের ফলে ইসলামকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। তারা যে ইসলামের কত বড় শত্রু তা আমাদের বোঝা দরকার।

অনুষ্ঠানে কল্যাণপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল শাহনাজ বেগম বলেন, বাংলাদেশ ইসলামিক দেশ। আমরা কি চাইবো জঙ্গিবাদের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পরিচিত হোক? অবশ্যই না। আমরা চাই অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ। ধর্ম নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণ একটি দেশ চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএস

Best Electronics