Alexa সেই মার্কিন দম্পতিই মাটির হাসপাতালের প্রাণ

সেই মার্কিন দম্পতিই মাটির হাসপাতালের প্রাণ

মো. আবু কাওছার আহমেদ, টাঙ্গাইল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১২ ১০ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৬:১৩ ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

মার্কিন চিকিৎসক দম্পতি জেসন ও মারিন্ডি

মার্কিন চিকিৎসক দম্পতি জেসন ও মারিন্ডি

টাঙ্গাইলের মধুপুরের মাটির হাসপাতালে গরিব রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন চিকিৎসক দম্পতি জেসন ও মারিন্ডি।

মধুপুরের পাহাড়ি এলাকা কালিয়াকুড়িতে ৩৬ বছর গরিবদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন মার্কিন চিকিৎসক এড্রিক বেকার। তার দেখানো পথেই এগিয়ে যাচ্ছেন জেসন-মারিন্ডি দম্পতি।

কালিয়াকুড়ি গ্রামে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘কাইলাকুড়ী স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র’ গড়ে তুলেছিলেন ডা. এড্রিক বেকার। সেখানে তাকে সবাই ভালোবেসে ‘ডাক্তার ভাই’ নামে ডাকতো। ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর এখানেই মারা যান ডা. এড্রিক বেকার। তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশি কোনো চিকিৎসক তার মাটির হাসপাতালের হাল ধরবেন। কিন্তু দেশের কেউ সাড়া দেয়নি। সাড়া দিয়েছেন দুই মার্কিনি ডা. জেসন ও ডা. মারিন্ডি। শুধু নিজেরাই না, চার সন্তানকেও নিয়ে এসেছেন সঙ্গে করে। ভর্তি করিয়েছেন গ্রামের স্কুলে।

গ্রামের দশজনের মতো লুঙ্গি পরে ঘুরে বেড়ানো ডা. জেসন হয়ে উঠেছেন নতুন ‘ডাক্তার ভাই’। আর ডা. মেরিন্ডির পরিচিতি ‘ডাক্তার দিদি’ নামে। তারা এ হাসপাতালে ফিরিয়ে এনেছেন প্রাণচাঞ্চল্য। টাঙ্গাইল ছাড়াও ময়মনসিংহ-জামালপুর অসংখ্য রোগী আসেন মধুপুরের মাটির হাসপাতালে।

ডা. জেসন জানান, ১৯৯৯ সালে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় বাংলাদেশে এসেছিলেন তিনি। তখনই পরিচয় হয় মাটির হাসপাতালের প্রতিষ্ঠতা এড্রিক বেকারের সঙ্গে। ২০০৫ সালে স্ত্রী ডা. মারিন্ডিকে নিয়ে মধুপুরের কালিয়াকুড়িতে বেড়াতে আসেন। তখনই এখানকার সবকিছু ভাল লেগে যায় তাদের। তাই ২০১৫ সালে কলোরাডো থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে ফিরে আসেন তারা। নেমে পড়েন মাটির হাসপাতালে গরিবদের সেবায়। ২০১৮ সালে তারা বাংলা ভাষা শেখেন। সন্তানদের এখানকার স্কুলে ভর্তি করান।

হাসপাতালের ডা. নুরুন নাহার সুমি বলেন, আমি গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের ডাক্তার। আমাদের হাসপাতাল থেকে দুই মাস পরপর এখানে চিকিৎসক পাঠানো হয়। আমি চার মাস ধরে কাজ করছি। নতুন ডাক্তার দম্পতির সঙ্গে কাজ করতে ভালো লাগে। তাদের অভিজ্ঞতা এবং আমাদের অভিজ্ঞতা আলাদা।

মাটির হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক পিজন নংমিন জানান, এটা গরিব মানুষের হাসপাতাল। এখানে প্রতিদিন শতাধিক রোগী সেবা নিতে আসেন। তাদের জন্য মাটির তোইরি ২৩টি ঘর রয়েছে। বিভিন্ন সংকটের কারণে এখানে কঠিন রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব হয় না। তাই তাদের ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হয়। ডাক্তার ভাই এড্রিক বেকারের মৃত্যুবার্ষিকীতে এখানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, রোগীদের জন্য উন্নত খাবার পরিবেশন করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর