Alexa সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ কি গর্ভবতী নারীদের ওপর প্রভাব ফেলে?

সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ কি গর্ভবতী নারীদের ওপর প্রভাব ফেলে?

মাওলানা ওমর ফারুক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২২ ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৭:০০ ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ নিয়ে আমাদের সমাজে নানা কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। এর অন্যতম হচ্ছে সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীদের ঘর থেকে বের হতে দেয়া হয় না। 

যুগ যুগ ধরে এ কুপ্রথা চলে আসছে। বিষয়টিকে ইসলাম কীভাবে দেখে? এর আগে জেনে নেয়া যাক সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কী?

সূর্যগ্রহণ : চাঁদ যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোনো দর্শকের কাছে সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায় (কিছু সময়ের জন্য)। এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলা হয়। আমাবশ্যার পরে নতুন চাঁদ উঠার সময় এ ঘটনা বেশি ঘটে। পৃথিবীতে প্রতি বছর অন্তত দুই থেকে পাচঁটি সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে শূন্য থেকে দুইটি সূর্যগ্রহণ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়। আরবিতে এর নাম কুসুফ। ইংরেজিতে একে Solar eclipse বলে।

চন্দ্রগ্রহণ : পৃথিবী তার পরিভ্রমণ অবস্থায় চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে এলে কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করতে থাকে। তখন পৃথিবী পৃষ্ঠের মানুষ/প্রাণীদের থেকে চাঁদ কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। এটাকে চন্দ্রগ্রহণ বলে। আরবিতে খুসুফ এবং ইংরেজিতে  Lunar eclipse বলে।

কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী সূর্য ও চন্দ্রগ্রহনের কোনো প্রভাব গর্ভবতী মা, বা তার গর্ভস্থ ভ্রুনের ওপর পড়ে না। গর্ভবতী মা কোনো কিছু কাটলে, ছিঁড়লে বাচ্চা ঠোঁট কাটা জন্মাবে, কোনো কিছু ভাঙলে, বাঁকা করলে সন্তান বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেবে – এধরনের যত কথা প্রচলিত আছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা, যার সঙ্গে কোরআন ও সুন্নাহর কোনো সম্পর্ক নেই।

চন্দ্র, সূর্য বা অন্য কোনো সৃষ্ট বস্তু অদৃশ্য ভাবে কারো উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে এধরনের বিশ্বাস রাখা তাওহীদের পরিপন্থী। যে আল্লাহ তায়ালা ও শেষ দিবসে বিশ্বাস রাখে তার মনে রাখা উচিত যে, আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শনের মধ্যে চন্দ্র, সূর্যের গ্রহণও একেকটি নিদর্শন। কেউ যদি চন্দ্র বা সূর্য গ্রহন দেখে, তার উচিত হবে রাসূল (সা.) এর সুন্নাহ অনুযায়ী কাজ করা ও বেশি বেশি করে সে সময় আল্লাহকে স্মরণ করা।

বস্তুত সূর্য গ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীদের বা কারো জন্যই জাগতিক কোনো কাজ করা বা না করা নিয়ে কোনোরকম বিধি-নিষেধ নেই। এ ব্যাপারে যা প্রচলিত আছে, তা কেবলই কুসংস্কার ও ভ্রান্ত বিশ্বাস। সে ধরনের কোনো নিয়ম মানলে বা বিশ্বাস করলে মারাত্মক গুনাহ হবে। বরং সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণকে মহান আল্লাহর কুদরতী নিদর্শন বলে বিশ্বাস করতে হাদিসে বলা হয়েছে এবং তখন পুরুষগণকে মসজিদে জামাতের সঙ্গে সালাতুল কুসূফ (সূর্যগ্রহণের ক্ষেত্রে) ও সালাতুল খুসূফ (চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে) নামাজ পড়ার জন্য বলা হয়েছে। 

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘চন্দ্র এবং সূর্য এ দু’টি আল্লাহর নিদর্শনের অন্যতম। কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে এদের গ্রহন হয় না। তাই তোমরা যখন প্রথম গ্রহণ দেখতে পাও, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর।’ (সহিহ বুখারী ৪৮১৮; ইফা)।

অন্য বর্ণনায় রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণ কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে লাগে না বরং এদু’টি আল্লাহর নিদর্শন, যা দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সতর্ক করেন। অতএব, তোমরা যখন গ্রহণ লাগতে দেখ, আল্লাহর জিকিরে মশগুল হও যতক্ষণ তা আলোকিত না হয়ে যায়।’ (সহিহ মুসলিম ১৯৭২; ইফা)। আমাদের উচিত যা কিছু কোরআন ও রাসূল (সা.) এর সহিহ হাদিসে রয়েছে সে সম্পর্কে জানা ও সে অনুযায়ী আমল করা।

আল্লাহ যেন আমাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন এবং আমাদেরকে রাসূল (সা) এর দেয়া শিক্ষাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকতে সাহায্য করেন। আমীন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে