Alexa সূর্যগ্রহণকালে ‘কুসুফ’ নামাজ যেভাবে পড়বেন

সূর্যগ্রহণকালে ‘কুসুফ’ নামাজ যেভাবে পড়বেন

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৮:০৭ ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৯:৪৩ ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৬ ডিসেম্বর (বৃহষ্পতিবার) বলয়গ্রাস (আগুনের বলয়) সূর্য গ্রহণ হবে। এ সময় সূর্যের চারপাশে থাকবে আগুনের বলয়। বিজ্ঞানীরা যাকে বলেন ‘রিং অব ফায়ার’।

২৬ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুর্লভ সূক্ষ্ম সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে দেশের মসজিদেগুলোতে নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৭ টা ৪০ মিনিটে শেখ জায়েদ গ্রান্ড মসজিদ এবং অন্যান্য প্রধান মসজিদে ‘কুসুফ’ নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এন্ডুলার বিরল সূর্য গ্রহণটি সর্বশেষে ১৮৪৭ সালে হয়েছিল। যা শেষবার মানুষ দেখেছিল ১৭২ বছর আগে।

ইসলামী গবেষক ড. শেখ মোহাম্মদ আশমাউয়ের মতে, হযরত মুহাম্মদ (সঃ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ ঘটে তখন কুসুফের নামাজ পড়তেন।  

নবীজির সময়, যখন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, তখন তিনি উদ্বিগ্নভাবে মসজিদে ছুটে যেতেন এবং তাঁর চাদরটি তার পেছনে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং লোকদের নামাযে নিয়ে যেতেন। 

এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাসিন্দারা সংযুক্ত আরব আমিরাত স্পেস এজেন্সি কর্তৃক বেশ কয়েকটি সরাসরি পর্যবেক্ষকের জন্য বিনামূল্যে দেখার জন্য বিভিন্ন স্থানে এই বিরল সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।

চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের সময় মুসলমানরা যা করবেন-

রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্য থেকে দুইটি নিদর্শন। এ দুইটির মাধ্যমে আল্লাহ্‌ বান্দাদের মাঝে ভীতির সঞ্চার করেন। কোনো মানুষের মৃত্যুর কারণে এ দুটোর গ্রহণ ঘটে না। কাজেই যখন গ্রহণ দেখবে, তখন তোমরা এ পরিস্থিতি মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করবে এবং দোয়া করতে থাকবে।

‘একবার সূর্যগ্রহণ হল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন; তিনি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন। এরপর তিনি মসজিদে আসেন। এর আগে তাঁকে যেমন করতে দেখেছিল, তার চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কিয়াম, রুকু ও সিজদা সহকারে নামায আদায় করলেন।’ 

আর তিনি বললেন, ‘এগুলো হল আল্লাহ্‌ কর্তৃক প্রেরিত নিদর্শন; এগুলো কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে ঘটে না। বরং আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা তার বান্দাদের মাঝে ভীতির সঞ্চার করেন। কাজেই যখন তোমরা এর কিছু দেখতে পাবে, তখন ভীত বিহ্বল অবস্থায় আল্লাহর যিকির, দু’আ ও ইস্তিগফারে মগ্ন হবে।’

সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের নামাজের পদ্ধতি হল: তাকবিরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবার) বলবে। সানা পড়বে। এরপর আউযুবিল্লাহ পড়ে সূরা ফাতিহা পড়বে। তারপর দীর্ঘ তেলাওয়াত করবে। এরপর দীর্ঘক্ষণ রুকু করবে। এরপর রুকু থেকে উঠে ‘সামি আল্লাহু লিমান হামিদা, রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’বলবে। এরপর সূরা ফাতিহা পড়বে এবং দীর্ঘ তেলাওয়াত করবে; তবে পরিমাণে প্রথম রাকাতের তেলাওয়াতের চেয়ে কম। এরপর দ্বিতীয়বার রুকু করবে এবং দীর্ঘক্ষণ রুকুতে থাকবে; তবে প্রথম রুকুর চেয়ে কম সময়।

এরপর রুকু থেকে উঠে ‘সামি আল্লাহু লিমান হামিদা, রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ বলে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে। এরপর দীর্ঘ দীর্ঘ দুইটি সেজদা করবে এবং দুই সেজদার মাঝখানেও দীর্ঘসময় বসে থাকবে।

এরপর দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবে এবং প্রথম রাকাতের মত দুই রুকুসহ ইত্যাদি করবে। কিন্তু, সবকিছুর দীর্ঘতা প্রথম রাকাতের চেয়ে কম হবে। এরপর তাশাহুদ পড়ে সালাম ফিরাতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে